শুক্রবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন: মারাকেশ ঘোষণার পর কি হবে?


NEWSWORLDBD.COM - November 23, 2016

আরমান হোসেন টুটুল, বিশেষ প্রতিনিধি
মরক্কোর মারাকেশ ঘোষণার মধ্য দিয়েই শেষ হলো জাতিসংঘের ২২তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। এক পৃষ্ঠার এই ঘোষণায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে রাষ্ট্রগুলো।

সে জন্য প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যাপারে একমত হয়েছে ১৯৩টি রাষ্ট্র। ১৮ নভেম্বর ছিল মারাকেশ সম্মেলনের সমাপনী দিন। সম্মেলনের আয়োজক সংস্থা জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) ওয়েবসাইটে ওই ঘোষণা প্রকাশ করে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণকে ওই ঘোষণার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্ব পেয়েছে স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলোর দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়ন।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি
পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। এর প্রভাবে জলবায়ুর পরিবর্তন এবং এর মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি সারা বিশ্বে বহুল আলোচিত বিষয়। একে পৃথিবীর নিরাপত্তার প্রতি গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নামে দেশে দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের অপরিমিত ও যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমনও বেড়ে গেছে। এ দুটো কারণে আজকের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইউএনএফসিসিসির আওতায় ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ২১তম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন হয়। সম্মেলনে কনভেনশনের সব সদস্য দেশ ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি জলবায়ু চুক্তি করে, যা পরিচিত ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তি নামে।

প্যারিস চুক্তির দুর্বল দিক
প্যারিস চুক্তির প্রধান দুর্বলতা হলো, বিশ্বের সব সদস্য দেশকে—বিশেষ করে শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকে এই চুক্তির বাধ্যবাধকতায় আনার জন্য ছাড় দেওয়া হয়েছে। দেশগুলোর মধ্যমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস, আর্থিকসহ অন্যান্য সহায়তা ইত্যাদি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা এসব দেশ নিজেরাই নির্ধারিত করবে, যা পাঁচ বছর পর পর কনভেনশন সচিবালয়ে দাখিল করবে।

মারাকেশ ঘোষণা
মূলত মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের উদ্যোগেই মারাকেশ ঘোষণা। জলবায়ুর বিষয়ে ভিন্নমতাবলম্বী ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এই সম্মেলনেই হয়তো যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে তার নেতিবাচক অবস্থান ঘোষণা করবে। কিন্তু তা হয়নি।

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও নোবেলজয়ী জলবায়ু আন্দোলনকারী আল গোরের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র তার আগের ভূমিকায় অটল থাকে। সম্মেলন চলাকালে প্যারিস চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন ট্রাম্প।

মারাকেশ ঘোষণায় যা আছে
মারাকেশ ঘোষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সবুজ জলবায়ু তহবিলে রাষ্ট্রগুলোকে ২০২০ সালের মধ্যে এক হাজার কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার আহ্বান। একই সঙ্গে এই শতাব্দীর মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা যাতে আরো ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না বাড়ে, সে জন্য রাষ্ট্রগুলোকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে ঘোষণায়।

প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন হবে কবে
প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরের পর যাতে প্রক্রিয়াগত কারণে তা বাস্তবায়নে দেরি না হয়, সে জন্য ১১০টি দেশ তাতে দ্রুত স্বাক্ষর করে। প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নবিষয়ক সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটির সভা শুরুও হয়েছিল এবারের সম্মেলনে। যদিও কিছুক্ষণ পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বলা হয়েছে, আগামী বছর আলোচনা হবে। পরে বলা হয়েছে, আগামী দুই বছর প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের নীতি ও কাঠামো তৈরিতেই ব্যয় হবে।

ধরে নেওয়া যায়, ২০২০ সালের আগে প্যারিস চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে না। আগামী দুই বছর ১১টি বিষয়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করে রাষ্ট্রগুলো যেসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছবে, সে বিষয়গুলো ধরেই চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।

এবারের সম্মেলনে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্বল্পোন্নত রাষ্ট্র ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো হতাশ। এ পরিস্থিতিতেই মারাকেশ ঘোষণা। এর মধ্য দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক উদ্যোগে আশার আলো জ্বালিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশের অঙ্গীকার
বাংলাদেশ প্যারিসে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে কার্বন নিঃসরণ কমানোর যে অঙ্গীকারনামা (এনডিসি) জমা দিয়েছে, তাতে বলেছে, তারা নিজস্ব অর্থায়নে ৫ শতাংশ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা পেলে আরো ১০ শতাংশ অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ কমাবে। মূলত জ্বালানি, পরিবহন ও শিল্প খাত থেকে ওই কার্বন নিঃসরণ কমানোর কথা বলেছে বাংলাদেশ।

২৩তম সম্মেলন ফিজিতে
২৩তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের জন্য প্রাথমিকভাবে ফিজিকে মনোনীত করা হয়েছে। তবে ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রটিতে এত বড় সম্মেলন আয়োজন কঠিন। তাই জার্মানির বন বা বার্লিন শহরে সম্মেলন করবে বলে জানিয়েছে ফিজি।

তবু আশাবাদ
জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশনের আওতায় সত্যিকার অর্থে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর, দীর্ঘমেয়াদি, সবার অংশগ্রহণমূলক, আইনি বাধ্যবাধকতাযুক্ত সর্বজনীন চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে প্যারিস চুক্তি একটি ঐতিহাসিক শুভ সূচনা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ভিত্তিতেই ধাপে ধাপে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বৈশ্বিক কাঠামো তৈরি হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বিশ্ব সম্প্রদায়।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.