বৃহস্পতিবার ২৪ অগাস্ট ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » top1 » বাংলাদেশের পুরুষ পর্নোগ্রাফি কেন দেখে?
বিশেষ নিউজ

বাংলাদেশের পুরুষ পর্নোগ্রাফি কেন দেখে?


NEWSWORLDBD.COM - September 26, 2016

বাংলাদেশের পুরুষ পর্নোগ্রাফি কেন দেখেশারমিন শামস্

পর্নোগ্রাফি পুরুষ কেন দেখে? পর্নোগ্রাফি হইলো সেই বস্তু যা সে বাস্তবে পায় না। পুরুষের ফ্যান্টাসি, মনের সাধ আল্হাদ, গোপন ইচ্ছা- পর্নোগ্রাফি দেইখা পূরণ হয়। পর্নোগ্রাফির নারীরা সপ্রতিভ- তারা যৌনতায় অংশ নেয়। এখন ঘটনা হইলো, যৌনতায় নারীর সপ্রতিভ অংশগ্রহণ, অ্যাকটিভ রোল শুধু পর্নেই না, সারা দুনিয়ায়ই একটি স্বাভাবিক ঘটনা।

নারীও ভোগ করে, খিদে মেটায়, যৌনতাকে উপভোগ করে, করায়। তবে এই বাঙাল দেশের কথা আলাদা। এখানে আপামর নারী জাতি পুরুষের নিচে নিজেরে সমর্পণ করে এবং ভোগের বস্তু হয়ে পড়ে থাকে। কিন্তু সমস্যা হইলো, বঙ্গ সমাজের নিয়মানুসারে নারী পুরুষের নিচে চাপা পড়ে থাকে বটে, কিন্তু এদেশের পুরুষও অ্যাকটিভ নারীকেই মনে মনে চায়। চায় বলেই সে পর্নো দেখে।

এখন পুরুষ পর্নো দেখে, সেই নারীরে দেখে খুশি হয়, সুখি হয়, তৃপ্ত হয়। তারপর কী করে? তারপর কয়- এ তো পুরাই বেশ্যা, মাগী। তারপর কী হয়? বাস্তবে বৌ বা প্রেমিকা যদি যৌনতায় অ্যাকটিভ হয়, বাঙালি পুরুষ তারে সন্দেহ করে। তারে নিয়া চিন্তিত হয়। পুরুষের মাথায় আকাশ ভাইঙ্গা পড়ে। মনে মনে কিন্তু সে পুরাই সুখি, তৃপ্ত।

কিন্তু ঐ যে মনের কাঁটা- হায় হায়, মাইয়া মানুষ ক্যান অ্যাকটিভ? এর চরিত্র কি তাইলে ঠিক নাই। এর এতো খিদা কিসের? মাইয়া মানুষের খিদাই বা কীসের? ক্যান খিদা? কীভাবে খিদা? অসম্ভব!

গত কয়েকদিন ‘আট মিনিট’ নামের বিখ্যাত ভিডিওখানা নিয়ে আলোচনা- সমালোচনা আকথা-কুকথা যথাসম্ভব পর্যবেক্ষণ করে বুঝলাম, ‘মেয়ে ক্যান এতো অ্যাকটিভ’ এই বিষয়টাই এদেশের বিশাল অংশ পুরুষ জাতি বুঝে উঠতে পারছেন না। তাদের মেজাজ তাই গরম। তারা রেগে গিয়েছেন এবং হেন কোনো গালি নাই যা মেয়েটিকে দিচ্ছেন না।

এখন আমি হলফ করে বলতে পারি, মেয়েটি যদি একটু কিংবা পুরোটাই প্যাসিভ হতেন, তবে কিছু পুরুষের সহানুভূতি কাড়তে সক্ষম হতেন। মেয়ে কেন ঝড়, মেয়ের ক্যান এতো খিদা, মেয়ের ক্যান এতো শক্তি- এই নিয়া চিন্তায় ভাবনায় সমগ্র পুরুষ জাতি তখন এতোটা জেরবার হইতেন না।

এখন যৌনতায় নারীর প্যাসিভ বা অ্যাকটিভ থাকার বিষয়টা কী? এমন কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কি আছে যেটা বলে নারী অ্যাকটিভ হইতে পারে না? নাই তো। এখন পর্যন্ত শরীর বিজ্ঞান বলে নাই, যৌনতা একমাত্র পুরুষেরই চাহিদা এবং যৌনতায় পুরুষই অধিক আগ্রহী এবং এক্ষেত্রে পুরুষই সদাসর্বদা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

তাইলে বিষয়টা কী? বিষয়টা কী এমন যে, এই উপমহাদেশের আদিম পুরুষেরা প্রাত্যাহিক যৌনতাকেও নারী নিগ্রহ, অবদমন, আর নীরব নির্যাতনের একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন? এদেশের পুরুষ জানে যৌনতায় নারীও হইতে পারে নিয়ন্ত্রক, অ্যাকটিভ এবং সেই ভূমিকা পুরুষ নিজেও চায়। চায় বলেই সে পর্নো দেখে, যৌনকর্মীর কাছে যায়, পরকীয়ায় মজে। কিন্তু নিজের বিবাহিতা স্ত্রী, প্রেমিকার ক্ষেত্রে এই অ্যাকটিভ ভূমিকা মনে মনে সুখকর হইলেও, প্রকাশ্যে সে একে নিন্দার চোখে দেখে। সমাজে অন্য কোন নারীর অ্যাকটিভ রোলের কথা জানতে পারলে সে নির্দ্বিধায় তাকে ‘বেশ্যা’ বলে সম্বোধন করে, তাকে ডাইনি, কুহকিনী, মায়াবিনী ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়।

যৌনতায় পুরুষের কাছে সমর্পিত, প্যাসিভ ভূমিকা পালনকারী নারী এদেশের পুরুষের চোখে প্রকৃত নারী। যে মুখখানি তুলে নাহি চায়, চুম্বনে লাল-নীল-বেগুনি হয়, চোখ বুঁজে শুয়ে অপেক্ষায় থাকে পুরুষের। এদেশের বিবাহ বাসরে দেড় হাত ঘোমটা তুলে বরের জন্য অপেক্ষা করে বধূ আর বর সদর্পে ঘরের ছিটকিনি লাগিয়ে অ্যাকটিভ হয়ে ওঠে।

তো, নারীর এই সাবমিশন বা সমর্পণ- এ তো চিরাচরিত। প্রতিটি ধর্ম নারীর এই সমর্পণের কথাই বলে গেছে। সেই সমর্পিতা নারীকে পুরুষ মাথায় তুলে নেচেছে ‘প্রিয়া’ বলে, তারপর গোপনে পর্নোগ্রাফির অ্যাকটিভ নারীকে দেখে লোল ফেলেছে। লোল-টোল ফেলে বৌকে গিয়ে বলেছে, ‘তুমি বোরিং’। বৌ আকাশ পাতাল ভেবেও আবিষ্কার করতে পারেনি ঘটনা কোথায়! সে তো স্বামী চাহিবামাত্র হাজির এবং যথাবিহিত সেবা করতে প্রস্তুত। তবে ভুলটা কোথায়?

একবার একটি মেয়ে আমার ছেলেবেলার এক বন্ধুর প্রেমে পড়লো। ছেলেটিকে সে কথাটা জানিয়ে টুপ করে একখানা চুমুও খেলো। তো আমার বন্ধু, সেই ছেলেটা, মহা চিন্তায় অস্থির হয়ে আমারে জিগাইলো, ‘হ্যাঁরে, ও যে নিজে আগে চুমু খেল, এটা কি ভালো মেয়েরা করে?’

নারীর সাবমিশন এই সমাজের চোখে অতি পবিত্র, অতি আকাঙ্ক্ষিত, অতি কামনার বস্তু। রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু কইরা জয় গোস্বামী, সুনীল পর্যন্ত কবির কবিতাতেও নারীর সাবমিশনই চূড়ান্ত আকাঙ্ক্ষার বস্তু। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ধর্ষণের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। একমাত্র হুমায়ূন আজাদের কবিতায় নারীর অগ্রণী ভূমিকা, অ্যাকটিভ রোলকে স্বীকার আর প্রশংসা করা হয়েছে। তাই কারো কারো কাছে হুমায়ূন আজাদ অশ্লীল কবি।

যাই হোক, প্রেমিকারে ক্যামনে আদর করবে, কেমনে চুমু খাবে সেই বর্ণনাও ফেসবুক স্ট্যাটাস হয় কোনো কোনো পুরুষের। এখন কোনো মেয়ে যদি একই স্ট্যাটাস দিত, তারে কী কী নামে ডাকতো সকলে, সেইটা ভাবি। এখন পুরুষ তো যা ইচ্ছা করতেই পারে। পুরুষ কর্তা। সে যৌনতারও কর্তা। কিন্তু ঘটনা হইলো, পুরুষও নিয়ন্ত্রণ চায়, কিন্তু গোপনে। অতি গোপনে। কিন্তু যে নারী লিলিথ হয়ে ওঠে, পুরুষ তাকে বনিতা বলে। পুরুষ তার পুরুষদণ্ডকে শাসকের দণ্ড ভাবে। ভাইবা সুখ পায়। এই সুখ সে হাতছাড়া করতে চায় না। যে নারী যৌনতায় নিজেকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় নিয়ে আসতে পারে, সেই নারী জীবনের বাদবাকি কর্মকাণ্ডে পুরুষের অধীন থাকবে, এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় না। তাই এই দেশের পুরুষ ভয় পায়।

তারে তো বলা হয়েছে, সে কৃষক। সে খালি চাষ করবে। তার শষ্যক্ষেত্র পুরুষের তলে নিজেরে বিছায়া দিয়া চুপটি করে পড়ে থাকবে। তো আশৈশব এইসব শুনে- জেনে বড় হওয়া পুরুষ ক্যামনে মানবে নারীর অ্যাকটিভ পার্ট! যদিও তার ভালোই লাগে… কিন্তু সে কথা যায় না বলা। সে কথা গোপন! তাই ভিডিও’র মেয়েটা সর্বনাশী ঝড়, নষ্টা, ভ্রষ্টা- বেচারা ছেলেটার জীবন যে সাড়ে সব্বোনাশ করে দিয়ে ছেড়েছে!
-উইমেন চ্যাপ্টারের সৌজন্যে

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...







Editor: AHM Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
43/B/1, East Hazipara, Rampura
Dhaka-1219, Bangladesh.