ক্ষমতা হারানোর ভয়ে আওয়ামী লীগ ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য’ খালেদা জিয়ার দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে আগে থেকে তৈরি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ যে রিঅ্যাকশন দিয়েছেন, তার ভাষাটা দেখবেন- সেই ভাষার মধ্যে বুঝা যায়, সেটা আগে থেকে তৈরি করা। যেমন, বাজেট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা মিছিল বের হয় না- ‘মানি না মানি না’, ‘গণবিরোধী বাজেট মানি না’- এরকম ব্যানার তৈরি করা থাকে।
“ঠিক একইভাবে আগে থেকে তারা তৈরি করে রেখেছিল- এটাকে তারা প্রত্যাখান করবে। সেজন্য বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাব শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমাকে একজন সাংবাদিক বললেন, আওয়ামী লীগ এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে, প্রত্যাখ্যান করেছে।”
শুক্রবার বিকালে নির্বাচন কমিশন নিয়োগে বাছাই কমিটি গঠনের রূপরেখা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা এবং ‘সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের কয়েকটি ধারার সংশোধনসহ ১৩টি প্রস্তাব দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
ওই প্রস্তাবের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের খালেদা জিয়ার প্রস্তাবকে ‘অন্তঃসারশূন্য’ ও ‘জাতির সাথে তামাশা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৪৫ মিনিট ধরে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে নতুন কিছু নেই।”
দুপরে সেগুনবাগিচায় কচি কাঁচার মেলা মিলনায়তনে জিয়া নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ও জিয়া আমার চেতনা স্মরণিকা প্রকাশ উপলক্ষে আলোচনা সভায় অংশ নেন মির্জা ফখরুল।
সভায় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তার প্রতিক্রিয়া আগেই তৈরি করে রেখেছিল- ‘যে যা-ই বলুক না কেন, আমরা তা প্রত্যাখান করব; আমরা আমাদের যে নীলনকশা, সেই নীলনকশা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব।’
“অর্থাৎ কোনোরকম গণতান্ত্রিক পরিসর সৃষ্টি না করে, স্পেস না দিয়ে, জনগণের অধিকারগুলো কেড়ে নিয়ে আমাদেরকে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে। আমরা জানি যে, নির্বাচন যদি অবাধ হয়, সুষ্ঠু হয়, আমরা ক্ষমতায় আবার ফিরে আসতে পারব না। সেই কারণেই তাদেরকে এটা (প্রতিক্রিয়া) আগেই তৈরি করে রাখতে হয়েছিল।”
সভায় নির্বাচন কমিশন গঠন ও শক্তিশালীকরণের খালেদা জিয়ার দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে দেশজুড়ে জনমত গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
তার দাবি, খালেদা জিয়ার প্রস্তাবের মধ্যে ‘বাংলাদেশ রক্ষার, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ও দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় নিয়ে আসার’ সব উপাদান রয়েছে।
“তিনি (খালেদা জিয়া) একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। যদি আপনারা (আওয়ামী লীগ) গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, যদি আপনারা সত্যিকার অর্থে জনগণের কল্যাণ চান, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চান, তবে এই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে আপনাদেরকে বিরোধী দলের সঙ্গে, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে হবে।”
জিয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ, জিয়া নাগরিক ফোরামের কে জামান, মুসা ফরাজী, বাস্তহারা দলের শরীফ হাফিজুর রহমান টিটু, কর্মজীবী দলের আলতাফ হোসেন সরদার, দেশনেত্রী ফোরামের কেএম জাহাঙ্গীর আলম ও ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশের কাদের সিদ্দিকী বক্তব্য রাখেন।


