শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

হিন্দু ধর্মাবলম্বী কেউ থাকবে না বাংলাদেশে


NEWSWORLDBD.COM - November 22, 2016

বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ থাকবে না বলে এক গবেষণায় বলা হয়েছে। আওয়ামী লিগ ঘরানার বুদ্ধিজীবী  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাতের এই গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে আওয়ামী লিগ সহ বিভিন্ন মহলে তোলপাড় তৈরি হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারকাতের ‘বাংলাদেশে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ শীর্ষক এক গবেষণাধর্মী বইয়ে এই তথ্য উঠে এসেছে। ঢাবির সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে বইটি প্রকাশ করা হয়।

ওই বইয়ে উল্লেখ করা হয়, ১৯৬৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৫ দশকে মোট ১ কোটি ১৩ লাখ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৬১২ হিন্দু দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। গত ৫ দশকে বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন দেশ ছেড়েছেন গড়ে ৬৩২ জন হিন্দু। এই নিরুদ্দেশ প্রক্রিয়ার প্রবণতা বজায় থাকলে আগামী আগামী ত্রিশ বছরের মধ্যে এদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না।

ড. বারকাতের গবেষণায় বলা হয়, বিভিন্ন সময়কালে প্রতিদিন গড়ে নিরুদ্দেশ হওয়া হিন্দুদের সংখ্যা সমান নয়, যেমন- ১৯৬৪ থেকে ১৯৭১ পাকিস্তানের শেষ ৭ বছর প্রতিদিন নিরুদ্দেশ হয়েছেন ৭০৫ হিন্দু। ১৯৭১ থেকে ১৯৮১ সাল নিরুদ্দেশের হার ৫২১ জন। ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন নিরুদ্দেশ হন ৪৩৮ জন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত প্রতিদিন ৭৬৭ হিন্দু দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ২০০১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৬৭৪ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দেশ ছেড়েছেন।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আবুল বারকাত বলেছেন, এটি একটি ভয়ঙ্কর ব্যাপার যে এই দেশে জন্ম নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া। তিনি উল্লেখ করেছেন, অর্পিত সম্পত্তি নামে শত্রু সম্পত্তি আইন কার্যকর থাকার ফলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ অনিচ্ছায় দেশান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছেন।

ওই গবেষণায় আরও বলা হয়, পাকিস্তানের সামন্ত-সেনা শাসকরা জন্মসূত্রেই ছিলেন বাংলা ভাষা ও বাঙালিবিরোধী। যে কোনো কায়দায় ব্যাপক হিন্দু জনগোষ্ঠীকে সম্পদচ্যুত, ভূমিচ্যুত, দেশচ্যুত করা গেলে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতিকে বিভক্ত করে শাসন করা সোজা হবে। এ ভাবনা থেকেই পাকিস্তানি সেনাশাসকরা ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে শত্রু সম্পত্তি আইন জারি করে। শত্রু সম্পত্তি আইনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মূল মালিকানার ২৬ লাখ একর বেদখল বা ভূমিচ্যুত করা হয়েছে। এই ২৬ লাখ একরের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই কৃষিজমি, ২৯ শতাংশ বসতভিটা, ৪ শতাংশ বাগান, ৩ শতাংশ পতিত, ১ শতাংশ পুকুর ও ১৯ শতাংশ অন্যান্য জমি বেদখল হয়েছে।

আবুল বারকাত তার গবেষণায় উল্লেখ করেন, শত্রু অর্পিত সম্পত্তি আইনে ভূমি-জলা ও স্থানান্তরযোগ্য সম্পদ হারানোর আর্থিক ক্ষতি সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা (২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজার দর হিসাবে)।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, গত ৪০ বছরে (১৯৬৫-২০০৬) বিভিন্ন সরকারের আমলে শত্রু ও অর্পিত সম্পত্তি আইনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ক্ষতির পরিমাণ ও মাত্রা ছিল বিভিন্ন ধরনের। এই আইনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৬০ শতাংশ ও মোট ভূমিচ্যুতির ৭৫ শতাংশ হয়েছে ১৯৬৫ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে। মোট ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ২০ দশমিক ৬ শতাংশ ও মোট ভূমিচ্যুতির ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ ঘটেছে ১৯৭৬ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, শত্রু ও অর্পিত সম্পত্তি আইনে যেসব হিন্দু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ৭২ শতাংশ এবং মোট ভূমিচ্যুতির ৮৮ শতাংশই ঘটেছে সেনাশাসন-স্বৈরশাসনামলের ২১ বছরে। অর্থাৎ ১৯৬৫ থেকে ১৯৭১ সাল এবং ১৯৭৬ থেকে ১৯৯০ সাল।

ড. বারকাত তার গবেষণায় দাবি করেন, হিন্দু সম্পত্তি বেদখল করতে স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও ভূমি অফিস সবচেয়ে দায়ী। সম্পদ দখলের প্রধানত ৫টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে এই গবেষণা পত্রে।

প্রথমত, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ভূমি অফিসের সঙ্গে যোগসাজশে উদ্দেশ্য সাধন করেছেন (৭২ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্তের বক্তব্য)।

দ্বিতীয়ত, ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা নিজেরাই অবৈধ দখল করেছেন (৪৬ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য)।

তৃতীয়ত, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল বিভিন্ন ধরনের বল প্রয়োগ করেছেন, জোরপূর্বক বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছেন, দেশত্যাগে বাধ্য করেছেন (৩২ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য)।

চতুর্থ কারণ হলো, প্রকৃত মালিক/ উত্তরাধিকারীদের একজনের মৃত্যু অথবা দেশত্যাগ (৩৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য) এবং পঞ্চম কারণ, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল জাল দলিল-দস্তাবেজ, কাগজপত্র তৈরি করে ভূসম্পত্তি দখল করেছেন (১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য)।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.