বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পারলো না বাংলাদেশ, হারলো ইংল্যান্ডের কাছে

পারলো না বাংলাদেশ, হারলো ইংল্যান্ডের কাছেজয়ের জন্য ইংল্যান্ডের তখন ২১ বলে ২১ রান প্রয়োজন। হাতে আছে চার উইকেট। তাসকিন আহমেদের বল ক্রিস ওকসের ব্যাটে লেগে চলে গিয়েছিল স্লিপে। কিন্তু সহজ ক্যাচটা তালুবন্দি করতে পারেননি ইমরুল কায়েস। সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল হয়নি ইংল্যান্ডের। তৃতীয় ওয়ানডে ১৩ বল হাতে রেখেই চার উইকেটে ম্যাচ জিতে নিয়েছে অতিথিরা। ২-১ ব্যবধানে জিতেছে সিরিজও। তাই বাংলাদেশের টানা সপ্তম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন পূর্ণ হলো না।

তবে স্বাগতিকদের জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ইনিংসের ৪১ ও ৪৩তম ওভারে দলকে জোড়া সাফল্য উপহার দিয়েছিলেন তিনি। প্রথমে বোল্ড করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলারকে (২৫)। বাংলাদেশ অধিনায়কের পরের ওভারে মইন আলীও (১) ক্যাচ দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহকে। কিন্তু বেন স্টোকস আর ওকসের দৃঢ়তা জয় এনে দিয়েছে ইংল্যান্ডকে। স্টোকস ৪৭ আর ওকস ২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।

এর আগে বাংলাদেশকে জোড়া সাফল্য এনে দিয়েছিলেন শফিউল ইসলামও। এই পেসারের বলে বোল্ড হওয়ার আগে জনি বেয়ারস্ট্রো করেছেন ১৫ রান। শফিউলের পরের ওভারে আবার আঘাত। স্কুপ করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়েছেন বেন ডাকেট (৬৩)।

সিরিজে প্রথমবারের মতো খেলতে নামা স্যাম বিলিংসের সাবলীল ব্যাটিং একসময় দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের দুশ্চিন্তা দূর করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। মোসাদ্দেকের বল সুইপ করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ইমরুল কায়েসের হাতে ধরা পড়ার আগে বিলিংস করেছেন ৬২ রান। ওয়ানডেতে এটাই তাঁর প্রথম অর্ধশতক।

জেমস ভিন্স ও বিলিংসের উদ্বোধনী জুটিও অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। তবে বল হাতে পেয়ে নিজের প্রথম ওভারেই ভিন্সকে (৩২) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেছেন নাসির হোসেন। ৬৩ রানে উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যাওয়ার পর দলকে ভালোভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন বিলিংস ও ডাকেট। ঠিক তখনই মোসাদ্দেকের সৌজন্যে দ্বিতীয় সাফল্য পেয়েছে মাশরাফির দল।

চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল দারুণ। আগের ম্যাচে চার উইকেট নেওয়া অধিনায়ক মাশরাফির প্রথম ওভারই ছিল মেডেন। কিন্তু শেষটা ভালো না হওয়ায় সিরিজ হারের বেদনায় ভারাক্রান্ত পুরো বাংলাদেশ।

এর আগে মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ৬৭ রানের চমৎকার ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে ২৭৭ রান করেছিল বাংলাদেশ। দলকে ভালো সংগ্রহ এনে দিতে সাব্বির রহমান (৪৯), ইমরুল কায়েস (৪৬), তামিম ইকবাল (৪৫) ও মোসাদ্দেক হোসেনের (অপরাজিত ৩৮) অবদানও কম নয়।

বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তামিম। আরেকটি কীর্তিও গড়েছেন চট্টগ্রামের ‘ঘরের ছেলে’। ইমরুল কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী জুটি গড়েছেন তিনি। দুই বাঁ-হাতি ওপেনারের ৮০ রানের রেকর্ড জুটির পর একসময় অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছিল মাশরাফির দল। কিন্তু মুশফিক-মোসাদ্দেকের ৮৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দিয়েছিল স্বাগতিক দলকে।

আরও পড়ুন