‘খাদ্যবান্ধব’ কর্মসূচির আওতায় সরকারের দেওয়া হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল বিতরণে শুরু থেকেই নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। এবার ভোলায় প্রতিজনকে ৩০০ টাকায় ২৬ থেকে ২৭ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। অথচ চাল দেওয়ার কথা ছিল ৩০ কেজি করে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুযোগ পাওয়া ব্যক্তিরা।
ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের ডিলার শাহ কামাল, ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের ডিলার ইউসুফ এবং ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ডিলার ডাক্তার জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২৬ থেকে ২৭ কেজি করে চাল দেওয়ার এ অভিযোগ উঠেছে।
৩নং ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী রহিমা বেগম বলেন, গত মাসে ৩০০ টাকার বিনিময় ৩০ কেজি চাল মেপে দিয়েছে। বাড়িতে গিয়ে মেপে দেখি ২৬ কেজি হয়েছে। একই রকম অভিযোগ করেন ৮নং ওয়ার্ডের ফাহিমা বেগম ও শফিকুল আলমসহ আরো অনেকে।
কম দেওয়ার ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের হেনস্তা ও কার্ড বাতিলের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে ডিলারদের বিরুদ্ধে।
সুত্র জানায়, নভেম্বরে ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ১৪০০ গরীব লোকের জন্য ৪২ টন চাল বরাদ্দ করা হয়। এতে কেজিপ্রতি ডিলারদের লাভ দেওয়া হয় ১ টাকা ৫০ পয়সা করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি সদস্য চাল চুরি করার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভূক্তভোগী জানান, জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজসে ডিলাররা চাল কম দিচ্ছেন। একটি ভাগ তাদের (জনপ্রতিনিধি) পকেটেও যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে ভেদুরিয়ার ডিলার ইউসুফ বলেন, গুদাম থেকে চাল আনার সময় কিছু ঘাটতি হয়। এছাড়া অন্যান্য খরচও রয়েছে। সামান্য কিছু চাল কম দেওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেন।
ভেদুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম মাস্টার বলেন, ‘আমি ডিলারদের জানিয়ে দিয়েছি, তারা যেন চাল কম না দেয়। তারপরও কেউ চাল কম দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৃধা মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যে সকল ডিলার চাল কম দিচ্ছেন, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’


