প্রায় এক মাস আগে মিরপুরের শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের সামনে গাড়িচাপায় মারা যান কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মচারী আতাউর রহমান (৭৮) ও তাঁর স্ত্রী রওশন আরা বেগম (৬০)। এখন পর্যন্ত ওই গাড়ির চালক নাসিফ খান ও তাঁর বাবা গাড়ির মালিক আশিকুর রহমান গ্রেপ্তার হননি। পুলিশের দাবি, তাঁদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভোর ছয়টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে হাজি আশ্রাফ আলী মার্কেটের সামনের ফুটপাতে আতাউর রহমান তাঁর স্ত্রী রওশন আরা বেগম গাড়িচাপায় নিহত হন। রওশন আরার পোশাক গাড়ির বাম্পারে আটকে যায়। গাড়িটি তাঁকে অন্তত ২০ গজ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়।
আতাউর ও রওশন ৯২১ পূর্ব শেওড়াপাড়ায় থাকতেন। রওশন আরা ছিলেন গৃহিণী। নিহত দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, কাজীপাড়ার দিক থেকে অ্যালিয়েন মডেলের নীলরঙা টয়োটা গাড়িতে তিন থেকে পাঁচ যুবক ছিলেন। তাঁরা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে মনে হয়েছে। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে বের হয়ে যান যাত্রীরা। ঘটনার পর গাড়ির ভেতর থেকে মদের বোতলসহ কয়েকটি ভাঙাচোরা বোতল উদ্ধার করা হয়। গাড়িটির মালিক আশিকুর রহমান খান পেশায় একজন ঠিকাদার। দুর্ঘটনার সময় তাঁর ছেলে নাসিফ খান ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু গাড়িতে ছিলেন। এ ঘটনায় কাফরুল থানায় মামলা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস আহম্মদ বলেন, নাসিফ ও আশিকুরকে গ্রেপ্তারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। তাঁরা যাতে পালাতে না পারেন, এ জন্য দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এসআই ফেরদৌস আহম্মদ বলেন, তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, ঘটনার সময় নাসিফ নিজেই গাড়িটি চালাছিলেন। গাড়ি থেকে বেরিয়ে নাসিফ ৬৪৬ নম্বর শাহীনবাগের বাসায় যান। সেদিন সকালে আশিকুর রহমানের পুরো পরিবার ওই বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া ফ্ল্যাটে তালা লাগিয়ে সরে পড়ে।
গতকাল সোমবার আশিকুর রহমানের ফ্ল্যাটটি আগের মতো তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে। ফ্ল্যাটের মালিক তানজিল হোসেন বলেন, আশিকুর রহমান পাঁচ বছর ধরে তাঁর ফ্ল্যাটে ভাড়া আছেন। ফ্ল্যাটটির বর্তমানে মাসিক ভাড়া ২৫ হাজার টাকা। ঘটনার দিন থেকে তিনি সপরিবারে নিরুদ্দেশ রয়েছেন। ভাড়ার টাকাও পরিশোধ করছেন না। তালাবদ্ধ থাকায় ফ্ল্যাটের ভেতরের মালামালও সরানো যাচ্ছে না।
আতাউর রহমান ও রওশন আরার ছেলে মো. রায়হান বলেন, পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে খুব দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। তবে এই মামলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই মনে হচ্ছে।


