৪ অক্টোবর রাত ১০টা ১০ মিনিট। অনলাইন টিকিট বিক্রির জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘সহজ ডটকমে’র ফেসবুক পেজ থেকে ঘোষণা এলো, বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ড সিরিজের প্রথম ওয়ানডের টিকিট সেদিন (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ১১টা থেকে তাদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। ঘোষিত সময়েরও আধঘণ্টা পর, রাত ১২টা পাঁচের দিকে টিকিট ছাড়া হয় এবং মাত্র মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গতকাল সকাল সোয়া ১০টার দিকে আবার ওয়েবসাইটে টিকিট ছাড়া হয় এবং দুই মিনিট পর আবার বন্ধ হয়ে যায় টিকিট বিক্রি।
কিন্তু অবাক হলেও সত্য, সহজ ডটকমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইংল্যান্ড সিরিজের টিকিট বিক্রির স্বত্ব দেওয়া হয় গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে, বিসিবি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে। নিয়মানুযায়ী, বিসিবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর থেকেই কেবল টিকিট বিক্রি শুরু করতে পারবে স্বত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান। সে ক্ষেত্রে সহজ ডটকম কেন আগের দিন রাত বা সংবাদ সম্মেলনের আগে সকালে তাদের ওয়েবসাইটে টিকিট ছাড়ল, সেই ব্যাপারে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল।
বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানালেন, ‘সহজ ডটকমে’র মাধ্যমে এই সিরিজের টিকিট বিক্রি হবে, এই ব্যাপারটা মঙ্গলবার একটি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় কিছু পরিমাণ টিকিট ছাড়া হয়েছিল। আজ আমরা এক্সপেল্গইন করছি কীভাবে অনলাইনে টিকিট বিক্রি হচ্ছে এবং সেজন্যই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।’
কিন্তু আদতে বিসিবির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো প্রেস রিলিজই পাননি গণমাধ্যমকর্মীরা। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের পর ‘সহজ ডটকমে’র ওয়েবসাইটে টিকিট ছাড়ার পর আগ্রহীরা টিকিট কাটতে গেলে দেখা দেয় আরেক বিপত্তি। টিকিট কাটতে গিয়ে অনেকেই কারিগরি জটিলতার মুখে পড়েন। এ রকমই জটিলতার ভুক্তভোগী গোড়ান এলাকার বাসিন্দা ইমাম মেহেদী।
অনলাইনে টিকিট কাটতে ব্যর্থ তিনি বলেন, ‘দেখানো হচ্ছে যে টিকিট আছে। এরপর সব প্রয়োজনীয় তথ্যে ফরম পূরণ করে একদম শেষে যখন টাকা প্রদানের পেজে গিয়েছি, তখন বলা হয়েছে টিকিট নেই।’ তিনি কমপক্ষে দশবার এই জটিলতার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত আর চেষ্টা করেননি। মঙ্গলবার রাতেও অনেক আগ্রহী দর্শকই টিকিট কাটতে গিয়ে এ রকম পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। এদিন মাত্র পাঁচ মিনিটেই টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভও জানিয়েছেন অনেকে। তবে টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ‘সহজ ডটকমে’র নির্বাহী পরিচালক মালিহা কাদির সংবাদ সম্মেলনে জানান, টিকিট পেতে একসঙ্গে অনেক মানুষ সাইটে এক্সেস করার ফলেই এই ধরনের ব্যাপারগুলো ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে টিকিট ছাড়ার পর একসঙ্গে প্রায় হাজার বিশেক মানুষ সাইটে ঢুকেছিল। অনেকেরই ধারণা, আমরা একটি ম্যাচের সব টিকিট বিক্রির স্বত্ব পাই। কিন্তু আসলে একটি ম্যাচের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ টিকিট আমরা বিক্রি করি। সব টিকিট যাতে একবারে বিক্রি না হয়ে যায়, তাই আমরা কিছু কিছু করে টিকিট ছাড়ছি।’
আফগানিস্তান সিরিজে ‘সহজ ডটকমে’র মাধ্যমে বিক্রি হওয়া টিকিটের ব্যাপারেও কিছু অভিযোগ ছিল। অনলাইনে বুক করা টিকিট হাতে পাওয়ার জন্য দর্শকদের যেতে হয়েছে পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লোটোর নির্ধারিত সাতটি শাখায়। অনেক দর্শকই বলেছেন, মাত্র কয়েকটি শাখায় টিকিট দেওয়ার ফলে প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে টিকিট হাতে পেতে হচ্ছে। মালিহা কাদির জানালেন, আফগানিস্তান সিরিজের মতো দর্শকরা যাতে আর ভোগান্তিতে না পড়েন, সেজন্য লোটোর আরও তিনটি নতুন শাখাকেও টিকিট হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেছেন তারা। এর ফলে টিকিট বুক করা দর্শকদের ভোগান্তি আসলেই কমবে কি-না সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে এখনও পর্যন্ত ‘সহজ ডটকমে’ টিকিট কাটা এবং সেটা হাতে পাওয়ার প্রক্রিয়াটা খুব একটা সহজ হচ্ছে না মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে চাওয়া দর্শকদের জন্য।


