বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ বিক্ষোভের মুখে: গাড়িতে লাথি, জুতা নিক্ষেপ

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ বিক্ষোভের মুখে: গাড়িতে লাথি, জুতা নিক্ষেপব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির-বাড়িঘরে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে ঢাকার শাহবাগ মোড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল- আলম হানিফ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব‌্যানারে একটি মিছিল দুপুরের আগে টিএসসি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে অন‌্যান‌্য সংগঠনের সঙ্গে নাসিরনগরের ঘটনার প্রতিবাদে মানবন্ধনে অংশ নেয়। পরে বেলা সোয়া ১২টার দিকে শাহবাগে এসে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ।

তাদের অবরোধের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা শাহবাগ মোড় হয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফেরার পথে ওই বিক্ষোভে আটকা পড়েন ক্ষমতাসীন দলের নেতা হানিফ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হানিফের গাড়ি থেকে একজন নেমে এসে গাড়িটি ছেড়ে দিতে বললে শিক্ষার্থীরা আপত্তি তোলে। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতাণ্ডায় জড়ালে বিক্ষোভকারীরাও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় হানিফের গাড়িতে কয়েকজনকে লাথি মারতে দেখা যায়। কয়েকটি জুতাও এসে গাড়ির ওপর পড়ে বলে প্রত‌্যক্ষদর্শীরা জানান।

পরে হানিফ বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, “নাসিরনগরে আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছিল। সব গাড়িই আটকে গেছিল। পরে আমি নেমে কথাবার্তা বলায় শিক্ষার্থীরা চলে গেছে।”

‘ইসলাম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে ১৫টি মন্দির এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের দেড় শতাধিক ঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ওসির উপস্থিতিতে সমাবেশে ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্যের পর ওই হামলার ঘটনা ঘটায় স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। এরপর শুক্রবার সকালে একই এলাকায় হিন্দুদের পাঁচটি ঘর ও মন্দিরে আগুন দেওয়া হয়।

শাহবাগে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান ছিল- ‘আমার ঘরে হামলা কেন/ প্রশাসন জবাব চাই, আমার মন্দির ভাঙল কেন/ প্রশাসন জবাব চাই’।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “শিক্ষার্থীরা প্রেসক্লাবে মানববন্ধন শেষে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছিল। সোয়া ১টার দিকে তারা চলে যাওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।”

মাহবুব-উল-আলম হানিফের গাড়ি আটকা পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আজাদ বলেন, “অবরোধ চলাকালে উনার গাড়িও দাঁড়িয়েছিল। পরে উনি নেমে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে অংশ নেন।”

প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর একটি পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গত রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা-অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সদর থানার আশপাশের কয়েকটি এলাকায় ১৫টি মন্দির ও শতাধিক বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে হবিগঞ্জের মাধবপুরেও দুটি মন্দির ও কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়।

ধর্মীয় অবমাননার প্রতিবাদে রোববার সকালে স্থানীয় ডিগ্রি কলেজ মোড়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জমা’আতের উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক রিয়াজুল করিমের নেতৃত্বে এবং স্থানীয় খেলার মাঠে খাঁটি আহলে সুন্নত ওয়াল জমা’আতের সভাপতি মো. মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে সমাবেশ হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, ওই দুই সমাবেশে অংশ নেওয়া লোকজনই সমাবেশ শেষে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন।

ফেসবুকে ওই পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের রসুরাজ দাস (৩০) নামের এক যুবককে শনিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি, তার ফেসবুক পেজে ঢুকে অন্য কেউ ওই পোস্ট দিয়েছে।

হামলার সময় বিভিন্ন মন্দিরের সামনে থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। পরে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের হাত ও শরীরে ক্ষত দেখা গেছে। হামলা চালাতে গিয়ে এ ক্ষত হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

যাই হোক, ঘটনা নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় তৈরি হলে গত মঙ্গলবার রাতে নাসিরনগরের ডাকবাংলোতে স্থানীয় সংখ্যালঘু নেতাদের উদ্দেশ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. ছায়েদুল হক বলেন, ‘মালাউনের বাচ্চারা বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে। আর এ ঘটনাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচার করে অতিরঞ্জিত করেছে সাংবাদিকরা। অথচ ঘটনা কিছুই নয়।’

আরও পড়ুন