বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের সুযোগ নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

20_Mohammad+Nasim_170814_0006আসন্ন এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তাঁকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। বলেছেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আগামী শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কিত সভায় সভাপতিত্বকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সুষ্ঠুভাবে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এক শ্রেণির অসাধু চক্র সব সময় ভর্তি পরীক্ষার আগে সাজেশন বিক্রির অজুহাতে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারসাজি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।

দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও নিরীহ অভিভাবকরা তাদের ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে বিভ্রান্তির শিকার হয় উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, কিছু কিছু ভর্তি কোচিং সেন্টার এ ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। মন্ত্রী ওই কোচিং সেন্টারগুলোকে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

‘মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে একটি মহল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করে। এবার এ রকম ঘটনা ঘটলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্ত্রী গত বছরের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবের কথা তুলে ধরে বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য অতীতে গুজব ছড়ানো হয়েছিল যা পরবর্তী সময়ে আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয় এবং ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো জানান, শিক্ষার্থীরা যেন সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা দিতে পারে এবং পরীক্ষা পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ বছর সরকার অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে।

পরীক্ষা তত্ত্বাবধানে গঠিত ওভারসাইট কমিটিতে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার, কলামিস্ট ও মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবুল মকসুদ, সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান, আবদুল কাইয়ুম, মনজুরুল ইসলাম বুলবুলসহ দেশের চিকিৎসক সমাজ ও চিকিৎসাশিক্ষার জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সভায় অন্যান্যের মাঝে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যসচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদসহ মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, এ বছর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বহন থেকে শুরু করে তালাবদ্ধ ট্রাংক খোলা পর্যন্ত বিশেষ ধরনের ট্র্যাকিং ডিভাইস সংযোগ রাখা হবে যাতে করে মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার হয়েছে।

এ সময় ফেসবুকসহ যেকোনো মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব রটনাকারীকে চিহ্নিত করতে সহায়তা করতে তাৎক্ষণিকভাবে ৯৮৫৫৯৩৩ নম্বরে টেলিফোনে এবং মোবাইলে ০১৭৫৯-১১৪৪৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৭ অক্টোবর এবং বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

এ বছর এমবিবিএসের জন্য আসনসংখ্যা সরকারি কলেজে তিন হাজার ২১২ এবং বেসরকারি কলেজে ছয় হাজার ২০৫। পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৯০ হাজার ৪২৬ জন। ঢাকাসহ সারা দেশের ১৮টি সরকারি মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রের ৩৭টি ভেন্যুতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বহন, পরীক্ষা গ্রহণ এবং উত্তরপত্র আনার সময় পর্যাপ্ত হাকিম ও পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও সভায় জানানো হয়।

আরও পড়ুন