রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে পাবেন ৫ লাখ টাকা


NEWSWORLDBD.COM - November 23, 2016

কর্মরত অবস্থায় কোনো শ্রমিক মারা গেলে তার পরিবারকে ৫ লাখ টাকা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক। এর মধ্যে শ্রমিকদের জন্য গঠিত ফান্ড থেকে ৩ লাখ টাকা ও বীমা থেকে ২ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। এটি জানুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

বুধবার ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নারী শ্রমিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। ‘২০২০ সালের মধ্যে সব কর্মস্থল ও ট্রেড ইউনিয়নে এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত কর, নারী শ্রমিকের কণ্ঠের অঙ্গীকার, চাই সমতা ও মর্যাদার অধিকার’ এসব প্রতিপাদ্য নিয়ে এ সম্মেলনের আয়োজন করে নারী শ্রমিক কণ্ঠ।

প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, কোনো শ্রমিকের বড় অসুখ (যেমন ক্যান্সার) হলে তাকে ১ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া শ্রমিকদের সন্তানদের সরকারী মেডিক্যাল কলেজে পড়ার ক্ষেত্রে ৩ লাখ টাকা, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা ও নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ৯-১০ মাস ২৫ হাজার টাকা করে মাসিক প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে শ্রমিকদেরকে শ্রম মন্ত্রণালয়ে ওয়েবসাইট থেকে ফরম নিয়ে পূরন করে জমা দিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আমরা একটি ফান্ডের ব্যবস্থা করেছি। গার্মেন্টসসহ সব রপ্তানি পণ্যের মূল্যের ০.৩ শতাংশ ব্যাংক থেকে কেটে রাখা হচ্ছে; যা শ্রমিকদের কল্যাণে শ্রম মন্ত্রণালয়ের একটি অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। ২০১৬ সালে ১ জুলাই থেকে এই ফান্ড কেটে রাখা হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত ১৭ কোটি টাকা এই ফান্ডে জমা হয়েছে। কোনো শ্রমিক কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে তার পরিবার এই ফান্ড থেকে তিন লাখ টাকা এবং ইনসুরেন্স থেকে আরো দুই লাখ টাকা পাবে; যা আগামী জানুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হবে।

বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি নারীদের ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে মুজিবুল হক বলেন, এ সরকার আরো দু-এক টার্ম যদি ক্ষমতায় থাকে, তাহলে নারীর ক্ষমতায়নে আপনাদের খুব বেশি পরিশ্রম করতে হবে না। আমার মনে হয় আপনাদের আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই করছেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি কাজ করলেও তাদের মূল্যায়ন নেই। কিন্তু এখন মূল্যায়ন না দিয়ে উপায় নেই। কারণ আপনারা জেগে উঠেছেন।’

বিভিন্ন গার্মেন্ট সেক্টরে যারা নারীনেত্রী তারা তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন না বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে ট্রেড ইউনিয়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, এফইএস’র আবাসিক প্রতিনিধি ফ্রানজিসকা কর্ন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিভাস বি রেড্ডি, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, নারী শ্রমিক কণ্ঠের উপদেষ্টা ড. প্রতিমা পাল মজুমদার, সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ।

নারী শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি জাহানারা বেগম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সহ-মহিলাবিষয়ক সম্পাদক হামিদা খাতুন, জাতীয় নারী শ্রমিক জোটের সভাপতি উম্মে হাসান ঝলমল, গার্মেন্টস কর্মচারী লীগের সভাপতি লিমা ফেরদৌস, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদা আক্তার ও রংপুরের কৃষি শ্রমিক নেতা ভারতী কুজুর।

সম্মেলনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন নারী শ্রমিক কণ্ঠের সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার। এ সময় তিনি ১০টি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সম্মেলনে অংশ নেন সারা দেশ থেকে আসা শ্রমজীবী নারী, শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক, অধিকার কর্মী, শ্রমিক সংগঠন, বিভিন্ন রাজণেতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন শিরীন আখতার।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.