বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

তারাপুর চা–বাগানের ভুয়া সেবায়েত কারাগারে

72299দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন তারাপুর চা–বাগানের ভুয়া সেবায়েত দেওয়ান মোস্তাক মজিদ (৫৫)। আজ সোমবার দুপুরে মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করলে বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দেওয়ান মোস্তাক মজিদ রাগীব আলীর আত্মীয় (স্ত্রীর বোনের ছেলে) এবং এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তিনি তারাপুর চা–বাগানের ভুয়া সেবায়েত সেজে রাগীব আলীর কাছে বন্দোবস্ত দিয়েছিলেন।

আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (অতিরিক্ত পিপি) মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা–বাগান দখল করে সরকারের হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় মোস্তাক মজিদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত ১০ আগস্ট পরোয়ানা জারির পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। আজ আত্মসমর্পণের পরপরই আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা-বাগানের জায়গায় বিধিবহির্ভূতভাবে স্থাপনা নির্মাণ করায় ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত তৎকালীন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তদন্ত করে সত্যতা পায়। পরবর্তী সময়ে সংসদীয় উপকমিটি চা-বাগানে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে। এ সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সিলেট সদর ভূমি কমিশনার এস এম আবদুল কাদের বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে এ মামলা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিত করা হয় এবং পুলিশ তদন্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল।

গত ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা-বাগান পুনরুদ্ধারে রায় দেন। এতে ওই দুটি মামলা সক্রিয় করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। ১৬ মার্চ সরকারি কৌঁসুলির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম তদন্তের নির্দেশ দেন। গত ১০ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

অভিযোগপত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলী, ছেলে আবদুল হাই, মেয়ের জামাই আবদুল কাদির (৫৫), মেয়ে রুজিনা কাদির (৪৮) মৌলভীবাজারের রাজনগরের বাসিন্দা দেওয়ান মোস্তাক মজিদসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

গত ১০ আগস্ট অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করে ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানা পেয়েই ওই দিন সন্ধ্যায় রাগীব আলী ছেলেকে নিয়ে জকিগঞ্জ হয়ে ভারতের করিমগঞ্জে পালিয়ে যান।

আরও পড়ুন