রবিবার ১১ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে মাদারীপুরের রাজাকারপুত্র


NEWSWORLDBD.COM - November 22, 2016

মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে মাদারীপুরের রাজাকারপুত্রযুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেয়েছেন রাজাকারপুত্র সাঈদ চৌধুরী। সম্প্রতি তাকে যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ন্যাশনাল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি সার্ভিসেস বোর্ড-এর সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সাঈদ চৌধুরীর বাবা জি ডব্লিউ চৌধুরী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের অন্যতম এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। জি ডব্লিউ চৌধুরীর বাড়ি মাদারীপুর জেলায় হলেও দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রাক্কালে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে তিনি সপরিবারে ব্রিটেনে পালিয়ে যান। সে সময়ে বাবার সঙ্গে দেশ ছেড়ে যাওয়া সাঈদ চৌধুরীও আর দেশে ফিরে আসেননি।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সাঈদ চৌধুরী ছিলেন চার বছরের শিশু। তার বাবা জি ডব্লিউ চৌধুরী ব্রিটেনে পালিয়ে গিয়ে সেখানেই থিতু হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। পরে ব্রিটেন থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সে সুযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন সাঈদ চৌধুরী।

সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, বারাক ওবামা ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ব্যাপারে নিজের অভিপ্রায়ের কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি সার্ভিসেস বোর্ড-এর সদস্য পদটিও অন্যতম। এই পদেই সাঈদ চৌধুরীকে নিয়োগ দিয়েছে হোয়াইট হাউস।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমি আনন্দিত যে এসব অভিজ্ঞ ও প্রতিশ্রুতিশীল ব্যক্তিরা আমাদের দেশের সেবা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।’

সাঈদ চৌধুরী বর্তমানে জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত আছেন। তিনি সেখানে রিসার্চ ডাটা ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অ্যাসোসিয়েট ডিন এবং ডিজিটাল রিসার্চ বিভাগের হডসন ডিরেক্টর।

২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাউন্সিল অন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন রির্সোসেস বিভাগে সিনিয়র প্রেসিডেন্সিয়াল ফেলো হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির একজন লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ইতোপূর্বে জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ম্যাগাজিনকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন সাঈদ চৌধুরী। এতে তিনি জানান, তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছিলেন।

সাঈদ চৌধুরী জানান, ‘রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশে তখন তার নাগরিকত্ব মঞ্জুর করা হয়নি। পাকিস্তানেও থাকতে পারেননি। এক সময় দেশহীন একজন মানুষ হিসেবে জাতিসংঘ তাকে সাদা পাসপোর্ট প্রদান করে।’

সাঈদ চৌধুরী বলেন, ‘পরে আমরা ১৯৭৪ সালে ব্রিটেন থেকে নর্থ ক্যারোলিনার ডারহামে চলে আসি।’ ওই সময়ে সাঈদের বয়স ছিল সাত বছর এবং তার বড় ভাইয়ের বয়স ছিল ১২ বছর।

সাঈদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের বোর্ড অব দ্য ন্যাশনাল ইনফরমেশন স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন, দ্য অ্যাডভাইজরি বোর্ড ফর ওপেন এআইআরই-২০২০-এর সদস্য। এছাড়া তিনি ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিজ বোর্ড অন রিসার্চ ডাটা অ্যান্ড ইনফরমেশন, ডিজিটাল লাইব্রেরি ফেডারেশন অ্যাডভাইজরি কমিটি এবং দ্য লাইব্রেরি অব কংগ্রেস, ন্যাশনাল ডিজিটাল স্টুয়ার্ডশিপ অ্যালায়েন্স কো-অর্ডিনেটিং কমিটির সদস্য। তিনি জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি থেকে বিএস এবং এমএস লাভ করেন।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.