প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, শাসন বিভাগের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই বাংলাদেশে বিচার বিভাগ কাজ করছে। এস কে বলেন, “আগে সকলেই বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক সরকারের অঙ্গ হিসেবে মনে করতেন। প্রকৃত অর্থে বিচার বিভাগ হচ্ছে রাষ্ট্রের অঙ্গ এবং এখন হান্ড্রেড পার্সেন্ট স্বাধীনতা নিয়ে বিচার বিভাগ কাজ করছে।”
প্রধান বিচারপতি বলেন, “সরকারের কোনো পর্যায় থেকেই কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের ঘটনা নেই। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধসহ স্পর্শকাতর সকল মামলা আইন অনুযায়ীই পরিচালিত হচ্ছে।”
রোববার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়ায় ক্লাব সনমে বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন দেশের সর্বোচ্চ এই বিচারপতি।
বিচার বিভাগের উপর সরকারের কর্তৃত্ব চলছে বলে বিএনপির অভিযোগের মধ্যে প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্য এল।
প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দিতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকান আইনজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের ভূমিকা’ শীর্ষক এ মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে।
বিচারপতি সিনহা নিজেও গত জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, “এখন এক্সিকিউটিভ (শাসন বিভাগ) আমাদের কাছ থেকে সবগুলো ক্ষমতা কেড়ে নিতে চাচ্ছে।”
বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে না বলে যারা অভিযোগ করছেন, তাদের বক্তব্য ‘রাজনৈতিক’ বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।
“রাজনৈতিক কারণে অনেকে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের অবতারণা করছেন। যদিও সেই রাজনীতিকরাও পুরো সুবিধা পাচ্ছেন নিজেদের মামলাতে, এটি সর্বজনবিদিত।”
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এখন কোনো কিছুই চেপে রাখা সম্ভব নয়। মিডিয়াগুলো সোচ্চার থাকায় আমরাও সঠিকভাবে কাজ করে তৃপ্তি পাচ্ছি।”
বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারায় বাংলাদেশে আর কখনও সামরিক শাসন আসবে না বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।
“বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন বলেই মার্শাল ল আর কখনও বাংলাদেশের মানুষের ওপর চেপে বসার সুযোগ পাবে না। আইন বিভাগ মার্শাল ল’কে চিরতরে কবর দিতে সক্ষম হয়েছে।”
রাষ্ট্রের অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো বিচার বিভাগেও ‘কিছু দুর্নীতি’ রয়েছে স্বীকার করে তা নির্মূলে কাজ চলছে বলে প্রবাসীদের জানান প্রধান বিচারপতি।
“বিভিন্ন সেক্টরের মতো বিচার বিভাগেও এখনও কিছু দুর্নীতি রয়েছে। এটি অস্বীকারের উপায় নেই। তবে এর অবসানে আমরা সকলে আন্তরিক অর্থেই সচেষ্ট।”
মামলাজট খুলতেও নিজের তৎপরতার কথা জানান বিচারপতি সিনহা।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মোর্শেদা জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিচারপতি আবুল তারেক, বিচারপতি এম আর হাসান, সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, আইনজীবী অশোক কর্মকার, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ল’ সোসাইটির সেক্রেটারি এম এ ওয়াহিদের নেতৃত্বে অইনজীবীরা প্রধান বিচারপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্যে প্রধান বিচারপতিকে ক্রেস্ট উপহার দেন মোর্শেদা জামান।
শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ঠিকানার প্রেসিডেন্ট ও সিইও সাঈদ-উর রব এবং চেয়ারম্যান সাবেক এমপি এম এম শাহীন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এস কে সিনহা। নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান ও বাংলাদেশ ল’ সোসাইটির নেতারা প্রধান বিচারপতিকে স্বাগত জানান।
বুধবার ঢাকায় ফেরার আগে প্রধান বিচারপতি বস্টনে তার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করবেন।


