ইউরোপিয়ান ফুটবলে বা ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেট ম্যাচে প্রায়ই দেখা যায় হঠাৎ মাঠে ঢুকে পড়েছেন দর্শক। দৌড়ে যাচ্ছেন প্রিয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে হাত মেলাতে। তবে বাংলাদেশে এমন দৃশ্য বিরল। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ পেরিয়ে মাঠে ঢুকে পড়তে দেখা যায় না দর্শকদের। তবে আজ সেই বিরল দৃশ্যই দেখা গেল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে।
ঘটনাটি ঘটেছে আফগানিস্তানের ইনিংসের ২৯তম ওভারে। ওভারের তৃতীয় বলটি করতে যাচ্ছিলেন তাসকিন আহমেদ। এমন সময় হঠাৎ মাঠে ঢুকে পড়েন এক দর্শক। দৌড় দিয়ে এগিয়ে আসেন মিড অনে দাঁড়ানো অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার দিকে। সঙ্গে সঙ্গেই দৌড়ে আসেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ধরে ফেলেন মাঠে ঢুকে পড়া সেই দর্শককে।
মাশরাফি অবশ্য তখন বাঁচানোরই চেষ্টা করেছেন তাঁর ভক্তটিকে। নিরাপত্তাকর্মীরা শুরুতে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সেই দর্শককে। তখন সবাইকে শান্ত করেছিলেন মাশরাফি। মাঠে ঢুকে পড়ার অপরাধে তাঁকে যেন মারধর করা না হয়, নিরাপত্তাকর্মীদের হয়তো তেমনটাই বলছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। পরে বিসিবির নিরাপত্তা কমিটির কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, সেই দর্শককে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মিরপুর থানায়।
‘ভক্ত’ মেহেদী হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মিরপুর মডেল থানায় নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওই ভক্ত ইউনাইডেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।
এদিকে ওই ঘটনার পর খেলা শেষে পুলিশ তাকেসহ আরও তিন যুবককে মিরপুর মডেল থানায় নিয়ে যায়।
অপর তিনজন হলেন তানভীর আহমেদ মারুফ, আয়মান আসিফ রাফি ও আবীর হোসেন। তারা মেহেদীর বন্ধু এবং সবার বাড়ি সাভারে। আটক মারুফ ও রাফি এসএইচসি পাসের পর বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আর আবীর হোসেন ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র।মেহেদীর বাবা জয়নাল আবেদীন জানান, তার ছেলে মেহেদীসহ আটক চারজন যুবক একত্রে খেলা দেখতে এসেছিলেন।
মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অজিৎ রায় মেহেদী সম্পর্কে বলেন, ‘ছেলেটিকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে ওসির কক্ষে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেখানে আরও সিনিয়র অফিসাররাও আছেন।’
এদিকে টিভির পর্দায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের বোলিংয়ের ২৯তম ওভারের সময়ের ঘটনা। আফগানিস্তানের তখন সাত উইকেট নাই। রান মাত্র ১০২। হঠাৎ কোনও একজনের মাঠে ঢুকে পড়া চোখে পড়ে মাশরাফির। তিনি নিজেও প্রথমে ভড়কে গিয়েছিলেন। ওই তরুণ যখন হাত বাড়িয়ে দেয়, মাশরাফিও হাত বাড়ালেন। এরপর মুহূর্তেই তাকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। ততক্ষণে হাফ ডজন নিরাপত্তাকর্মী ও মাঠের স্টাফরা ঘিরে ফেলেন ওই তরুণ ভক্তকে। দুজনে মিলে মাশরাফির বুক থেকে ওই তরুণকে টেনে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা করলেন। কিন্তু কিছুতেই ছাড়ছেন না। নিরাপত্তাকর্মীদের অ্যাকশন দেখে মাশরাফি হয়তো আঁচ করতে পারলেন ওই তরুণের অবস্থা পরবর্তী সময়ে কী হতে পারে। তাই তিনি একটু পরিবেশটা হালকা করার চেষ্টা করলেন। তরুণটিকে নিজেই মাঠের বাইরে দিয়ে আসতে শুরু করলেন। যখন নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে ছেড়ে দিলেন, তখনও সংশয় রয়ে গেল বাংলাদেশ অধিনায়কের মনে। সে কারণেই কিনা মাশরাফির অনুরোধে ওই ভক্তকে বসিয়ে রাখা হয় গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে।
গত জুলাইয়ে গুলশান হামলার পর বেশ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর নিয়ে। শেষপর্যন্ত অবশ্য বাংলাদেশে পৌঁছে গেছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই জটিলতার মধ্যে মাঠে দর্শক ঢুকে পড়ার ঘটনা হয়তো নতুন করে ভাবাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে।


