বৃহস্পতিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » ধর্ম » রসরাজ কীভাবে এটা করবে? এটা শিবিরের কাজ: শাহরিয়ার কবির
বিশেষ নিউজ

রসরাজ কীভাবে এটা করবে? এটা শিবিরের কাজ: শাহরিয়ার কবির


NEWSWORLDBD.COM - November 6, 2016

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কথিত ধর্ম অবমাননাকারী যুবক রসরাজ দাসের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবীকে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন একটি নাগরিক সংগঠনের নেতারা।

শনিবার নাসিরনগরে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও ঘর-বাড়ি ঘুরে দেখে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এ অভিযোগ করেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “হরিণবেড় গ্রামের একজন আইনজীবীর সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছিল। তিনি রসরাজের পক্ষে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। পরে তাকে রিমান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “রসরাজের মতো স্বল্পশিক্ষিত একটা ছেলে কীভাবে এটা করবে? এগুলো আসলে শিবিরের ছেলেরা করে রসরাজের আইডি থেকে চালিয়ে দিয়েছে।”

রসরাজের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত রোববার নাসিরনগরে সমাবেশ করে কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠন। পরে দলবেঁধে হিন্দু পল্লীতে হামলা চালিয়ে ১৫টি মন্দির ও দেড় শতাধিক ঘর-বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এর পাঁচদিনের মধ‌্যে শুক্রবার ভোররাতে ওই এলাকায় আরও কয়েকটি হিন্দু বাড়ি ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

প্রথম দফায় হামলার আগের দিন রসরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তথ‌্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন‌্য বৃহস্পতিবার তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

এখন রিমান্ডে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়ের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান শাহরিয়ার কবির।

এ সময় তার সঙ্গে থাকা আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, “রসরাজের পক্ষে একজন আইনজীবী দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট তাকে দাঁড়ানোর সুযোগ দেননি। ম্যাজিস্ট্রেট যেটি করেছেন সেটি ন্যায়বিচারের পরিপন্থি কাজ। ম্যাজিস্ট্রেট রসরাজকে কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তার বিরুদ্ধে রিমান্ড অর্ডার দিয়েছেন। এজন্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও ব্যাখ‌্যা চাওয়া উচিত।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সমালোচনা করে শাহরিয়ার কবির বলেন, “তিনি বলছেন এ ঘটনায় প্রশাসনের কোনো গাফিলতি নেই। কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত কেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন না? মানুষ তো আশ্বাস পেতে চায়। ঢাকায় বসে বক্তৃতা-বিবৃতি দিলে তো হবে না।”

তিনি বলেন, রসরাজের গ্রামের বাড়ি হরিণবেড় গ্রামের বহু মানুষ এলাকা ছাড়া। রসরাজের পরিবার কোথায় আছে কেউ জানে না।

রসরাজকে নির্দোষ দাবি করে শাহরিয়ার কবির বলেন, “২০১২ সালে রামুতে শিবিরের একটি ছেলে যেভাবে উত্তম বড়ুয়ার ফেইসবুকে ছবি ছড়িয়ে দিয়েছিল ঠিক সেরকমই একটা পুরনো ছবি ফেইসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে এখানে ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করেছে পরিকল্পিতভাবে।

তবে রামুর ঘটনায় সরকার যেভাবে তৎপর হয়েছিল তা এখন দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব‌্য করেন তিনি।

প্রতিনিধি দলে অন‌্যদের মধ‌্যে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন ছিলেন।

শাহরিয়ার কবির আরও যা বললেন:
আমি শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গেছি বাস্তবে কী ঘটেছে তা দেখার জন্য। রসরাজ নামের ছেলেটির বিরুদ্ধে ফেসবুকে ইসলাম অবমাননার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটা একেবারেই বানোয়াট। সে লেখাপড়া জানে না। মাত্র ক্লাস ফাইভ-সিক্স পর্যন্ত পড়েছে। তার পক্ষে তো ফটোশপের মতো টেকনিক্যাল বিষয় জানা সম্ভব নয়। আমি নিজেও ফটোশপ বুঝি না। তাহলে রসরাজের মতো স্বল্পশিক্ষিত একটা ছেলে কীভাবে এটা করবে? এগুলো আসলে শিবিরের ছেলেরা করে রসরাজের আইডি থেকে চালিয়ে দিয়েছে। ঠিক যেভাবে রামুর ঘটনায় করা হয়েছিল।

নাসিরনগরের ঘটনায় পুলিশ, প্রশাসন, স্থানীয় আইনজীবী, হামলাকারীরা সবাই যেন উন্মাদনায় একাট্টা হয়েছে। হামলাকারীদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে আইনজীবীরা। কিন্তু রসরাজের পক্ষে কোনো আইনজীবী নেই। জামায়াত, আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা একাট্টা হয়ে দাঁড়িয়েছে হামলাকারীদের পক্ষে। এতে এটা স্পষ্ট, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ এই আক্রমণের লক্ষ্য। দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এ হামলা চালানো হয়েছে। কারণ এরই মধ্যে সরকার শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছে, এটা তো জামায়াত সহ্য করছে না। জামায়াত চায় একটি উগ্র মুসলিম দেশ। ফলে সব সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিতে বসবাস তারা সহ্য করছে না।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং ২০০১ সালে সরকার গঠিত হওয়ার পর জামায়াত একই এজেন্ডা নিয়ে মাঠে ছিল। তাদের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে হিন্দুশূন্য করা। তাই আমরা বলছি, এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কেবল হামলাকারীদের দল থেকে বহিষ্কার করেই এর বিহিত ব্যবস্থা করা যাবে না। তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কেবল হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না, যারা হামলাকারীদের পক্ষে কথা বলছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের দাবি হচ্ছে, কেবল প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি দিয়ে হবে না, এই সাম্প্রদায়িক উন্মাদনার তদন্তের জন্য একটি বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করতে হবে।

কেন এখনও নাসিরনগরবাসী কোনো ত্রাণ পেল না? রামুর হামলার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। যেসব ঘরবাড়ি ভাঙা হয়েছে, সেগুলো নতুন করে তৈরি করে দিয়েছে। এখানেও সেভাবে সরকারকে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িঘর, মন্দির ইত্যাদি নতুন করে তৈরি করে দিতে হবে।

সরকার কঠোর হলে যারা দোষী তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা কোনো বিষয়ই নয়। সরকার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সফল হয়েছে। জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ৩৩ জঙ্গি নিহত হয়েছে। কিন্তু হেফাজত-জামায়াতের বিরুদ্ধে কেন সরকার কঠোর হচ্ছে না? কেন এমন সাম্প্রদায়িক উন্মাদনার পরও এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না?

আরেকটা বিষয় হচ্ছে, রসরাজের পক্ষে কেন কোনো আইনজীবী পাওয়া যাচ্ছে না? সে ভিকটিম। তাকে ভিকটিম বানানো হয়েছে। এটা পরিকল্পিত। না হলে রসরাজের পক্ষে আইনজীবী নেই কেন?

যদি কেউ তার পক্ষে না দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তার পক্ষে দাঁড়াব। আইনজীবী নিয়োগ করব। আমার সঙ্গে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক গিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। আমরা পরামর্শ করে ঠিক করব কী করা যায়। আমরা রসরাজের বাড়িতে গিয়েছি। আমরা দেখেছি তার বাড়ির দেয়ালে মুসলিম প্রার্থীদের রাজনৈতিক পোস্টার রয়েছে। তাহলে সে কীভাবে সাম্প্রদায়িক হয়? সেখানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দলের পোস্টার আছে।

আমাদের ক্রিকেট দলের অনেক ছবি রয়েছে রসরাজের দেয়ালে। এসবই প্রমাণ করে যে রসরাজ দেশপ্রেমিক। অথচ তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। নির্যাতন করে তার কাছ থেকে কী স্বীকারোক্তি আদায় করা হচ্ছে কে জানে।

প্রশাসনের কাছে আমাদের কথা হচ্ছে, ভিকটিমের পক্ষ নিতে হবে। এখনও কেন নাসিরনগরে ত্রাণ পৌঁছেনি? এখনও কেন হামলা হচ্ছে? ঘটনার কয়েকদিন পর আবারও হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দেয়া হল। প্রশাসনের অবহেলা না থাকলে আবারও কীভাবে হামলা হয়? আমরা আরও হামলার আশঙ্কা করছি। কারণ প্রশাসন আজ রোববারও সেখানে জনসভার অনুমতি দিয়েছে। ফলে সেখান থেকে উসকানি দিয়ে আরও হামলা যে হবে না তা নিশ্চিত বলা যায় না।

বিপজ্জনক বিষয় হচ্ছে, প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক হিন্দুদের দোষ দিচ্ছেন। এটা তো আওয়ামী লীগের মন্ত্রীর কথা হতে পারে না। আমরা আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে এটা আশা করি না। এটা সাম্প্রদায়িক ও জামায়াতের মন্ত্রীর কথা হবে। আওয়ামী লীগের মন্ত্রীর কথা নয়।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলছেন, প্রশাসনের কোনো গাফিলতি তিনি দেখেননি। কিন্তু এটা তো হতে পারে না। রামুর ঘটনায় আমরা দেখেছি ঘটনার পরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর দ্রুত সেখানে ছুটে গেছেন। প্রশাসন তৎপর ছিল। ফলে ঘটনার পর আর কোনো হামলা হয়নি। রামুতে বিজিবি ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু নাসিরনগরে কেন সেনা মোতায়েন করা হয়নি? ফলে এখানে হামলার পর আরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এখনও আরও হামলার আশঙ্কা আছে।

সরকারকে বলব আরও কঠোর হতে। কোনো ধরনের ছাড় যেন অপরাধীরা না পায়। নতুন কোনো উন্মাদনায় কেউ যেন উন্মত্ত হতে না পারে। কারণ এরই মধ্যে নেত্রকোনায় হামলা হয়েছে। নিজের ভাবমূর্তি রক্ষায় সরকারকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.