বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সেই কুলাঙ্গার পুত্রের দেয়া আগুনে মারাই গেলেন বাবা

সেই কুলাঙ্গার পুত্রের দেয়া আগুনে মারাই গেলেন বাবাবড় করুণ আর নিষ্ঠুর এক মৃত্যু। ছেলের দেয়া আগুনে প্রাণ গেলো বাবার। বখে যাওয়া ছেলের বায়না পূরণ না হওয়ায় বাবার গায়ে ধরিয়ে দিয়েছিল আগুন। সেই আগুনে দগ্ধ এটিএম রফিকুল হুদা সাত দিন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন থেকে বুধবার মারা যান। নিহত রফিকুল সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদার ছোট ভাই।

রফিকুল হুদা পরিবার-পরিজন নিয়ে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকায় বসবাস করতেন। পেশায় ছিলেন ব্যবসায়ী।

এদিকে মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে একদিকে যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে অন্যদিকে চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন খোদ পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা।

এ ব্যাপারে কারো সঙ্গে কোনো ধরনের কথা বলতেও রাজি নন তারা।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স রফিকুল হুদার মরদেহ নিয়ে তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। ওই সময় মর্গের সামনে রফিকুল হুদার একজন স্বজন ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি। ওই স্বজন নিহতের ভাগিনা মনির আহসান।

তিনি বলেন, ভাই কি আর বলার আছে। একদিকে হারানোর শোক, অন্যদিকে অস্বস্তি। এদিকে ফরিদপুরে এ ঘটনাটি টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা না হলেও বখাটে কিশোর সন্তানের বিচার দাবি করেছে এলাকাবাসী।

গত ১৫ই সেপ্টেম্বর বিকালে সদ্য এসএসসি পাস ছেলে মুগ্ধ তার বাবা-মায়ের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দগ্ধ হন রফিকুল হুদা ও তার স্ত্রী। প্রথমে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রফিকুল হুদার অবস্থার অবনতি হলে পরদিন শুক্রবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এক সপ্তাহ পর বুধবার বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার শরীরের ৬০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল।

সূত্র জানায়, নতুন মডেলের মোটরসাইকেল না পেয়ে এ কাণ্ড ঘটায় মুগ্ধ। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘাতক পুত্র মুগ্ধ এ বছর ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। এরপর থেকেই সে তার বাবার কাছে নতুন মডেলের একটি  মোটরসাইকেল দাবি করে।

ঈদের দিন রাতে ১৩ই সেপ্টেম্বর মুগ্ধ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয় ‘পৃথিবীতে নিজে ভালো থাকতে হলে স্বার্থপর হতে হবে। আর অন্যকে ভালো রাখতে গেলে নিঃস্বার্থ হতে হবে এটাই সত্য।’

কয়েক মাস আগে আদরের সন্তান মুগ্ধকে ইয়ামাহা (আর১৫ ভি২) মডেলের একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন বাবা এটিএম রফিকুল হুদা ও মা সিলভিয়া হুদা দম্পতি। এই মোটরসাইকেলটির বর্তমান বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা। কয়েকদিন আগে পূর্বের মোটরসাইকেলটি বিক্রি করে নতুন করে ইয়ামাহা (কেটিএম) মডেলের একটি নতুন মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার দাবি জানায় পুত্র ফারদিন হুদা মুগ্ধ। পিতা রফিকুল হুদা মোটরসাইকেল কিনে দিতে অস্বীকার করলে ১৫ই সেপ্টেম্বর বিকালে পিতার সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ঘরের মধ্যে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় সে। এতে দগ্ধ হন বাবা এটিএম রফিকুল হুদা। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে সামান্য আহত হন মা সিলভিয়া হুদা।

এদিকে এ ঘটনা ফরিদপুরে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা দুর্গা রানী দাস বলেন, মুগ্ধ এ বছর ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়। শিক্ষকরা জানান, ক্লাসে কিছুটা অনিয়মিত মুগ্ধ অনেকটা আত্মকেন্দ্রিক ছিল। কারো সঙ্গে মিশতো না। এমনকি শিক্ষকদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিল না তার। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্কুলের শিক্ষার্থীরাও।

আরও পড়ুন