বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ‌্য সরকারের দৌড় থমকে গেল আদালতে

ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ‌্য সরকারের দৌড় থমকে গেল আদালতেপার্লামেন্টে ভোট ছাড়াই ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার যে চেষ্টা যুক্তরাজ‌্য সরকার করে আসছিল, তা আটকে গেছে আদালতে।

বৃহস্পতিবার হাই কোর্ট এক রায়ে বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর আগে সরকারকে অবশ‌্যই পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে হবে।

বিবিসি লিখেছে, আদালতের এই রায়ের ফলে ব্রিটিশ সরকার কেবল নিজেদের সিদ্ধান্তে লিসবন ট্রিটির আর্টিকেল-ফিফটি প্রয়োগ করে ইইউ থেকে বিচ্ছেদের দর কষাকষি শুরু করতে পারবে না।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্তের কথা এরই মধ‌্যে জানিয়ে দিয়েছে সরকার।

গত জুনে ঐতিহাসিক গণভোটে যুক্তরাজ্যের জনগণ জানিয়ে দেয়, ২৮ দেশের ইউরোপীয় পরিবারের সঙ্গে ঘর করতে তারা আর রাজি নয়। তাদের সেই সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনৈতিক গতিধারায় বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিতে পারে বলে সতর্ক করে আসছেন বিশ্ব নেতারা।

গণভোটে অপ্রত‌্যাশিত ওই ফলের পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে যান ডেভিড ক্যামেরন। ব্রেক্সিট সঙ্কটে ব্রিটিশ কাণ্ডারির দায়িত্ব নেন কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা টেরিজা মে।

তিনি বলে আসছিলেন, গণভোটের রায় পাওয়ার পর ব্রেক্সিট নিয়ে পার্লামেন্টে ভোটাভুটির আর প্রয়োজন নেই।

লিসবন ট্রিটি অনুযায়ী, ইইউ সদস‌্য একটি দেশের সরকারপ্রধানই কেবল আর্টিকেল ৫০ প্রয়োগ করে জোট ছাড়ার আলোচনা শুরু করতে পারেন। সুতরাং নিজের নির্বাহী ক্ষমতা দিয়েই আগামী মার্চে সেই প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন মে।

কিন্তু ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচারাভিযানে থাকা জিনা মিলার নামের এক নারী সরকারের ওই অবস্থান চ‌্যালেঞ্জ করে আদালতে যান।

তার বক্তব‌্য ছিল, পার্লামেন্টের মত না নিয়ে আর্টিকেল ফিফটি প্রয়োগ করার ক্ষমতা টেরিজা মের নেই। হাই কোর্টও শেষ পর্যন্ত মিলারের কথায় সম্মতি দিয়েছে।

হাই কোর্টের রায়ের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেছেন, এই রায়ের ফলে বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু পিছিয়ে যাক, তা সরকার চায় না। সরকার তার পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।

গণভোটের আগে ইইউ জোটে থাকার পক্ষে প্রচার চালানো লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন হাই কোর্টের রায়ের পর বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব পার্লামেন্টে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করা উচিৎ। ব্রেক্সিট কীভাবে হবে- সে প্রক্রিয়া পার্লামেন্টের কাছেও স্বচ্ছ হওয়া দরকার।

অন‌্যদিকে ব্রেক্সিটের পক্ষের প্রচারক ইউকেআইপির নেতা নাইজেল ফারাজ বলেছেন, গণভোটে ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দেওয়া ৫১.৯ শতাংশ ভোটারের সঙ্গে বেঈমানি করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

আরও পড়ুন