বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ক্ষমা চাইল পুলিশের দুই কর্মকর্তা

মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ায় চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রণজিৎ বড়ুয়া ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবছার উদ্দিন আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার এএসআই আবছার আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই ঘটনায় ওসি রণজিৎ বড়ুয়াও লিখিতভাবে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। যুগ্ম চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মোসাম্মৎ বিলকিস আক্তার এএসআই আবছারকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দেন।

মামলা পরিচালনাকারী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) তুহিন গাঙ্গুলি বলেন, পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন। এ মামলায় একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালত গত এপ্রিলে সমন জারি করেন। কিন্তু থানা থেকে সমনটি ফেরত আসায় আদালত গত ২৮ জুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বাদীর বিরুদ্ধে। সাক্ষীকে পাওয়া যায়নি এবং ওই নামের কোনো ব্যক্তি নেই উল্লেখ করে পাহাড়তলী থানার এএসআই আবছার আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। এতে স্বাক্ষর করেন পাহাড়তলী থানার ওসি রণজিৎ বড়ুয়া।

গত ২৮ আগস্ট বাদী মাহবুবুর রহমান আদালতে হাজির হয়ে জানান, তাঁর বাড়িতে পুলিশ যায়নি। তিনি কোনো সমনও পাননি। ওই দিন আদালত পাহাড়তলী থানার ওসি রণজিৎ বড়ুয়াকে লিখিতভাবে ও এএসআই আবছারকে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ ব্যাখ্যা দিতে বলেন।

আজ বৃহস্পতিবার লিখিত বক্তব্যে এএসআই আবছার আদালতকে জানান, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এবং তাঁদের বিশ্বাস করে সাক্ষী মাহবুবুর রহমানকে পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে ওসি রণজিৎ বড়ুয়া ক্ষমা প্রার্থনা করে এএসআই আবছারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।

পিপি তুহিন গাঙ্গুলি আরও বলেন, আদালত ওসি ও এএসআইয়ের কাছে কারণ ব্যাখ্যা চাওয়ায় গত ২৯ আগস্ট বাদীর বাড়িতে গিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করার হুমকি দেন এএসআই আবছার। এ বিষয়ে বাদী আজ বৃহস্পতিবার লিখিতভাবে আদালতে অভিযোগ দেন। আদালত এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাঠগড়ায় থাকা এএসআই আবছার অভিযোগটি সত্য নয় বলে জানান।

আরও পড়ুন