ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিতর্কিত স্ট্যাটাস দেওয়ায় কাস্টমস কর্মকর্তা সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র মোতাকাব্বির খান প্রবাস শাহবাগ থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মামলার বাদি মোতাকাব্বির খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস আর বাংলাদেশের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সুশান্ত পাল এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ছোট করতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট লেখা লিখেছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের হেয় করা হয়েছে।’
৩০তম বিসিএসের মাধ্যমে কাস্টমসে যোগ দেন সুশান্ত পাল। গত ২০ অক্টোবর তিনি ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিতর্কিত স্ট্যাটাস দেন। এরপর তাকে নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ লেখা পোস্ট করেন ৩০তম বিসিএসের প্রথম সুশান্ত পাল। এর পরই ফেসবুকে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তীব্র প্রতিবাদ আর ক্ষোভের মুখে পড়ে পোস্টটি ফেসবুক থেকে মুছে ফেলেন সুশান্ত। পরে ক্ষমা চেয়ে আরেকটি পোস্ট দেন কাস্টমসের এই কর্মকর্তা। তাতে তিনি লিখেন, ‘আমার সাম্প্রতিক একটা পোস্ট নিয়ে অনেকেই খুব আহত হয়েছেন। আমি নিজেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। আমি অনার্স করেছি চুয়েট থেকে, মাস্টার্স ডিইউ থেকে। তাই, ডিইউ নিয়ে আমার ভালোবাসা আর আবেগের জায়গাটা চুয়েটের চাইতে কোনো অংশেই কম নয়। আমি কীভাবে ডিইউ’কে ছোট করতে পারি!?’
‘আমার লেখাটি আমি রিমুভ করে দিয়েছি। সবাই ভুল বুঝছে—এ বোধ থেকে লেখাটি সরিয়ে ফেলিনি, আমি যা লিখেছি, তা লেখা আমার ঠিক হয়নি—এটা খুব ভালোভাবে বুঝে লেখাটি সরিয়ে ফেলেছি।’
‘আমি না বুঝে ভুল করেছি। যারা আমার লেখায় মনে কষ্ট পেয়েছেন, বিরক্ত বা বিব্রত হয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমি বিনীতভাবে ক্ষমা চাইছি’।
‘ভবিষ্যতে আর কখনোই এমন ভুল হবে না, কথা দিচ্ছি’, বলেও লিখেন তিনি।


