বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আর্টিজানের ছাদে অস্ত্রধারী সেই তাহমিদের পাসপোর্ট রেখে দিয়েছে পুলিশ

Tahmid+Hasib+Khanগুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর ছাদে জঙ্গি রোহান ইমতিয়াজের সঙ্গে অস্ত্র হাতে তাহমিদ হাসিব খানকে হামলার অভিযোগ থেকে অব‌্যাহতি দিলেও তার পাসপোর্ট রেখে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে চাইলেও আপাতত দেশ ছাড়তে পারছেন না এই ব্যবসায়ীপুত্র।

গত ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর অভিযানে উদ্ধার হলেও পরে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল কানাডায় পড়াশোনারত আফতাব বহুমুখী ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রহিম খান শাহরিয়ারের এই পুত্রকে।

৫৪ ধারার অভিযোগের মামলায় ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত থেকে জামিন নিয়ে তাহমিদ গত রোববার কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।

হামলাকারীদের সঙ্গে ছবিতে আসা হাসনাত রেজাউল করিমকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলেও একই ছবিতে থাকা তাহমিদকে অব‌্যাহতি দেওয়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাহমিদকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে এবং ডাকলেই তদন্ত সংস্থার কাছে হাজিরা দিতে হবে।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ‌্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বলেন, “তার পাসপোর্ট আমাদের কাছে, ইচ্ছা থাকলেও সে দেশের বাইরে যেতে পারবে না।”

ওই ক‌্যাফেতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ১৯ জিম্মিকে হত‌্যার ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের নবগঠিত এই বিভাগ।

গত ৩ অগাস্ট তাহমিদের সঙ্গে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ‌্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাতকেও প্রথমে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে হাসনাতকে সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গুলশান হামলায় তাহমিদের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি জানিয়ে ৫৪ ধারার মামলা থেকে পুলিশ তাকে অব‌্যাহতি দিতে আবেদন করলে বুধবার তা মঞ্জুর করে আদালত।

জঙ্গিদের সঙ্গে তাহমিদের ছবি আসার বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, এই যুবক সেদিন ‘পরিস্থিতির শিকার’ হয়েছিলেন।

তবে তাহমিদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে তথ্য গোপনের একটি অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৬ অক্টোবর পুলিশকে দিতে বলেছে আদালত।

মনিরুল বলেন, “পুরো বিষয়টি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, পাসপোর্ট আমাদের কাছে। তাছাড়া বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।

“তার ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে, ডাকলেই যেন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আসে এ বিষয়টি তাকে বলে দেওয়া হয়েছে।”

আরও পড়ুন