যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে গুলি চালিয়েছে এক বন্দুকধারী। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।
এদের মধ্যে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বুধবার রাতে শহরতলীর ৭/১১ নামে একটি ডিপার্টমেন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভে এক ব্যক্তির সঙ্গে বন্দুকধারীর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এ গুলির ঘটনা ঘটে।
তবে শিয়াটল পুলিশের উপপ্রধান রবার্ট মারনার বলেছেন, ট্রামবিরোধী মিছিলে নয়, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডার পর এ গুলির ঘটনা ঘটেছে।
মিছিলের সময় ভিড়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তির সঙ্গে মিছিলকারীদের বাদানুবাদ হয়। পরে ওই লোকটি ফিরে এসে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বেপরোয়া গুলিবর্ষণের পর লোকটি দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা এসে ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে যুক্তরাষ্ট্রবাসী।
নিউইয়র্ক, শিকাগোসহ বেশ কয়েকটি শহরে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য শহরেও।
নির্বাচনের আগেই মুসলিম, অভিবাসী, হিস্প্যানিকসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন ধনকুবের ট্রাম্প।
এজন্য তার জেতার পর অনেকেই ক্ষুব্ধ। সে ক্ষোভ থেকেই অসংখ্য মানুষ হোয়াইটহাউসের কাছে জড়ো হয়ে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন, ‘ট্রাম্প আমাদের প্রেসিডেন্ট না, আমরা তাকে মানি না’।
বস্টন থেকে লস অ্যাঞ্জেলস পর্যন্ত সড়কে বহু মানুষ বুধবার রাতে জড়ো হয়ে ট্রাম্পকে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে সিটি হলের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। সেখানে বিক্ষোভকারীরা ‘ঘৃণা জয়ী হতে পারে না’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
নিউইয়র্ক সিটির ইউনিয়ন স্কয়ারে ট্রাম্পবিরোধী মানুষের বিক্ষোভ চলছে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করেছেন।
পাঁচ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। শহরের ট্রাম্প টাওয়ার এবং ওবামাকেয়ারের সামনেও বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
সোশ্যালিস্ট অলটারনেটিভ সংগঠনের নিউইয়র্ক শাখা এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছে।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ‘জাতিগত বিদ্বেষ, যৌন বিদ্বেষ ও মুসলিম বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই গড়ে তোলো।’
এখানে নিক পাওয়ার নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘ভোটের ফলের পর যে সব ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে, তার প্রতিবাদ জানাতেই আমি রাস্তায় নেমে এসেছি।’
টেক্সাসের অস্টিনে মহাসড়ক আটকে দেন অন্তত ৪শ’ বিক্ষোভকারী। পুলিশ তাদের ঘেরাও করে রাখে।
ওয়াশিংটনে আমেরিকান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা পতাকা পুড়িয়ে দেন। শিকাগোতে অন্তত এক হাজার ৮শ’ মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা ট্রাম্পকে বর্ণবাদী আখ্যা দিয়ে ‘ট্রাম্প আমাদের প্রেসিডেন্ট না’ স্লোগানে মুখর করে তোলেন।
ফিলাডেলফিয়া, বার্কলি, ওকল্যান্ড, সিয়াটল, পিটার্সবার্গ, ওরেগন, সান ফ্রান্সিসকোসহ বিভিন্ন শহরেও চলছে বিক্ষোভ।
ট্রাম্পের বিজয়ের পর অরেগনে বিক্ষোভকারীরা প্রথম সান ফ্রান্সিসকোর বে এলাকায় বিক্ষোভ করেন। এই এলাকা ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি রেল চলাচলেও বাধা সৃষ্টি করে।
সিয়াটলে শতাধিক বিক্ষোভকারী ক্যাপিটল হিলের কাছে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। পেনসিলভানিয়ায় ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পেনসিলভানিয়া থেকে ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন থেকে ওয়াশিংটন স্টেট সব জায়গায় শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন।


