বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হিন্দুদের ওপর হামলাকালে শান্তিপূর্ণ ছিলাম: আহলে সুন্নাত

হিন্দুদের ওপর হামলাকালে শান্তিপূর্ণ ছিলাম: আহলে সুন্নাতব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, সেদিন নাসিরনগরে তাদের সমাবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ এবং সেজন‌্য প্রশাসনের ‘ধন‌্যবাদ’ও পেয়েছিলেন তারা।

এক হিন্দু যুবকের ফেইসবুকে ইসলাম অবমাননাকর পোস্ট পাওয়ার অভিযোগ তুলে গত ২৮ অক্টোবর নাসিরনগরে আহলে সুন্নাতের সমাবেশের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা হয়।

সেদিন কয়েকশ লোকের ওই হামলায় ১৫টি মন্দির ভাংচুর এবং দেড় শতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট হয়।

তারও দুদিন আগের ঘটনায় রসরাজ নামে ওই হিন্দু যুবককে পুলিশ আটকের পর আদালতের মাধ‌্যমে কারাগারে পাঠানোর পর ওই সমাবেশ ডাকে আহলে সুন্নাত।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই সেদিন সমাবেশ করেছিলেন তারা।

“আহলে ‍সুন্নাত ওয়াল জামাতের ওই সমাবেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিল। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের জন্য আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদও দেওয়া হয়।”

তাদের সমাবেশ থেকে কেউ হামলায় অংশ নেয়নি দাবি করে বখতেয়ার বলেন, “একদিকে মানুষ শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিল, অন্যদিকে একদল লোক হিন্দুদের ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়েছে।”

সেদিন একই এলাকায় আরেকটি সমাবেশ হয়েছিল ‘খাঁটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত’ ব‌্যানারে। ওই সমাবেশের আয়োজনকারীরা কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ‘হেফাজতি ঘরানার সংগঠন’ বলে দাবি বখতেয়ারের।

হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনার জন‌্য প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করেন এই আহলে সুন্নাত নেতা।

“উত্তেজনা বিরাজ করছিল জেনেও প্রশাসনের লোকজন হিন্দুদের বাড়ি ও মন্দিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেনি। তাদের উচিৎ ছিল সেটা করা। তারা সেটা না করে সমাবেশে অংশ নেয়। তারা ওখানে (হামলাস্থলে) ছিল না কেন?”

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের লক্ষ‌্যের চক্রান্ত থেকে ওই হামলা হয় বলে দাবি করেন বখতেয়ার।

বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করে তিনি বলেন, “যারা আমাদের সমাবেশে এসেছিল তারা ছিল নিরস্ত্র। অথচ হামলাকারীদের প্রত্যেকের হাতে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।”

হামলার ইন্ধনদাতা হিসেবে নাসিরনগর উপজেলা মসজিদ কমপ্লেক্সের ইমাম মোখলেছুর রহমান মুফতিকে দায়ী করেন আহলে সুন্নাতের সমন্বয় কমিটির নেতা স উ ম আবদুস সামাদ।

বখতেয়ার বলেন, “আহলে সুন্নাতের ইতিহাসে উগ্রতার কোনো নজির এবং আদর্শে উগ্রতার কোনো প্রশ্রয় নাই। আমরা এ বছরের ২০ এপ্রিল শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করেছি। কেউ বলতে পারবে না কখনো আহলে সুন্নাত উগ্রতা প্রদর্শন করেছে কোথাও।”

আগামী ১২ নভেম্বর ঢাকায় জঙ্গিবাদবিরোধী মহাসমাবেশ ডেকেছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত। ওই সমাবেশ উপলক্ষে চট্টগ্রামে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও নাসিরনগরের ঘটনাটিই প্রাধান‌্য পায় এতে।

আহলে সুন্নাত নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন এবং নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন