বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মোহাম্মদপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ খারিজ

মোহাম্মদপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ খারিজঅভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পাঁচজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে করা নালিশি মামলার অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ তথ্য জানান মামলার বাদী কুতুব উদ্দিন আহমেদের আইনজীবী মাহবুব হাসান রানা। বলেন, এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন করবেন কুতুব উদ্দিন আহমেদ।

এর আগে রোববার সকালে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী মোহাম্মদপুর থানার ওসিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালতে নালিশি মামলায় অভিযোগ করেন। আদালত আইনজীবী কুতুব উদ্দিন আহমেদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা হলেন- মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজীব, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. খোরশেদ, মো. মামুন হোসেন ও মো. সোহেল।

বাদীর আইনজীবী মাহবুব হাসান রানা বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ঢাকার মহানগর হাকিম খোরশেদ আলমের আদালতে কুতুব উদ্দিন আহমেদ মামলা করেছেন। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

নালিশি মামলার এই আরজিতে বাদী অভিযোগ করেছেন, মোহাম্মদপুরের ৩৪৯/এ জাফরাবাদ (সংকর) বাসাটি তার নিজের। ৯ অক্টোবর বিকেলে বাসার ঢুকতে গেলে আসামি মামুন হোসেন ও মো. সোহেল তাকে বাধা দেন।

তারা নিজেদের মোহাম্মদপুর থানার লোক পরিচয় দিয়ে বলেন, ওসির সঙ্গে কথা না বলে কুতুব উদ্দিনকে বাসায় ঢুকতে দেওয়া সম্ভব নয়। এরপর বাদী মোহাম্মদপুর থানার ওসিকে ফোন দিলে ২০ মিনিটের মধ্যে এসআই রাজীব ও খোরশেদ ঘটনাস্থলে আসেন। পরে মোহাম্মদপুর থানার ওসি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ডেকে নেন এবং তার কাছে ৪৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে রাত আটটায় বাদী দুই লাখ টাকা ওসির কাছে জমা দেন। সাদা কাগজেও তার জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ ঘটনা কাউকে বললে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে রিমান্ডে এনে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেছেন, আইনজীবী কুতুব উদ্দিন আহমেদ যে অভিযোগ এনেছেন, তা পুরোপুরি মিথ্যা। বরং ৯ অক্টোবর কুতুব উদ্দিন আহমেদ ওই বাড়ি জোর করে দখল করতে আসেন এবং কয়েকজনকে মারধর করেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলাও হয়েছে। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

কুতুব উদ্দিন আহমেদ তার আরজিতে বলেছেন, ওই বাসার আসল মালিক ছিলেন তার মা জোবেদা আহমেদ। জোবেদা আহমেদ দখলে থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালের ৮ মার্চ কুতুব উদ্দিন আহমেদের নামে হেবা দলিল করে দেন। এই আটতলা ভবন সংস্কারের জন্য তিনি ভাড়া বাসায় থাকেন। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ায় ৯ অক্টোবর তিনি মালামাল নিয়ে বাসায় উঠতে যান।

আরও পড়ুন