বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্ব ক্রিকেটের নজিরবিহীন উচ্চতায় সাকিব

বিশ্ব ক্রিকেটের অনন্য চূড়ায় সাকিববাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেকগুলো ‘প্রথম’ কীর্তি গড়েছেন সাকিব আল হাসান। এবার এমন এক উচ্চতায় উঠলেন, যার নজির বিশ্ব ক্রিকেটেই আর নেই। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি- তিন সংস্করণেই দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট এখন সাকিবের।

টেস্ট আর টি-টোয়েন্টিতে বেশ আগে থেকেই সাকিব বাংলাদেশের সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে। আফগানিস্তান সিরিজের প্রথম ম্যাচে উঠে গেলেন ওয়ানডের চূড়ায়ও। প্রথম ওয়ানডেতে ছুঁয়েছেন আব্দুর রাজ্জাকের রেকর্ড।

২০৭ উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন এতদিন রাজ্জাক একা। রোববার তৃতীয় বলেই আফগানিস্তানের সাবির নুরিকে এলবিডব্লিউ করে সাকিব ছুঁয়েছেন রাজ্জাককে।

টেস্টে সাকিবের শিকার ১৪৭টি, দুইয়ে থাকা মোহাম্মদ রফিকের ১০০টি। টি-টোয়েন্টিতে সাকিব নিয়েছেন ৬৫ উইকেট। দুইয়ে থাকা রাজ্জাকের শিকার ৪৪টি।

জাতীয় দলে বিতর্কিতভাবে উপেক্ষিত থাকায় রাজ্জাকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আপাতত আছে থমকে। ওয়ানডেতেও তাই সাকিব ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়াটা কেবলই সময়ের ব্যাপার। বাংলাদেশের হয়ে ২০৩ উইকেট নিয়ে মাশরাফি অবশ্য তাড়া করছেন সাকিবকে। তবে মাশরাফির চেয়ে সাকিবের ক্যারিয়ার অনেক লম্বা হবে প্রায় নিশ্চিতভাবেই।

সাকিবের অর্জন অবশ্যই দারুণ। তবে এটাও বিবেচনায় রাখতে হবে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির আবির্ভাব ২০০৫ সালে। গ্রেটদের অনেকেই খেলতে পারেনি এই সংস্করণ।

টেস্ট ও ওয়ানডেতে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট আছে আরও সাত জনের বাংলাদেশের এখনকার বোলিং কোচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোর্টনি ওয়ালশ, পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম, ভারতের অনিল কুম্বলে, দক্ষিণ আফ্রিকার শন পোলক, ইংল্যান্ডের জেমস অ্যান্ডারসন, জিম্বাবুয়ের হিথ স্ট্রিক। মুত্তিয়া মুরালিধরনদেশের তো শ্রীলঙ্কার হয়ে তো বটেই, দুটিতেই বিশ্ব রেকর্ডের অধিকারী।

এই বোলারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টি খেলতে পেরেছেন কেবল তিনজন। তাদের দুজন, মুরালিধরন ও শন পোলক আবার টি-টোয়েন্টি পেয়েছেন ক্যারিয়ারের শেষ বেলায়, দুজনই খেলেছেন ১২টি করে। অ্যান্ডারসনও খেলতে পেরেছেন মাত্র ১৯টি।

তাতে অবশ্য সাকিবের অর্জনের মাহাত্ম্য কমছে না। অন্যদের না খেলা তো তার নিয়ন্ত্রণে নেই! নিজে যেটি পারতেন, সেটি করেই উঠেছেন গৌরবের চূড়ায়। তিন সংস্করণেই দেশের সেরা!

তিন ফরম্যাটে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট-

অস্ট্রেলিয়া
টেস্ট : শেন ওয়ার্ন (৭০৮)
ওয়ানডে : গ্লেন ম্যাকগ্রা (৩৮১)
টি-টোয়েন্টি : শেন ওয়াটসন (৪৮)

ইংল্যান্ড
টেস্ট : জেমস অ্যান্ডারসন (৪৬৩)
ওয়ানডে : জেমস অ্যান্ডারসন (২৬৯)
টি-টোয়েন্টি : স্টুয়ার্ট ব্রড (৬৫)

ভারত
টেস্ট : অনিল কুম্বলে (৬১৯)
ওয়ানডে : অনিল কুম্বলে (৩৩৭)
টি-টোয়েন্টি : রবিচন্দ্রন অশ্বিন (৫২)

নিউজিল্যান্ড
টেস্ট : রিচার্ড হ্যাডলি(৪৩১)
ওয়ানডে : ড্যানিয়েল ভেট্টরি (৩০৫)
টি-টোয়েন্টি : নাথান ম্যাককালাম (৫৮)

পাকিস্তান
টেস্ট : ওয়াসিম আকরাম (৪১৪)
ওয়ানডে : ওয়াসিম আকরাম (৫০২)
টি-টোয়েন্টি : শহীদ আফ্রিদি (৯৭)

দক্ষিণ আফ্রিকা
টেস্ট : শন পোলক (৪২১)
ওয়ানডে : শন পোলক (৩৯৩)
টি-টোয়েন্টি : ডেল স্টেইন (৫৮)

শ্রীলঙ্কা
টেস্ট : মুত্তিয়া মুরালিধরন (৮০০)
ওয়ানডে : মুত্তিয়া মুরালিধরন (৫৩৪)
টি-টোয়েন্টি : লাসিথ মালিঙ্গা (৭৮)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টেস্ট : কোর্টনি ওয়ালশ (৫১৯)
ওয়ানডে : কোর্টনি ওয়ালশ (২২৭)
টি-টোয়েন্টি : ডোয়াইন ব্রাভো (৫১)

বাংলাদেশ
টেস্ট : সাকিব আল হাসান (১৪৭)
ওয়ানডে : আব্দুর রাজ্জাক/সাকিব আল হাসান (২০৭)
টি-টোয়েন্টি : সাকিব আল হাসান (৬৪)

জিম্বাবুয়ে
টেস্ট : হিথ স্ট্রিক (২১৬)
ওয়ানডে : হিথ স্ট্রিক (২৩৯)
টি-টোয়েন্টি : গ্রায়েম ক্রেমার (৩৩)

*শীর্ষে থাকা অনেক ক্রিকেটারই তিন ফরম্যাটে খেলার সুযোগ পাননি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আসার আগেই অনেকে অবসরে গেছেন।

আরও পড়ুন