বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

এনজিওর লাইসেন্স বাতিলের আইন অপ্রত্যাশিত: অ্যাকশন এইড প্রধান

maxresdefaultসাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিলে, এনজিওর লাইসেন্স বাতিল হবে; এমন বিধান রেখে সম্প্রতি পাস হওয়া আইনের সমালোচনা করেছেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, অ্যাকশন এইডের প্রধান নির্বাহী আদ্রিয়ানো ক্যাম্পোলিনার।

বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, বায়বীয় কারণে এনজিওর লাইসেন্স বাতিল করা হলে, সেটি হবে মানুষের অধিকার খর্বের শামিল। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে, বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে জোর দাবি তোলারও পরামর্শ দেন তিনি।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার অংশিদার হয়ে বাংলাদেশ অ্যাকশন এইড যাত্রা শুরু ৩৩ বছর আগে। এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি টাকার নানা উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত। সম্প্রতি বাংলাদেশে পাশ হয়েছে বৈদেশিক রেগুলেশন বিল ২০১৬। যার একটি অংশ বলা হয়েছে, কোন সাংবিধানিক সংস্থার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দিলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে এনজিওর। এ নিয়ে দেশের বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলোর রয়েছে ভিন্ন মত। বাংলাদেশে ঘুরে যাওয়া যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংস্থার প্রধান বলছেন সরকারের এই সিদ্ধান্তটি তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত। যা তার সংস্থাটির ৪৭টি দেশের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে একেবারেই ভিন্ন।

অ্যাকশন এইডের প্রধান নির্বাহী আদ্রিয়ানো ক্যাম্পোলিনার ভাষায়, “আপনি কিভাবে অশালীন কিংবা অনভিপ্রেত বক্তব্য ঠিক করবেন। সেটা নির্ধারণ করাও তো প্রশ্নসাপক্ষে ব্যাপার। এমন নিয়ম কোন মতেই গ্রহনযোগ্য নয়। দরিদ্র মানুষের অধিকার ক্ষুন্ন হবে এ আইনের ফলে।”

বিশ্বব্যাংকের হিসেবে দেশের হত দরিদ্রে মানুষের সংখ্যা ৬ বছরে কমে দাড়িয়েছে ১২.৯ শতাংশে। যদিও দেশে এখনো দরিদ্র মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ। দারিদ্রমুক্ত সমাজের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপি কাজ করা অ্যাকশন এইডের প্রধানের কাছে প্রশ্ন ছিলো কিভাবে বাংলাদেশ জিততে পারে দরিদ্রতার সাথে।

তিনি বলেন, “দরিদ্রতার সংজ্ঞা নির্ধারণ খুব কষ্টকর। আয়ের ওপর দরিদ্রতা নিরুপন করা সম্ভব নয়। ইতিহাস বলে অনেক দেশ বড় বড় সিদ্ধান্তের ফলে মুক্ত হয়েছে এর থেকে। বাংলাদেশও একসময় দরিদ্র মুক্ত হবে বলে আমি আশা করি। তবে, সেজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, জোর চাওয়া আর সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।”

ব্রাজিলের নাগরিক আদ্রিয়ানো কাম্পোলিনো পাঁচ দিনের সফরে ঘুরেছেন দেশের দক্ষিনাঞ্চলের কয়েকটি উপজেলা। দেখেছেন কল্যানপুরের পোড়া বস্তি, ডেমরার চনপাড়া এলাকা।

আদ্রিয়ানোর মতে উন্নত বিশ্বের দূষনের শিকার হয়ে বাংলাদেশের উপকুলীয় জনগণকে মূখোমূখি হতে হচ্ছে বন্যা জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রকৃতিক দূর্যোগের।

আদ্রিয়ানো ক্যাম্পোলিনা বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষগুলো অন্য দেশের দুষনের শিকার, তারা কেন এটা ভোগ করবে ? বাংলাদেশের উচিত নিজেদের ক্ষতি বিশ্ব দরবারের তুলে ধরা। ইউরোপ, আমেরিকার কাছে ক্ষতিপুরণ চাওয়া। দক্ষিন এশিয়ার আরো কয়েকটি দেশ মিলে একজোট হয়ে দাবি জোরালো করার সময় এসেছে।

বহু মানুষকে সম্পৃক্ত করে এমন উন্নয়ন কাজের ওপর জোর দিয়ে অ্যাকশন এইডের প্রধান নির্বাহী বললেন টাকার অংকে বড় প্রকল্প যেন উন্নয়ন মাপকাঠি না হয়।

আরও পড়ুন