আরমান হোসেন টুটুল, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
এশিয়ার সবচেয়ে বড় এবং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২৫ অক্টোবর শুরু হচ্ছে । ১৯৮৫ সালে যাত্রা শুরু করা চলচ্চিত্র উৎসবের এবারের ২৯তম আয়োজনে সারা বিশ্বের ৯৮টি দেশ ও ভূখণ্ড থেকে জমা পড়া ১ হাজার ৫০২টি ছবির মধ্য থেকে বাছাই করা শ দুয়েক ছবি বিভিন্ন বিভাগের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বাইরে দর্শকদের জন্যও দেখানো হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত বিভাগ ‘আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা’র জন্য নির্বাচিত ১৬টি ছবি শ্রেষ্ঠ ছবির সর্বোচ্চ পুরস্কার টোকিও গ্রাঁ প্রির বাইরে শৈল্পিক অবদান, শ্রেষ্ঠ পরিচালক, অভিনেতা ও অভিনেত্রী এবং সেই সঙ্গে আরও কয়েকটি পুরস্কারের জন্য প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হচ্ছে।
ফ্রান্সের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক জাঁ জাক বেনিয়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আন্তর্জাতিক জুরিবোর্ড উৎসব চলাকালীন ১৬টি ছবির বিস্তৃত মূল্যায়ন শেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করবেন। উৎসবের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিভাগ হচ্ছে ‘এশিয়ান ফিউচার’, যে বিভাগে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বাছাই করা ১০টি ছবি অংশ নিয়ে থাকে। ভিন্ন বিচারকমণ্ডলী এর মধ্য থেকে একটি ছবিকে শ্রেষ্ঠ ছবি হিসেবে বেছে নেবেন। এশিয়ার তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে এশিয়া মহাদেশজুড়ে সুষ্ঠু চলচ্চিত্র নির্মাণে সহায়তা করতে কয়েক বছর আগে উৎসব কমিটি এই বিভাগটি অন্তর্ভুক্ত করে। নভেম্বর মাসের ৫ তারিখে উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ১০ দিন ধরে চলা চলচ্চিত্র উৎসব।
২০১৪ সালের আয়োজন থেকে টোকিও চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গে যুক্ত নতুন যে অভিনব একটি বিশেষ আয়োজন বিশ্বজুড়ে শিল্পানুরাগীদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হচ্ছে, সেটা হলো ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ কালের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের উপযোগী করে নেওয়া অতীতের কিছু বিখ্যাত ছবি জাপানের কাবুকি থিয়েটারের সঙ্গে যুগলবন্দীতে দেখানো। টোকিওর বিখ্যাত কাবুকি থিয়েটার হল কাবুকিযায় আয়োজিত এক দিনের সেই বিশেষ অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছিল চার্লি চ্যাপলিনের বিখ্যাত ছবি সিটি লাইটস-এর প্রদর্শনীর আগে চ্যাপলিনের প্রিয় একটি কাবুকি নাটকের মঞ্চ উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে। গত বছরের দ্বিতীয় আয়োজনে দেখানো হয় আকিরা কুরোসাওয়ার তৈরি প্রথম দিকের হারিয়ে যাওয়া একটি ছবি। উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে কাবুকির মঞ্চায়নে অংশ নিয়ে থাকেন জাপানের নেতৃস্থানীয় কাবুকি অভিনেতারা।
এবারের তৃতীয় আয়োজনে দেখানো হবে তাকাতানোবাবায় রক্তপাত নামে ১৯২৮ সালে নির্মিত জাপানি একটি ছবি। চুশিঙ্গুরা নামে পরিচিত জাপানে সেই সময়ে খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ধ্রুপদি কাহিনির চিত্রায়ণ বিভাগের সেই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাপানি ছায়াছবির জগতের প্রথম তারকা অভিনেতা দেনজিরো ওকোচি। পরিচালক দাইসুকে ইতোর সেই ধারাবাহিক চুশিঙ্গুরা নির্বাক ছায়াছবির যুগে চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। বেনশি নামে পরিচিত পেশাদার ধারাবর্ণনাকারীদের কথা বলার মধ্য দিয়ে নির্বাক যুগে প্রেক্ষাগৃহে ছবির প্রদর্শনীর আয়োজন করা হতো। অতীতে সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে চলচ্চিত্র উৎসবের এবারের সেই আয়োজনেও বেনশি অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। এতে কণ্ঠ দিচ্ছেন জাপানে টেলিভিশনের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ইচিরো ফুরুতাচি।
কাবুকি মঞ্চায়নের জন্য এবারের নির্বাচিত নাটকটি হচ্ছে সাগি মুসুমে বা সারস-কন্যা। বিখ্যাত কাবুকি অভিনেতা ওনোয়ে কিকুনোসুকে এতে ওন্নাগাতা বা নারীর ভূমিকায় পুরুষ অভিনেতার পরিবেশনায় নাচের উপস্থাপনা দেখাবেন।


