বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ট্রাম্প জেতায় আমেরিকায় বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ, মুসলিমদের স্থাপনা ভাঙচুর

ট্রাম্প জেতায় আমেরিকায় বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ, মুসলিমদের স্থাপনা ভাঙচুরমার্কিন নির্বাচনের পর থেকেই আমেরিকান মুসলিমরা হেইট ক্রাইমের শিকার হচ্ছেন। শুধু মুসলমানরাই নয় আফ্রিকান-আমেরিকানরাও বর্ণ বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

সিভিল লিবার্টিস অর্গনাইজেশনগুলো জানিয়েছে, অনেক প্রদেশেই মুসলমানদেরকে ভয় দেখানো হচ্ছে। দেওয়ালেও লিখে রাখা হচ্ছে অসম্মানজনক সব কথাবার্তা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও তাদের সম্পর্কে কটুক্তি করার পরিমাণ বেড়ে গেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, মুসলিম হিজাব পরিহিত নারীরা রাস্তায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বাচ্চাদেরকে বলা হচ্ছে, স্কুলে তারা সাদরে আমন্ত্রিত নয়। অনেক বাচ্চাই ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখছে। জেগে ওঠার পর বাবা মায়ের কাছে তারা প্রশ্ন করছে, ‘আমাদের কি আমেরিকা ছেড়ে চলে যেতে হবে?’

মুসলিমদের অনেক স্থাপনাতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ট্রাম্পের জয়ের পরই ব্রুকলিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। মসজিদটির দরজায় কেউ একজন লিখে রেখেছেন ‘ট্রাম্প’-এর নাম।

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম ছাত্র সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ আর জে খালাফ জানিয়েছেন, তারা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। বিশেষ করে হিজাব পরিহিত মুসলিম মেয়েদেরকে নিয়েই তারা বেশি উদ্বিগ্ন। কারণ সহজেই তাদের ধর্ম পরিচয় জানা যায়।

মার্কিন মুসলিম কাউন্সিলের মহাসচিব ওসামা জামাল জানিয়েছেন, মুসলিম পরিবারগুলোর কাছে থেকে এরই মধ্যে তিনি হামলার খবর পেয়েছেন। তারা সবাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার পরামর্শ চেয়েছেন।

আমেরিকান মুসলমানরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন কারণ ট্রাম্পের জয়ে পর বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষীরা প্রকাশ্যে ভীতি ছড়াতে শুরু করেছে। তাদের এসব কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্যতাও পাচ্ছে।

আতঙ্কিত আমেরিকান মুসলিমরা তাই ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। কিভাবে ট্রাম্প প্রশাসন সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সহাবস্থান বজায় রাখে তাই এখন দেখার বিষয়।

আরও পড়ুন