স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে সার্কের পথচলা শুরু করতে ভূমিকা রাখা বাংলাদেশকে সংকটকালে প্রতিক্রিয়াশীল না হয়ে সংস্থাটি কার্যকর রাখতে ভূমিকা নিতে হবে এবং প্রতিক্রিয়াশীলতা পরিহার করে প্রজ্ঞাময় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নভেম্বরের ৯-১০ তারিখে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশ যোগ দিচ্ছে না। বাংলাদেশের যোগ না দেবার বিষয়টি সার্ক মহাসচিব এবং সার্কের বর্তমান সভাপতি দেশ নেপালকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়া এ সম্মেলনে ভারত, ভূটান এবং আফগানিস্তানও যোগ দিচ্ছে না বলে ইতিমধ্যেই সার্কের বর্তমান সভাপতি নেপালকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ অবশ্য ভারতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেই যে যাচ্ছে না, তা না বলে বলেছে যে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলায় তারা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারত-পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ রেখা নামের সীমান্তে গোলযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাংলাদেশ, ভূটান ও আফগানিস্তানও পাকিস্তানের এবারের সম্মেলনে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় দক্ষিণ এশিয়ার নিজস্ব এই সংস্থাটি ‘অনেকটাই অকার্যকর’ হয়ে পড়তে যাচ্ছে। অথচ, এই ধরনের প্রেক্ষাপটে সার্কের নেতাদের বিবদমান দেশ দু’টির মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির।
দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, চার সদস্য রাষ্ট্রের বয়কটের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে সম্মেলনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে এগিয়ে আসতে জোটের দেশগুলোর সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
সার্কের ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে ব্যারিস্টার নওশাদ বলেন, বাংলাদেশ সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা দেশ। এই ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করার সুযোগ যেমন নেই, তেমনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান বিরোধও বাস্তবতা। এই প্রেক্ষাপটে সার্ক নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল কূটনীতি দেখানোর চেয়ে সংকট নিরসনের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার এই সংস্থাটির শীর্ষ সম্মেলন বয়কট এই অঞ্চলে শান্তি প্রক্রিয়া চলমান রাখার কোনো সমাধান নয়। বরং, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা পরিহার করতে সার্ক একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ বলেন, সার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্দেশ্যে দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা হলেও রাজনীতি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এই কারণে, ভারত ও পাকিস্তানের উত্তেজনার সময়ে বাংলাদেশ প্রতিক্রিয়াশীলতার পরিচয় না দিয়ে বরং সার্ককে আরও ব্যাপক পরিসরে ভূমিকা রাখার দিকে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিতে পারে।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ এশিয়াকে এক সূত্রে গাঁথার লক্ষ্য নিয়ে কয়েকবছর কাজ চলার পর ১৯৮৫ সালে গঠিত হয় ‘সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশন’ (সার্ক) নামের এই জোট।
সার্ক সনদ অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার আট-জাতির আঞ্চলিক জোটের কোনো সদস্য দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান না গেলে শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়।


