সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় কেরালকাতা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) স্থগিত কেন্দ্রে ভোটের প্রচারের সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ‘আতঙ্কিত’ হয়ে মারা যান এক বৃদ্ধা। সংঘর্ষে আটটি বাড়িঘর ভাঙচুর হয়। এ সময় চারজন আহত হয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার রাতে ইউনিয়নের বলীয়ানপুর গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া বৃদ্ধার নাম ফাতেমা বেগম (৮৫)।
পুলিশ ও বৃদ্ধার এক ছেলে আবদুস সোবহান দাবি করেছেন, ফাতেমা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
অন্যদিকে বৃদ্ধার অন্য তিন সন্তান আবু সুফিয়ান, গোলাম হোসেন ও ফারুক হোসেন দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকরা ধাক্কা দিলে ফাতেমা পড়ে গিয়ে মারা যান।
ইউনিয়নের একমাত্র স্থগিত কেন্দ্র বলীয়ানপুরে আগামী ৩১ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই কেন্দ্রকে ঘিরে নিয়মিত প্রচারকাজ করছেন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী স ম মোরশেদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) আবদুল হামিদ।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ শেখ জানান, গতকাল রাতে বলীয়ানপুর গ্রামে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আওয়ামী লীগের স ম মোরশেদ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল হামিদের সমর্থকরা প্রচার চালাচ্ছিল।
এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল হামিদের সমর্থক আবু সুফিয়ানদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন ফারুক হোসেন ও তাঁর স্ত্রী ফজিলাতুননেসা, আনোয়ারুল ইসলাম, বুলবুলিসহ চারজন।
ওসি এমদাদ জানান, মারামারির সময় আবু সুফিয়ানের মা ফাতেমা খাতুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
তবে আবু সুফিয়ান, তাঁর ভাই গোলাম হোসেন ও ফারুক হোসেনের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে ফাতেমা মারা যান।
তবে ফাতেমা খাতুনের আরেক ছেলে আবদুস সোবহান বলেন, ‘ফাতেমা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।’
এদিকে হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী স ম মোরশেদ। তিনি বলেন, ‘হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
ওসি এমদাদ শেখ জানান, আবু সুফিয়ান এ বিষয়ে থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। সেটি প্রক্রিয়াধীন।
গত ২২ মার্চ কেরালকাতা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংঘর্ষের কারণে বলীয়ানপুর কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এখন পর্যন্ত স ম মোরশেদ পেয়েছেন চার হাজার ৫৬৯ ভোট ও আবদুল হামিদ পেয়েছেন চার হাজার ৬৫২ ভোট। স্থগিত বলীয়ানপুর কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ১০৫।


