টিকেট কেটে লাইনে দাঁড়িয়ে বিআরটিসির একটি বাসে চড়ে সচিবালয়ে অফিস করতে এলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সেতু বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে আসাদগেইট বাসস্ট্যান্ড থেকে বিআরটিসি বাসের টিকেট কেটে লাইনে দাঁড়ান মন্ত্রী। বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে উঠে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নামেন মন্ত্রী। সেখান থেকে সচিবালয়ে তার অফিস যান।
আসাদগেইট থেকে বাসে উঠে মন্ত্রী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন জানিয়ে ওয়ালিদ বলেন, এ সময় ‘সিভিল ড্রেসে’ মন্ত্রীর গানম্যান ও এপিএস তার সঙ্গে ছিলেন। কাউকে কিছু না জানিয়েই মন্ত্রী বিআরটিসির বাসে করে অফিসে যান। কোনো গণমাধ্যমের প্রতিনিধি সেখানে ছিলেন না।”
ওয়ালিদ জানান, একই দিন মন্ত্রী বিআরটিসির আরেকটি বসে করে ফার্মগেইট থেকে আব্দুল্লাপুরে যান। মন্ত্রীর বাসে চড়ার বেশ কিছু ছবিও তার ফেইসবুক পেইজে প্রকাশ করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, “মন্ত্রীকে বাসে দেখে চমকে ওঠেন যাত্রীদের অনেকে। তাদের একজন মন্ত্রীকে নিজের আসন ছেড়ে দিলেও মন্ত্রী তাতে বসেননি।”
ওই কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রী দোতলা বাসের উভয় তলার যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের অভিযোগ শোনেন।
“একজন যাত্রী তাকে বলেন, সরকারি বাসের বেশিরভাগই ফ্যানই নষ্ট থাকে। যাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে মন্ত্রী নিজেই বের করেন ওই বাসের ১২টি ফ্যানের মধ্যে মাত্র একটি ভালো। সঙ্গে সঙ্গে বিআরটিসির মতিঝিল ডিপোর ম্যানেজার ও পরিচালককে শোকজ করেন মন্ত্রী।”
আসাদগেইট থেকে ফার্মগেইট হয়ে যেসব গাড়ি মতিঝিল-গুলিস্তানে চলাচল করে, অফিস সময়ে সেগুলোর জন্য ফার্মগেইট সিগন্যালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বলে মন্ত্রীকে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।
এ বিষয়ে সমাধান খোঁজা হবে বলেও যাত্রীদের আশ্বস্ত করেন কাদের।
ওই বাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী সরকারি বাসে ‘হাফভাড়া’ না নেওয়ায় মন্ত্রীর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে তার দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান।


