শুক্রবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

আরও জঙ্গি আস্তানার খোঁজে অভিযানে পুলিশ


NEWSWORLDBD.COM - October 10, 2016

আরও জঙ্গি আস্তানার খুঁজে অভিযানে নামছে পুলিশগাজীপুরে অভিযানের পর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন, রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় জঙ্গিদের আরও আস্তানা থাকতে পারে।

আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদী- এসব জেলায় ‘নব্য জেএমবি’র আস্তানার খুঁজে অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নেতৃত্বে থাকা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে কর্মরত অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেনের ভাষ্য, “জঙ্গিদের সব আস্তানাই খুঁজে বের করে ফেলবেন তারা। গাজীপুরের অভিযানটাই ভেবেছিলাম শেষ অভিযান হবে। এখন মনে হচ্ছে, আরও অন্তত তিনটি আস্তানা রয়েছে। তথ্য নিয়ে সেখানেও অভিযান চালানো হবে।”

মানুষের চোখ এড়াতে জঙ্গিরা সাধারণত শহরের উপকণ্ঠ কিংবা নিরিবিলি এলাকাগুলো বেছে নেয় বলে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন তিনি।

“অধিকাংশ জঙ্গিরা বাসা ভাড়া নেন এমন এলাকায় যেখানে লোক সমাগম কম। তাদের অপারেশন সাকসেস করার জন্য অস্ত্র ও বিস্ফোরক অনেকটা বিনা বাধায় যেন বহন করতে পারে।”

গত জুলাইয়ে গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর কয়েকটি অভিযানের পর সর্বশেষ গত শনিবার গাজীপুরে দুটি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার কথা জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দুটি স্থানে অভিযানে নিহত হন নয়জন। একই দিন টাঙ্গাইলে আরেকটি অভিযানে নিহত হন দুজন।

সাম্প্রতিক অভিযানগুলো:

২৬ জুলাই, কল‌্যাণপুরে- নিহত ৯

২৭ অাগস্ট, নারায়ণগঞ্জে- নিহত ৩

২ সেপ্টেম্বর, মিরপুর রূপনগর- নিহত ১

১০ সেপ্টেম্বর, আজিমপুর-নিহত ১ জন

৮ অক্টোবর, গাজীপুর- নিহত ৯

৮ অক্টোবর, টাঙ্গাইল-নিহত ২

এর মধ‌্যে নারায়ণগঞ্জে অভিযানে নিহত হন নব‌্য জেএমবির শীর্ষনেতা তামিম চৌধুরী। আজিমপুরে নিহত তানভীর কাদেরী এই সংগঠনটির দ্বিতীয় শীর্ষনেতা ছিলেন বলে পুলিশ জানায়।

পুলিশ কর্মকর্তা ছানোয়ার বলছেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও নজরদারির কারণে জঙ্গিদের বড় কোনো হামলা চালানোর সক্ষমতা এখন আর নেই। ঢাকায় তাদের ধরতে, তাদের তথ্য নিতে পুলিশ বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে, প্রতিটি এলাকার লোকজনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে, পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন এ্যাপ ও অনলাইনেও প্রচুর তথ্য আসছে। তাই তাদের ঢাকায় বড় কিছু করার সক্ষমতা আপাতত জঙ্গিদের নেই।”

নেতাদের কয়েকজন মারা পড়লেও গুলশান হামলায় ‘বড় ভূমিকা পালনকারী’ নুরুল ইসলাম মারজান, বাসারুজ্জামান চকলেট ও ‘রাজীব গান্ধী’র দেখা এখনও পায়নি পুলিশ। তারা বাংলাদেশের কোথাও লুকিয়ে রয়েছে বলে ধারণা গোয়েন্দাদের।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সম্প্রতি বলেছিলেন, মারজানসহ এদের ধরা গেলে গুলশান হামলার ঘটনার রহস্য পুরোপুরি উদ্ঘাটন হবে এবং অর্থ ও অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে জানা যাবে।

গাজীপুরের পাতারটেকে নিহতদের মধ‌্যে ফরিদুল ইসলাম আকাশ ছাড়া অন্য কারও পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। রোববার তাদের ছবি প্রকাশ করে তথ‌্য চেয়েছে পুলিশ।

ছানোয়ার বলেন, “গাজীপুরে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হতে কয়েকজন সন্দেহভাজন নব্য জেএমবির সদস্যদের চেহারার সঙ্গে নিহতদের চেহারার ছবি মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এদের অধিকাংশরই চেহারা মেলেনি।”

দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন- এমন কয়েকজন নব্য জেএমবিতে সক্রিয় আছেন বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ‌্য রয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা ছানোয়ার বলেন, “মিরপুরের দুই ভাই রাফিদ আল হাসান ও আয়াত হাসান, আজিমপুরে নিহত তানভীর কাদরীর এক ছেলে আফিফ কাদরী গাজীপুরে নিহতদের মধ্যে নেই। তারা নব্য জেএমবিতে সক্রিয় রয়েছেন বলে তথ্য প্রমাণ রয়েছে।

“তাদের মতো আরও কয়েকজনও রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া নব্য জেএমবির সদস্যরা ও জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধার বিভিন্ন কাগজপত্র থেকে তাদের বিষয়ে তথ্য মিলেছে।”

এরা অন‌্য কোনো আস্তানায় আশ্রয় নিয়ে আছে বলে ধারণা গোয়েন্দাদের। তবে এই সংখ‌্যাটি এখন খুব বেশি নয় বলে মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তা ছানোয়ার।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.