বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পপুলার হাসপাতালে নারী রোগীর ইউরিন টেস্টের ভিডিও নিয়ে তোলপাড়

পপুলার হাসপাতালে নারী রোগীর ইউরিন টেস্টের ভিডিও নিয়ে তোলপাড়ধানমণ্ডি পপুলার ডায়গনস্টিক হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসে বিপাকে পড়েছেন এক মহিলা রোগী। ওই রোগী ইউরিন পরীক্ষার আগে হাসপাতালের ওয়াশরুমে গেলে গোপনে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে হাসপাতালের টেলিফোন অপারেটর হাসিবুর রহমান সুমন (২৭)। এ ঘটনায় মোবাইলসহ সুমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার যুবকের মোবাইলে ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পেয়েছেন ধানমণ্ডি থানা পুলিশ। ঘটনার পর সুমনকে চাকরিচ্যুত করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ দায় এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন রোগীরা।

ভুক্তোভোগী মহিলা জানান, ‘সকাল ৭টার দিকে খিলক্ষেত থেকে গাইনি ডাক্তার দেখাতে পপুলারে আসেন। সঙ্গে মা এবং বোনও ছিল। ইউরিন পরীক্ষার আগে ওয়াশরুমে যাই। ভেতর থেকে টের পেলাম কেউ একজন মোবাইল দিয়ে ভিডিও করছে। এ অবস্থায় আমার চিৎকার শুনে আশপাশ থেকে লোকজন এসে ওই যুবককে হাতেনাতে ধরে ফেলে।’ পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানার এসআই খায়রুল ইসলাম বলেন, ভুক্তোভোগী মহিলা বাদী হয়ে পর্নগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ১৩। এসআই আরও বলেন, একটি স্যামসাং মোবাইল নিয়ে কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ধারণ করেছে সুমন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও ভিডিও ধারণের বিষয়টি স্বীকার করেছে সে। সুমনকে তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মোবাইলটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পপুলার হাসপাতালের সুমনের সহকর্মী আরেক টেলিফোন অপারেটর জানান, সকাল ৭টা থেকে শিফট ডিউটি শুরু হয়। সকালে চারজনের ডিউটি ছিল তাদের একজন সুমন। সে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে বের হয়। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। সুমন অবিবাহিত।

পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসিবুর রহমান সুমন তিন বছর ধরে পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টার ধানমণ্ডি শাখায় পিবিএক্স টেলিফোন অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিল। তার বাবার নাম মাহতাব উদ্দিন। গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থানার মহনপুর গ্রামে।

পপুলার হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মোসাদ্দেক হোসাইন বলেন, ‘বিকৃত চিন্তা থেকেই সুমন এ অপরাধ করেছে। আমরা তাকে হাতেনাতে ধরে থানায় হস্তান্তর করেছি। ইতিমধ্যে তাকে চাকরিচ্যুতও করা হয়েছে। এমন জঘন্য ঘটনার জন্য দায়ী সুমনের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।’

হাসপাতালের ম্যানেজার এডমিন অচিন্ত্য কুমার নাগ বলেন, ‘হাসপাতালের গোপন ক্যামেরায় মহিলা রোগীর ভিডিও ধারণের মিথ্যা সংবাদের কারণে চারদিকে তোলপাড় শুরু হয়। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, এর জন্য ব্যক্তি দায়ী। এখানে প্রতিষ্ঠানকে জড়ানো ঠিক হবে না।’

হাসপাতাল কর্মচারীর এমন ভিডিও ধারণের কথা শুনে পুরান ঢাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা তাবাসশুম নামের এক মহিলা রোগী যুগান্তরকে বলেন, এটা খুবই লজ্জাজনক। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এর দায় এড়াতে পারে না। অপরাধী ওই যুবকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরও সর্তক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, পপুলার হাসপাতালের তিন তলায় এ ঘটনা ঘটে। বাইরে থেকে ভেতরে ঢুকতে টেলিফোন অপারেটরদের বসার ডেস্ক। ডান পাশেই তথ্য ডেস্ক। এর কয়েক গজ ডানে মহিলা ও পুরুষদের পাশাপাশি ওয়াশরুম। সকালের দিকে হাসপাতালে লোকজন কম থাকায় সুযোগটি নেয় অপারেটর সুমন। ওয়াশরুমের নিচ দিয়ে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করে সে।

ধানমণ্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, টেলিফোন অপারেটর সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, নিজের বিকৃত চিন্তা থেকেই সে ওই মহিলার ভিডিও ধারণ করেছে নাকি নেপথ্যে পর্নগ্রাফি চক্রের কেউ জড়িত রয়েছে।

আরও পড়ুন