বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে ভয়েস অব অামেরিকাকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর এমন সাক্ষাৎকারের নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি।
দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ভয়েস অব অামেরিকাকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সত্যের লেশমাত্র নেই।
এ সময় তিনি, দলীয় ব্যাক্তিদের নিয়ে সার্চ কমিটি নয় বরং জনগনের দ্বারা নির্বাচিত সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
দুদু বলেন, তত্বাবধায়ক বাদ দিয়ে ভীন্ন নামে হলেও নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন চায় বিএনপি। তবে সেই নির্বাচনে সবার অংশ গ্রহন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “আওয়ামী লীগের ভাষায় বলা হয়- ‘গাজীপুরের মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি’, কিন্তু আওয়ামী লীগের সেই ঘাঁটি থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে গাজীপুর সিটি মেয়র পদে অধ্যাপক এম এ মান্নানের ঐতিহাসিক বিজয় আওয়ামী লীগ সরকার মেনে নিতে পারেনি বলেই তিনি আজ হাস্যকর ও উদ্ভট মামলার আসামি হয়ে কারাভোগ করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে দায়ের করা বানোয়াট মামলায় তিনি জামিন লাভ করলেও ভৌতিকভাবে ভিন্ন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনায় নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই।’
এ ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শামসুজ্জামান দুদু। এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থের মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি বিএনপির যেসব নেতাকর্মী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় কারাগারে আটক আছেন, তাদের মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন শামসুজ্জামান দুদু।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সম্পর্কে গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে খুশি রাখতে আওয়ামী লীগের কিছু মন্ত্রী-নেতা লাগাতার মিথ্যা, জঘন্য, কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।
এ ছাড়া মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করার জন্য বাংলাদেশের কাছে জাতিসংঘের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউনেসকো সুপারিশ করেছে উল্লেখ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে তাতে সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি হবে উল্লেখ করে প্রকল্পটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু সম্পূর্ণ গায়ের জোরে এবং জনস্বার্থ ও সুন্দরবনের ঝুঁকিকে পাত্তা না দিয়ে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে সরকারের অনড় অবস্থান গোটা জাতিকে হতবাক ও বিস্মিত করেছে।’


