শাখা-সিঁদুর পরে বৌ সাজার আগেই ঝড়ে পড়ল কলেজছাত্রী সুস্মিতা চক্রবর্তীর (২২) স্বপ্ন। ২ ডিসেম্বর তার বিয়ের দিন পাকা করতে শ্বশুরবাড়ির লোক আসবে। আর এজন্য খুশিমনে গত-পরশু শপিংও করে সে।
কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সুস্মিতা চক্রবর্তী। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে খবর আসে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রেললাইনের কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে সে মারা গেছে। গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অনার্স (গণিত বিভাগের) চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী শহরের নগুয়া এলাকার আইনজীবী সহকারী স্বপন চক্রবর্তীর মেয়ে সুস্মিতা চক্রবর্তীর এ রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় শহরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবার ও এলাকাবাসাী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে সুস্মিতা চক্রবর্তী শহরের নগুয়া এলাকার নিজ বাসা থেকে বের হয়ে যান। এর আগে তিনি সেলফোনে তার এক সহপাঠী বান্ধবীকে জানায়, সে আজ প্রাইভেট পড়তে যাবে না। এরপর থেকে তার সঙ্গে সবার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে লোকমুখে খবর আসে যে, যশোদল স্টেশনের অদূরে রেললাইনে এক তরুণী কাটা পড়ে মারা গেছে। পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে সুস্মিতা চক্রবর্তীকে শনাক্ত করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যশোদল স্টেশন এলাকায় সুস্মিতা চক্রবর্তীর লাশ জিআরপি পুলিশ হেফাজতে ছিল। জিআরপি পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
যোগাযোগ করা হলে সুস্মিতা চক্রবর্তীর কাকা চয়ন চক্রবর্তী জানান, ২ ডিসেম্বর সুস্মিতার বিয়ের তারিখ পাকা হওয়ার কথা ছিল। তার সম্মতি নিয়েই তারিখ দেয়া হয়েছিল। এ উপলক্ষে গত-পরশু দিন সুস্মিতা আমার এক ভাগ্নিকে নিয়ে শপিংও করেছে। কিন্তু আজ তার এ ঘটনাকে আমরা কোনো অবস্থাতেই মেনে নিতে পারছি না। তার কোনো প্রেমঘটিত ব্যাপারও আমাদের জানামতে ছিল না। সুস্মিতার এক সহপাঠী জানান, সুম্মিতা আÍহত্যা করার মতো মেয়ে না। ঘরে তার সৎ মা রয়েছে। এ কারণে স্নেহ-ভালোবাসার অভাব কিংবা কোনো ধরনের মানসিক নির্যাতন ও অশান্তির কথাও কোনো দিন আমাদের জানায়নি।


