বিশ্বে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশকে আরও এক ধাপ এগিয়ে এনেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম।
তাদের ‘গ্লোবাল কমপেটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৬-১৭’ বলছে, এবার ১৩৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ১০৬তম অবস্থানে। আগের বছর দুই ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ ১০৭ এ পৌঁছেছিল।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বুধবার বিশ্বব্যাপী একযোগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ঢাকায় ফোরামের পক্ষে বাংলাদেশে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম, যেটি দাভোস ফোরাম নামে পরিচিত, ২০০১ সাল থেকে এই প্রতিবেদন তৈরি করে আসছে। সিপিডি বৈশ্বিক এই ফোরামের সহযোগী হিসেবে কাজ করে।
চলতি বছরের শুরুতে চালানো জরিপের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদন। একটি দেশের অবস্থান বিচার করার জন্য প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, পণ্য বাজারে দক্ষতা, শ্রম বাজারে দক্ষতা, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, বাজারের আকার; বাজারের সংবেদনশীলতা এবং নতুনত্ব- এই ১২টি সূচক বিবেচনা করা হয়েছে।
সক্ষমতা সূচকে এক ধাপ অগ্রগতি হলেও সব মিলিয়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়েছে গতবছরের মতই, ৩ দশমিক ৮। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩ দশকি ৬; আর ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৭।
এবারের প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, বাজারের সংবেদনশীলতা ও নতুনত্ব সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি হলেও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ, শ্রম বাজারে দক্ষতা, আর্থিক খাতের উন্নয়ন ও বাজারের আকারে স্কোর কমেছে। আর স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক শিক্ষা এবং পণ্য বাজারের দক্ষতা সূচকে স্কোর হয়েছে গতবারের সমান।
অবকাঠামোগত দুর্বলতা, দুর্নীতি, ঋণপ্রাপ্তি ও দক্ষ কর্মীর অভাবকেই বাংলাদেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা।
গতবারের মত এবারও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সূচকে শীর্ষস্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড, তাদের স্কোর ৫ দশমিক ৮। এরপরই রয়েছে সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, জাপান, হংকং ও ফিনল্যান্ড।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত সূচকের ৫৫তম অবস্থান থেকে এগিয়ে ৩৯, নেপাল ১০০ থেকে ৯৮, ভুটান ১০৫ থেকে ৯৭, পাকিস্তান ১২৬ থেকে ১২২ নম্বর অবস্থানে উঠে এসেছে। কেবল শ্রীলংকা ৬৮ থেকে পিছিয়ে গেছে ৭১ নম্বর অবস্থানে।


