বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে মোদির বৈঠক

-downloadসন্দেহভাজন কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে দেখা যাওয়ার খবরে গতকাল বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন উপকূলবর্তী এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ভারতের পশ্চিম নৌ কমান্ড। শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান। কাশ্মীরের উরিতে সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যাপক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ঘটনা ঘটল।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উরি হামলার যোগ্য জবাব নিয়ে প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিন প্রধান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কূটনৈতিক স্তরে জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ভারত দৃশ্যত নিজেকে সব রকমভাবে প্রস্তুত রাখছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের গণমাধ্যমের খবর, সে দেশে যুদ্ধবিমানের মহড়া, যুদ্ধবিমান ওঠানামার উপযোগী একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করা আর উত্তরাঞ্চলের আকাশে উড্ডয়ন নিষিদ্ধের ঘটনা ভারতের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে গুঞ্জনের ডালপালা ছড়িয়েছে।

মুম্বাই থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে উপকূলবর্তী উড়ান অঞ্চলের একটি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা গতকাল সকালে কালো পোশাক পরা এবং মুখ ঢাকা কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখার কথা জানায়। এরপর নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করে। পাকিস্তান থেকে সমুদ্রপথে আসা সন্ত্রাসীরাই ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে ভয়ানক হামলা চালিয়েছিল।

ভারতীয় নৌবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্তী মুম্বাই, নবি মুম্বাই, থানে ও রায়গড় অঞ্চলে ব্যাপক তল্লাশি চালানো শুরু হয়। এই কাজে বাহিনীকে সাহায্য করতে হেলিকপ্টারও নামানো হয়েছে।

২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর থেকে সমুদ্রপথে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবারের সকালের খবর জানার পর নৌবাহিনী আরও সজাগ। উড়ানের যে স্থানে সন্দেহভাজনদের ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে খবর, সেখানে শুধু নৌবাহিনীর ঘাঁটিই যে রয়েছে তা নয়, উড়ানে জওহরলাল নেহরু বন্দরে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল। তা ছাড়া কাছেই রয়েছে ভাবা পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র। নৌবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, মহারাষ্ট্র পুলিশ ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

মহারাষ্ট্র পুলিশের মহাপরিচালক সতীশ মাথুর সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সকাল সাড়ে ছয়টা নাগাদ সন্দেহভাজনদের দুজন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা দেখে। তাদের বয়ান অনুযায়ী ওই দলে মোট পাঁচজন ছিল। তাদের পরনে ছিল সামরিক ও পাঠান পোশাক। হাতে ছিল অস্ত্র। মুখে কাপড় বাঁধা। কাঁধে ব্যাগ। তারা ভিনদেশি ভাষায় কথা বলছিল।

উরি হামলার প্রেক্ষাপটে ভারত তার পশ্চিম সীমান্তের সব ঘাঁটিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। বাতিল করা হয়েছে সব ধরনের ছুটি। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বেশ কিছু জায়গায় গ্রামবাসীকে জানানো হয়েছে, অল্প সময়ের নোটিশে তাঁদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে সাউথ ব্লকের ‘ওয়ার রুমে’ দুই ঘণ্টা সময় কাটিয়েছেন। সেখানে প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিন প্রধানেরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা। সামরিকভাবে পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব দিতে গেলে কোন কোন ঘাঁটির দিকে নজর দেওয়া দরকার, সেখানে প্রধানত এসব নিয়েই আলোচনা হয়। নিয়ন্ত্রণরেখার ওধারে কোন কোন স্থানে সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ শিবির রয়েছে, সামরিক অভিযান চালিয়ে কীভাবে সেসব ধ্বংস করা যায়, পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে তা দেখানো হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এই বৈঠক নিয়ে কোনো মন্তব্য অবশ্য করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার নাকি বুধবার—ঠিক কবে সেখানে গিয়েছিলেন, স্পষ্ট করে বলা হয়নি তা-ও। ওই মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র শুধু বলেছে, যুদ্ধকালীন ও গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে ওয়ার রুমে এমন ধরনের বৈঠক হয়েই থাকে।

সব রকমের পরিস্থিতির জন্য সতর্ক থাকলেও ভারত অবশ্য কূটনৈতিক স্তরে চাপ বাড়িয়ে পাকিস্তানকে একঘরে করে আরও কোণঠাসা করার যাবতীয় কৌশল নিয়েছে। সেই সঙ্গে চাইছে জাতিসংঘকে দিয়ে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ঘোষণা করিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করাতে। পাশাপাশি ভারতের শাসক দল এটাও বোঝাতে চাইছে, পাকিস্তানকে কোনো রকম রেয়াত তারা করতে চায় না। সে কারণেই বিজেপির রাষ্ট্রীয় মহাসচিব জম্মু-কাশ্মীরের দায়িত্বে থাকা রাম মাধব গতকাল বলেছেন, নওয়াজ শরিফ জাতিসংঘে যে ভাষণ দিয়েছেন, তা প্রধানমন্ত্রীসুলভ নয়। ভাষণ শুনে মনে হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নন, যেন হিজবুল মুজাহিদিনের সর্বোচ্চ নেতা কথা বলছেন। তিনি ভুলে গেছেন, যাঁদের তিনি প্রশংসা করছেন, তাঁরা স্বীকৃত সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতা।

যাবতীয় তৎপরতার মধ্যেই কেরালায় আজ শুক্রবার শুরু হচ্ছে বিজেপির জাতীয় পরিষদের দুদিনের সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রীসহ দলের সব নেতা সেই সম্মেলনে যোগ দেবেন। পাকিস্তান প্রসঙ্গে দল ও সরকার আগামী দিনে কোন কৌশল অবলম্বন করবে, তারও স্পষ্ট গতিপথ কেরালায় পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন