রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে প্রচারিত সরকারি বিজ্ঞাপনটি ‘প্রতারণামূলক’ দাবি করে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ‘সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি’র আহ্বায়ক সুলতানা কামাল।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মিথ্যা তথ্যের উপর এই বিজ্ঞাপন নির্মিত হয়েছে। এটা অবশ্যই বন্ধ করা উচিৎ।”
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের ক্ষতির আশঙ্কাটি অমূলক দাবি করে সরকারের একটি বিজ্ঞাপন রেডিও-টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে।
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কোম্পানির নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বিজ্ঞাপনটি প্রচার করছে বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানি বিভাগ।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “রামপাল নিয়ে ইউনেস্কো যে প্রতিবেদন, তা জাতিসংঘের মহাসচিব অনুমোদন করেছেন।”
“তাদের প্রতিবেদন যে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে, সেটা প্রমাণিত। এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছেই বলে জাতিসংঘ এটা করেছে,” সরকারি প্রচারণার জবাবে বলেন তিনি।
সুন্দরবনের কাছে বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক এই তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করছে বিভিন্ন নাগরিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন।
তারা বলছেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে সরকারের দাবি, ক্ষতি যেন না হয়, সেরকম প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধীরা ‘না বুঝেই’ বিরোধিতা করছে বলে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, ‘সার্বিক বিচারে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই কয়লাভিত্তিক প্রকল্প। এটি কোনো যুক্তিতেই সারা বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিসরে কোনো জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন সচেতন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং কোনোদিনই তা গ্রহণযোগ্য হবে না।”
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে উদ্যোগী হয়ে বর্তমান সরকার জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তা অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেন এই অধিকারকর্মী।
“সুন্দরবন প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান আর জলবায়ু প্রশ্নে তার অবস্থান ও আকাঙ্ক্ষা পরস্পরবিরোধী। কারণ, জলবায়ু সঙ্কট মোকাবেলা করতে হলে সুন্দরবনকে অক্ষত রাখা আমাদের প্রধান ও পরম দায়িত্ব।”
সংবাদ সম্মেলনে অধিকারকর্মী খুশি কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক বদরুল ইমাম, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আবদুল মতিনও ছিলেন।



