জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের কারও নেতৃত্বে আসার সময় ও সুযোগ এখনই এবং সেই সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৬ সাল থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম অবশ্যই রাজনীতিতে আসতে পারে। নতুন নেতৃত্ব আসা মানে নতুন কিছু চিন্তা করা। নতুন কিছু সৃষ্টি করা। নতুন কিছু পরিকল্পনা করা ও নতুন সংকল্প।’
মঙ্গলবার ২১ বেইলি রোডে তার সরকারি বাসভবনে এসব কথা বলেন তিনি।
আগামী ২২/২৩ অক্টোবর দলের বিশতম জাতীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয়ে জনপ্রশাসনমন্ত্রী খোলামেলা কথা বলেন। রাজনৈতিক পরিবারের এই সন্তান রাজনীতিতে যুক্ত হন ছাত্রলীগ দিয়ে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ২০০২ সালে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরপর ২০০৯ সালে এবং ২০১২ সালে টানা দুবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কারাবন্দি শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনকে বেগবান করেন এই নেতা। ওই সময়ে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং দলে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়। তখন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামী লীগকে নিশ্চিত ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেন। এরপর ২০০৯ সালের সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা তাকে পুরস্কৃত করেন। দায়িত্ব পান স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েরও। এর আগে ১৯৯৬ সালের সরকারে তিনি বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
যুক্তরাজ্যে থাকাকালে তিনি সক্রিয়ভাবে লেবার পার্টির রাজনীতি করেছেন। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট-পরবর্তী দীর্ঘ সময় তিনি যুক্তরাজ্যে প্রবাস জীবন কাটান। ১৯৭৬ সালে তার পাসপোর্ট বাতিল করা হয়। ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি পাসপোর্ট ফিরে পান। যুক্তরাজ্যে থাকাকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিরুদ্ধে প্রবাসীদের সোচ্চার করেন অস্থায়ী রাষ্ট্র্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফ।
আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনে দু’বার সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। আবারও কি হতে চান? জবাবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, সাধারণ সম্পাদক পদে কে আসবেন, না আসবেন সেটা কাউন্সিলররা ঠিক করবেন। সাধারণ সম্পাদক না হলেও দলের জন্য কাজ করে যাবো।
দলের সভাপতি শেখ হাসিনা আর সভাপতির পদে থাকতে চাচ্ছেন না, এ সম্পর্কে আপনার কী অভিমত? আশরাফুল বলেন, দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে সভাপতি হিসেবে অন্তত আরেকবার দরকার।
সবাই আপনাকে দলের ‘ক্রাইসিস ম্যান’ হিসেবে মনে করে। জানতে চাই, আপনার ভেতরে জাদুকরি এমন কী আছে? উত্তরে সৈয়দ আশরাফুল বলেন, কোনও ‘ক্রাইসিসে’ আমি বিচলিত হই না। শান্তি, সৃজনশীলতা, ক্রিয়েটিভিটি আমি পছন্দ করি। তাই যেকোনও ক্রাইসিস মুহূর্তে আমার ভেতরে এগুলোর সম্মিলন ঘটে, আর উৎরেও যাই।


