বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় পুলিশকে হুঁশিয়ারি বিএনপির

সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় পুলিশকে হুঁশিয়ারি বিএনপিরসোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে সমাবেশ করার জন্য এখনও অনুমতি না দেওয়ায় পুলিশকে হুঁশিয়ার করার পাশাপাশি তাদের অনুমতি পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী।

পুলিশকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেছেন, “পুলিশ যদি এ ধরনের অগণতান্ত্রিক, অনিয়মতান্ত্রিক, বেআইনি ও সংবিধানবিরোধী ভূমিকা অব্যাহত রাখে, তবে জনগণের কাছে তাদের একদিন জবাবদিহি করতেই হবে।”

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এর পরপরই রিজভী বলেছেন, “আপনারা (পুলিশ) আওয়ামী লীগের নয়, জনগণের সেবক হিসেবে আইনানুগ আচরণ করুন। আমরা নিশ্চিত, আপনারা আজকেই বিএনপির জনসভা সফল করতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবেন।”

রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ার প্রতিক্রিয়া জানাতে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির জ‌্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী।

‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি ৭ অথবা ৮ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সেখানে অনুমতি দেয়নি।

এরপর বিকল্প স্থান হিসেবে বিএনপি ৮ নভেম্বর নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ফের চিঠি দিলেও পুলিশ চিঠি পাওয়ার কথা অস্বীকার করে। তখন বিএনপি ১৩ নভেম্বর সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

এরপর পুলিশ ২৭টি শর্তে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে সভার অনুমতি দিলেও বিএনপি তা প্রত্যাখ‌্যান করে ১৩ নভেম্বর অনুমতি দেওয়ার দাবিই জানিয়ে আসছে।

ঘোষিত কর্মসূচির একদিন আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে রিজভী পুলিশের বিরুদ্ধে টালবাহানার অভিযোগ করেন।

“আমরা আবারও পুলিশ প্রশাসনকে বলতে চাই, ১৩ নভেম্বর (রোববার) বিএনপির জনসভার অনুমতি প্রদানে কোনো প্রকার টালবাহানা-গড়িমসি না করে আজকেই অনুমতি প্রদান করুন।”

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী ও তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভয় ও শঙ্কার রোগে ভুগছে। মানুষের জমায়েতের কথা শুনলেই তারা রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে, শঙ্কিত হয়ে উঠে।

“কারণ বিরোধী দল আয়োজিত এই ধরনের গণজমায়েতে সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ফুটে উঠে, এই আশঙ্কায় সরকার পুলিশকে দিয়ে বিরোধী দলের সংবিধান স্বীকৃত কর্মসূচিকে নস্যাৎ করে চলেছে।”

পুলিশের উদ্দেশে বিএনপি নেতা বলেন, “আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে-পুলিশ কীসের প্রতিশোধ নিচ্ছে? ক্ষমতাবিলাসীদের স্বার্থ রক্ষায় পুলিশ কেন ভূমিকা রাখছ? দেশকে কেন সর্বনাশের ধাক্কায় অতল গহ্বরের দিকে তারা ঠেলে দিচ্ছে?”

সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায় এবং গাইবান্ধায় সাঁওতালদের উপর হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের পদত্যাগের দাবিও জানান রিজভী।

“নাসিরনগরের ঘটনা যে স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রীর কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ, তা আর কারও জানতে বাকি নাই। গাইবান্ধায় সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডারদের গুলিতে নির্মমভাবে ৪ জন সাঁওতাল আদিবাসী হত্যা হয়। ক্ষমতাসীনদের এসব ঘটনা ও কুকীর্তি একাত্তরের হানাদার বাহিনীর বর্বরতার সাথেই শুধু তুলনা করা যায়।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সেলিম ভুঁইয়া, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, আমিরুল ইসলাম আলিম, সেলিমুজ্জামান সেলিম, মহিলা সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন