স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কর্মসূচি শুরুর পর কার্ড পেয়ে খুশি নাগরিকেরা। তবে ছবি নিয়ে অনেকের মধ্যে খারাপ লাগা রয়ে গেছে।
নয় কোটির বেশি ভোটারকে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে আট কোটির বেশি ভোটার হয়েছিলেন আজ থেকে আট-নয় বছর আগে। বর্তমান কার্ডটির মেয়াদও ১০ বছর। সেই হিসেবে আট-নয় বছর আগের এই ছবিটি আরও ১০ বছর থাকবে। তা ছাড়া আগে ওয়েব ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সে সময় বেশির ভাগ নাগরিকের ছবি ভালো হয়নি। তাই যাঁরা স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন, তাঁদের অনেকেই মনে করছেন যে ছবিটি নতুন করে তুলে দেওয়া হলে ভালো হতো।
জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের দ্বিতীয় দিনে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ বেইলি রোডে ইস্কাটন গার্ডেন রোডের অধিবাসীদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হচ্ছে। স্মার্টকার্ড পেয়ে আনন্দিত কাশফি। তবে পুরোনো ছবি দেওয়ায় একটু অখুশি তিনি। কাশফি বললেন, ‘পুরোনো পচা ছবিটাই দেওয়া হয়েছে। ছবি নতুন করে দেওয়া গেলে ভালো হতো।’
একই কথা বললেন চিকিৎসক নাজমুন্নাহার। স্মার্ট কার্ডটি হাতে পেয়ে বললেন, সবই ঠিক আছে, তবে ছবিটা উদ্ভটই আছে। উত্তরা থেকে কার্ড নিয়েছেন শর্মিলী কামাল। তিনি বললেন, ‘কার্ডটা দারুণ স্মার্ট। স্মার্ট কার্ডে আমার ছবিটাকে আনস্মার্ট মনে হচ্ছে।’
ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে স্মার্ট কার্ড নিয়ে খুশি নগরের বাসিন্দারা। যাঁরা কার্ড পেয়েছেন, তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজেদের ‘স্মার্ট নাগরিক’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। কার্ড সংগ্রহে নাগরিকদের আগ্রহও ব্যাপক। তবে স্মার্ট কার্ডের জন্য নতুন করে ছবি দেওয়া গেলে ভালো হতো বলে মত দিয়েছেন তারা।
ঢাকার উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে মঙ্গলবার দেওয়া হচ্ছিল ১০ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দাদের জাতীয় পরিচয়পত্র। সেখানে কথা হয় অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, তার স্ত্রী শর্মিলী কামাল, সাধারণ বীমা করপোরেশনের কর্মকর্তা মফিজুর রহমানের সঙ্গে। তারা বললেন, অনেক দিন ধরেই এমন কার্ড পাব বলে শুনছিলাম। পেয়ে খুব ভালো লাগছে। তবে কার্ডের জন্য নতুন করে ছবি দেওয়া গেলে আরও ভালো হতো।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্মার্ট কার্ডের ছবি আগের কার্ডের চেয়ে ভালো হয়েছে। তবে এটা ঠিক, যখন ভোটার তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়, তখন অনেক ভোটারের ছবিই ভালো আসেনি। তিনি বলেন, কমিশন এটা নতুন যুগে প্রবেশ করল। ভবিষ্যতে নাগরিকদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যাবে।
এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, ‘এত দিন যে ছবিটি জাতীয় পরিচয়পত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই ছবির রেজ্যুলেশন অনেকটা বাড়িয়ে স্মার্ট কার্ডে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে স্মার্ট কার্ডের ছবি আগের ল্যামিনেটেড কার্ডের চেয়ে দেখতে ভালো হয়েছে।’
কার্ড পেয়ে খুশি, তবে ভোগান্তি রয়ে গেছে
স্মার্ট কার্ড নেওয়ার জন্য নাগরিকদের কেবল নতুন করে দুই হাতের সব আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের ছবি দিতে হচ্ছে। তবে অনেক গ্রাহকের আঙুলের ছাপ নিতে অনেক সময় লাগছে বা কারও কারও সব আঙুলের ছাপ পাওয়া যাচ্ছে না। যাঁরা নতুন স্মার্টকার্ড পাচ্ছেন, তাঁদের পুরোনো ল্যামিনেটেড কার্ডে ফুটো করে দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থী আহসান উল কবীরের নয়টি আঙুলের ছাপ এসেছে, কনিষ্ঠ আঙুলের ছাপ না আসায় তিনি চিন্তিত। তিনি বলেন, তাঁকে বলা হয়েছে যে এতে কোনো সমস্যা হবে না।
আঙুলের ত্বকে সমস্যা থাকলে অনেকের ছাপ আসে না বা হাতে ময়লা বা লোশন লাগানো থাকলেও আঙুলের ছাপ আসে না। সে ক্ষেত্রে সেখানকার কর্মীরা গ্রাহকদের হাত ধুয়ে-মুছে আসতে পরামর্শ দেন। এরপর ছাপ নেন।
স্মার্ট কার্ড পেয়ে খুশি অধ্যাপক নাজমুল করিম চৌধুরী। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর নাম বাংলায় এসেছে ‘করিম চৌধুরী’ হিসেবে। আর ইংরেজিতে পুরো নামটাই এসেছে। স্মার্ট কার্ডেও একই অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, এতে তাঁর কোনো অসুবিধা হচ্ছে না, কারণ ইংরেজি নামটাতো ঠিক আছে।
আশরাফুন নেছার তথ্য ও কার্ড তৈরি আছে তবে কম্পিউটারের সার্ভারে সমস্যা থাকায় কর্মীরা তার তথ্য পাননি। এ কারণে মঙ্গলবার তার আঙুলের ছাপ ও আইরিশের ছবি নেওয়া হয়নি। তাকে এক মাস পর ৬৭ পশ্চিম আগারগাঁওয়ের থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে সংশোধনী দিয়ে আসতে পরামর্শ দেন কর্তব্যরত নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা। এরপর তিনি স্মার্ট কার্ড তুলতে পারবেন। এর আগ পর্যন্ত বিদ্যমান পরিচয়পত্রটি ব্যবহার করতে পারবেন।
ঢাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, ‘নাগরিকেরা স্মার্ট কার্ডের জন্য খুবই আগ্রহী। আঙুলের ছাপের যে সমস্যা, তা বিভিন্ন কারণে হচ্ছে। বয়স বাড়লে বা ইলেকট্রিক বাল্বের কাজ যারা করেন, তাদের আঙুলের ছাপ আসে না। তারপরও আগ্রহী ব্যক্তিদের আমরা স্মার্ট কার্ড থেকে বঞ্চিত করব না। আট আঙুলের ছাপ না এলেও তাদের আমরা কার্ড দেব।’


