রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » বিদেশ » মুসলিমদের টার্গেট করে নির্যাতন করছে মিয়ানমারের সেনারা
বিশেষ নিউজ

মুসলিমদের টার্গেট করে নির্যাতন করছে মিয়ানমারের সেনারা


NEWSWORLDBD.COM - October 18, 2016

‘সেনারা এসে রোহিঙ্গাদের প্রতিটি বাড়িতে তল্লাশি করছে। যদি সন্দেহ হয় তাদের কেউ রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের সঙ্গে জড়িত- তাহলে সে বাড়ি পুড়িয়ে দিতে দ্বিধা করছে না সেনারা। বাড়ি থেকে কাউকে বের হতে দেখলেই গুলি চলে। সেনারা শুধু বাড়ি পুড়িয়েই ক্ষান্ত হচ্ছে না। বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার পর তাদের খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে বাধ্য করছে।’

গত এক সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যে সংঘাত চলছে, সেটিকে এভাবেই বর্ণনা করছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা।

বাংলাদেশের ভেতরে অবৈধভাবে যেসব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আছে তাদের অনেকের সাথেই সীমান্তের অপর পাড়ে রোহিঙ্গাদের যোগাযোগ আছে। বাংলাদেশের মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক মিয়ানমার সীমান্তের ভেতর কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ করে।

টেলিফোনের মাধ্যমে এপারের রোহিঙ্গারা খবর পাচ্ছেন যে, মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনী সেখানকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।

রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতে রোহিঙ্গা মুসলমান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছেই যেখানে সহিংসতা হচ্ছে, সে জায়গাটিতে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী।

খবর পাওয়া যাচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর ব্যাপক নির্যাতন ও ধরপাকড় চলছে।

সংঘাতের শুরুটা হয়েছিল বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বার্মার সীমান্তরক্ষীদের কয়েকটি ঘাঁটিতে হামলার পর। ওই হামলায় নয়জন সীমান্তরক্ষী নিহত হয়।

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ওই হামলার জন্য রোহিঙ্গা মুসলিমদের দায়ী করে। তারপর থেকেই শুরু হয় চিরুনি অভিযান।

বাংলাদেশের মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা হারুন শিকদার বলেন, সীমান্তের ওপারে হেলিকপ্টার ওঠানামা দেখে তারা ধারণা করছেন বার্মার নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। বার্মায় সংঘাতের কারণে নাফ নদীতে বাংলাদেশি জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে।

টেকনাফের উলুবুনিয়া এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গা ওসমান গনি জানান, তার ভাই বার্মায় বসবাস করছেন। টেলিফোনে ভাইয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল।

তিনি জানান, সেনারা এসে তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। এখন তিনি বাংলাদেশ সীমানার কাছেই জঙ্গলে লুকিয়ে আছেন। বার্মার নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাড়ি-বাড়ি তল্লাশি করছে।

দোভাষীর সাহায্যে ওসমান গনি বলেন, ‘সেনারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের টার্গেট করেছে। নাসাকা (বার্মার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুরনো নাম) এসে বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। দুই দিনে ১০০-এর মতো ঘর পুড়িয়েছে তারা।”

উলুবুনিয়া এলাকায় বসবাসরত আরেক রোহিঙ্গা মুসলিম জানান, গত শুক্রবার তার ভাইয়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। ভাইয়ের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে সেনারা অন্তত তিনটি গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে। এসব গ্রামে মূলত রোহিঙ্গা মুসলমানদের বসবাস।

মিয়ানমার থেকে অনেকেই সীমান্তে বৈধ অনুমতি নিয়ে চিকিৎসা এবং অন্যান্য কাজের জন্য বাংলাদেশে আসেন। কিন্তু সম্প্রতি সহিংসতা শুরুর পর সেখান থেকে আসা যাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

বার্মার নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, তাদের ওপর আক্রমণের জন্য রোহিঙ্গাদের একটি সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন দায়ী। এ সংগঠনটি বাংলাদেশের ভেতর থেকে তৎপরতা চালায় বলে বার্মার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে বাংলাদেশ বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করছে।

গতবছর বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী মিয়ানমারের আরেকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে সীমান্তে জোরালো অভিযান চালিয়েছিল।

টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল-জাহিদ বলেন, মিয়ানমারে যেদিন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা হয়েছে সেদিন থেকেই তারা সীমান্তে টহল জোরদার করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা ধারণা করেছিলাম, যদি এ রকম ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে সন্ত্রাসীরা নিরাপদ একটা আশ্রয়ের যাওয়ার চেষ্টা করবে। সেক্ষেত্রে হয়তো বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে তারা লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করতে পারে। এটা আমরা ধারণা করেছিলাম। সে অনুযায়ী আমরা নিজেরাই ব্যবস্থা গ্রহণ করি। পরে বার্মার কাছ থেকেও এ ধরনের অনুরোধ আসে।

মিয়ানমারে যখনই কোনও সহিংসতা হয় তখন সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাংলাদেশে প্রবেশের প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম।

লে. কর্নেল আবুজার আল-জাহিদ বলেন, বার্মায় সংঘাতের কোনও প্রভাব বাংলাদেশে পড়েনি। সেখানে সম্প্রতি সংঘতা শুরুর পর কেউ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করেনি।
-বিবিসি বাংলা অবলম্বনে তৈরি প্রতিবেদন।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.