ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়টি পুলিশের তদন্তে ধরা পড়লেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলছেন অন্য কথা।
বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছেন, “দলীয় কোন্দলের আভাস পেলে আমি মাননীয় প্রাইম মিনিস্টারকে বলতাম।
“আমি যেটা দেখেছি- হয়তো কেউ ষড়যন্ত্র বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। যেটাই হোক, রিপোর্ট পেলে আমরা স্পষ্ট হব।”
ফেইসবুকে ‘ইসলাম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে ১৫টি মন্দির ও হিন্দুদের শতাধিক বাড়িঘরে ভাংচুর-লুটপাট চালানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই হামলার নেপথ্যে ছিল নাসিরনগরের এমপি ছায়েদুল হকের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর দ্বন্দ্ব।
হামলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় একটি তদন্ত কমিটি করেছিল পুলিশ প্রশাসন। তাদের প্রতিবেদনে হামলার পেছনের কারণ হিসেবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দ্বন্দ্বের বিষয়টিও এসেছে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শওকত হোসেন।
সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিবেদন দেওয়ার পর তিনি বলেন, “এলাকায় একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। দ্বন্দ্বের কোনো সুযোগ নিয়ে হামলার এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে কমিটি মনে করেছে। তবে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।”
ওই হামলার ঘটনার পর পুলিশ আসামিদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চালালেও ৪ ও ১৩ নভেম্বর একই এলাকায় কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই নাসিরনগরের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ-মানববন্ধনের মত কর্মসূচি চলছে।
প্রথম হামলার নয় দিন পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও ওই এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কী দেখেছেন তা বুধবার সচিবালয়ে তার কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, “ওই ঘটনা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। বেশ কয়েকটি তদন্ত দল কাজ করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আমাদের ফাইন্ডিংস-এর কথা বলতে পারব না।”
যে সাইবার ক্যাফেতে বসে স্থানীয় এক জেলের নামে ফেইসবুকে ‘অবমাননাকর ছবি’ আপলোড করা হয়েছিল, তার মালিককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে জানিয়ে কামাল বলেন, “তাকে ধরলে হয়ত জানতে পারব- কে এটা করেছে। শিগগিরই তাকে আমরা ধরে ফেলব।”
হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট তিনটি মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ৮৫ জনকে।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলছেন, যাকেই এ ঘটনায় সম্পৃক্ত বলে তারা মনে করছেন, তাকেই ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানার চেষ্টা হচ্ছে।
“সমাজ এগিয়ে এসেছে, আমাদের নিরাপত্তাবাহিনী এগিয়ে এসেছে। কাজেই মনে করি, যে ক্ষতি হয়ে গেছে তা তো হয়েই গেছে। পরবর্তীতে যেসব করণীয় তা আমরা করছি।”


