মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

একাধিক পদ এখনো তাদের দখলে


NEWSWORLDBD.COM - September 22, 2016

listবিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে গৃহীত সিদ্ধান্ত ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি কার্যকর করতে পারছে না দলটি। এ কারণে দলের মধ্যে বিরাজ করছে অস্থিরতা।

কাউন্সিলের ছয়মাস এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দেড় মাস পার হয়ে গেলেও এখনও বেশিরভাগ নেতাই নানা অজুহাতে একাধিক পদ ছাড়তে রাজি হচ্ছেন না। বারবার কেন্দ্র থেকে তাগাদা দেয়ার পরও একাধিক পদ আঁকড়ে ধরে আছেন তারা। যদিও ইতোমধ্যে কেউ কেউ একাধিক পদ ছেড়ে দিয়েছেন।

পদ আঁকড়ে থাকা নেতারা বলছেন, ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি কার্যকরের সিদ্ধান্ত হলেও যারা এখনও একাধিক পদে আছেন তারা তা ছেড়ে দিলে দল দুর্বল হয়ে যাবে। তাই আরেকটু গুছিয়ে নিতে চান তারা।

আবার কেউ কেউ বলছেন, তৃণমূলের পদ ছেড়ে দিলে সরকারের রোষানলের সামনে দল টিকতে পারবে না। নেতাকর্মীরা নির্যাতন- নিপীড়নের শিকার হবে। তাই কেন্দ্রকে বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখারও পরামর্শ দেন তারা।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতাদের বারবার তাগাদা দেয়ার পরও দুই বা ততোধিক পদ আঁকড়ে থাকা নেতাদের ওপর এবার কেন্দ্র থেকেই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ বিষয়ে কাজ করতে কয়েকজন নেতাকে বিশেষ দায়িত্বও দিয়েছেন তিনি।

দলের নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল ঠেকাতে গত ১৯ মার্চের কাউন্সিলে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি গ্রহণ করা হয় সর্বসম্মতভাবে। যদিও তখন কোনো নেতা এর বিরোধিতা করেননি। বিএনপির আশা ছিল, এভাবে দলের অনেক বেশি নেতাকে পদ দেয়া সম্ভব হবে। এতে করে বঞ্চনাবোধ কমে আসবে। ফলে দল আরও সংগঠিত হওয়ার পাশাপাশি আন্দোলন বা অন্য কর্মসূচিতে একাট্টা হয়ে নামবেন সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

একাধিক পদে আছেন যারা:
দলে এখনও গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদে আছেন এমন নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েকজন ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক কমিটিতে আছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আ স ম হান্নান শাহ, রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এখনও ছাড়েননি ঢাকা মহানগরের পদ। যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এখনও ছাড়েননি মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ও স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতির পদ। অবশ্য গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে একাধিক পদে রয়েছেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যিনি দলের পটুয়াখালীর জেলা কমিটির সভাপতি। শামসুজ্জামান দুদু কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির পদ এবং মাজিদুল ইসলাম খুলনা জেলা সভাপতি পদে রয়েছেন।

নতুন কমিটির উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতির পদে, মসিউর রহমান  ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি, মেহেদী আহমেদ রুমী কুষ্টিয়া জেলার সভাপতি, আবুল খায়ের ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি, তৈমুর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি, এ কে এম মোশাররফ হোসেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা সভাপতির পদেও রয়েছেন।

ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন গাজীপুর জেলার সভাপতি, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার বরিশাল মহানগরের সভাপতি, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী জেলা সভাপতি।

রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাট জেলা সভাপতি,  রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোর জেলা বিএনপি সভাপতি, খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি।

এ ছাড়া বিএনপির বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক স্থানীয় বিভিন্ন পদে রয়েছেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে থাকা নেতাদের মধ্যে বিশেষ সম্পাদক নাদিম মোস্তফা রাজশাহী জেলা সভাপতি,  আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন অসীম ঢাকা মহানগর বিএনপির পদ, জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া ফরিদপুর জেলার সভাপতি, সহ-পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মোজাহার আলী প্রধান জয়পুরহাট জেলার সভাপতি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম বগুড়া জেলার সভাপতি, এম নাছের রহমান মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি, জি কে গউছ হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক। আনোয়ার হোসাইন শ্রমিক দলের সভাপতি, শফিকুর রহমান কিরণ শরীয়তপুর জেলার সভাপতি, কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক, সৈয়দ মোদারেছ আলী ইসা ফরিদপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক, ওয়ারেছ আলী মামুন জামালপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক,  হুমায়ুন কবির খান তাঁতীদলের সভাপতি, রফিকুল ইসলাম মাহতাব মৎস্যজীবী দলের সভাপতি, মীর সরফত আলী সপু স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক, মনির খান জাসাস সাধারণ সম্পাদক, শফিউল বারী বাবু স্বেচ্ছাসেবকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, গাজী নুরুজ্জামান বাবুল পিরোজপুর জেলা সভাপতি, আলমগীর হোসেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ বরিশাল উত্তর জেলা সভাপতি ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বরিশাল উত্তর জেলা সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।

একাধিক পদ ছেড়েছেন যারা:
মহাসচিবের পদ রেখে বাকি পদ ছেড়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে ঝালকাঠি জেলা সভাপতির পদ ছেড়েছেন শাহজাহান ওমর, নোয়াখালী জেলা সভাপতির পদ ছেড়েছেন মো. শাহজাহান, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি আহমদ আজম খান, ঢাকা মহানগরের পদ ছেড়েছেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির পদ ছেড়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

উপদেষ্টাদের মধ্যে ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়েছেন আমান উল্লাহ আমান, জয়নাল আবদিন ফারুক ছেড়েছেন সেনবাগ উপজেলা বিএনপির পদ, যুবদলের সভাপতির পদ ছেড়েছেন যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,বরিশাল মহানগর মহিলা দলের সভাপতির পদ ছেড়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, মৎস্যজীবী দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ছেড়েছেন কুমিল্লা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান।

এ ছাড়া মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদকের পদ রেখে কেন্দ্রীয় স্বনির্ভর সম্পাদকের পদ ছেড়েছেন শিরিন সুলতানা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও কেন্দ্রীয় সহ-মানবাধিকার সম্পাদকের পদ ছেড়েছেন আসিফা আশরাফী পাপিয়া।

আফরোজা খান রিতা মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি পদ রেখে উপদেষ্টা থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে চিঠি দিয়েছেন।

বারবার তাগাদা দেয়ার পরও নেতাদের মধ্যে একাধিক পদ না ছাড়ায় এবার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে খালেদা জিয়া কঠোর হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দায়িত্বপ্রাপ্তদের সে অনুযায়ী নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

তবে খালেদা জিয়া হজ থেকে এসেই এই ‘এক নেতার এক পদ’ বাস্তবায়ন করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে ‘এক নেতার এক পদ’ কার্যকর করতে সম্প্রতি কেন্দ্র থেকে তৎপরতা শুরু করে বিএনপি। শুরুতে গত ১৫ আগস্ট দলের যৌথ সভায় বিএনপির মহাসচিব একাধিক পদ আছে এমন নেতাদের পছন্দের পদ রেখে বাকিটা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানান। অন্যথায় দলের পক্ষ থেকে চিহ্নিত করা ৪৮ নেতার কাছে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়, যারা কেন্দ্রের নির্বাহী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন।

তৃণমূল পুনর্গঠনের কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলে যারা একাধিক পদে আছেন আমরা কেন্দ্র থেকে তাদেরকে বারবার মোবাইল করে বলছি তারা যেন নিজের পছন্দের পদ রেখে বাকি পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা কার্যকর করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.