শনিবার ২৪ জুন ২০১৭
বিশেষ নিউজ

ইউরোপে আওয়ামী লীগ কেন দ্বিধা বিভক্ত?


NEWSWORLDBD.COM - December 2, 2016

ইউরোপে আওয়ামী লীগ কেন দ্বিধা বিভক্তমহিবুল ইজদানী খান ডাবলু, সুইডেন থেকে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আওয়ামী লীগের শাখাগুলো আজ কেন দ্বিধা বিভক্ত? কি কারণে দলের মধ্যে এই অনৈক্যতা? সকলেই তো বড় গলায় বলেন, আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসীl আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাইl আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিl আমরা বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে গড়ে তুলতে চাইl তবে কেন থাকবে এই বিভক্ততা? অনেকে বলেন কয়েকটি কারণের মধ্যে একটি প্রধান কারণ ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগl এই সংগঠনের সভাপতি অনিল দাস গুপ্ত ও সাধারণ সম্পাদক এম এ গনির মধ্যে চলছে অনৈক্যতাl ইতিমধ্যে দুজন দুজনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেনl এম এ গনি অনিল দাস গুপ্তকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেছেনl যতটুকু জানা যায় এই দুইজন নেতা ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন থাকার কারণেই মূলত সমস্যাটা সৃষ্টি হয়েছেl এখন আর তারা কেউ একে অপরকে মানতে রাজি নয়l নিজেদের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে চরম দ্বন্দ্বl সম্প্রতি ঢাকায় হয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দুজনকেই সর্বত্র পৃথকভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে দেখা গেছেl  নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সম্মেলন করতে গিয়ে প্রতিটি দেশেই এখন একের অধিক শাখা হয়েছেl এসকল কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগে নুতন নেতৃত্ব সৃষ্টির  আওয়াজ উঠেছেl

ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগকে এখন ঢেলে সাজানো উচিত বলে দলের অনেকেই মনে করছেনl বাংলাদেশে না করা গেলেও ইউরোপে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক নিয়মে সম্মেলন করা কোনো কঠিন বেপার নয়l প্রতিটি দেশের কমিটি নির্বাচিত হবে সে দেশের সদস্যদের সরাসরি ভোটেl এসকল সদস্যকে দলের বাৎসরিক ফি: অবশ্যই পরিশোধ করতে হবেl এই বাৎসরিক ফি: পরিশোধে প্রতিবৎসর নবায়নের নিয়ম থাকবেl যে দলের সদস্য ফি: পরিশোধ করবে না সে ভোটের অধিকার ও সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার যোগ্যতা হারাবেl এখানে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ কমিটির নেতাদের হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নেইl তবে সম্মেলনে তারা অতিথি হিসেবে সবকিছু তদারকি করার জন্য উপস্থিত থাকতে পারেনl প্রয়োজনে সম্মেলনের সভাপতিত্বও করতে পারেনl কিন্তু এর বেশি কিছু নয়l এভাবেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কমিটিগুলো করতে পারলে তখন দ্বৈত কমিটির কোনো প্রশ্ন আসবে নাl ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ নেতাদের  ক্ষমতাও খর্ব হয়ে যাবেl

ইউরোপে বসবাস করে ইউরোপীয় গণতন্ত্রকে অনুসরণ না করে এখানে চলছে দেশীয় স্টাইলে রাজনীতিl অথচ ইচ্ছা করলেই ইউরোপীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক নিয়মে সম্মেলন করা যায়l তবে এজন্য প্রতিটি দেশে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের একত্রিত হয়ে এগিয়ে আসতে হবেl গণতান্ত্রিক নিয়ম অনুসারে নির্বাচনের পূর্বে সকল সদস্যের ভোটে একটি মনোনয়ন কমিটি নির্বাচিত করা যেতে পারেl এই কমিটি পরবর্তীতে সম্মেলনে তাদের প্রস্তাব উত্থাপিত করলে উপস্থিত সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হবে নুতন কমিটিl নির্বাচিত মনোনয়ন কমিটির রাখা প্রস্তাব সকলকেই যে মানতে হবে তেমন কোনো কথা নয়l এই সময় দলের নেতৃত্বে আসা অন্যান্য নামের পক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সদস্যদের বক্তব্য রাখার সুযোগ থাকবেl তবে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো সমালোচোনা করা যাবে নাl শুধুমাত্র নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে কথা বলার সুযোগ থাকবেl তারপরই অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচনl

তবে এর পূর্বে ভোট গণনার জন্য উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে থেকে ৫ কিংবা ৭ জন ভোট গণনাকারী নির্বাচিত করা যেতে পারেl এদের মধ্যে থেকে একজন হবেন ভোটগণনাকারীদের নেতাl এই বেক্তি ভোট গণনা শেষে নির্বাচিত বেক্তিদের নাম তালিকা সম্মেলনের সভাপতির কাছে হস্তান্তর করবেনl এই নাম তালিকার নিচে সকল গণনাকারীর স্বাক্ষর থাকবেl ফলে পরবর্তীতে ভোট গণনার বিরুদ্ধে কোনো দাবি রাখার সুযোগ থাকবে নাl  এই সময় সম্মেলনে উপস্থিত কর্মীরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নেতৃত্ব নির্বাচিত করবেনl কমিটি এক দুই কিংবা তিন বৎসরের জন্য হতে পারেl কয় বৎসরের জন্য কমিটি নির্বাচিত হবে সে প্রস্তাবের পক্ষেও সভায় সদস্যদের ভোট দেওয়ার নিয়ম থাকবেl সম্মেলনের সভাপতি পরবর্তীতে একে একে নির্বাচিত বেক্তিদের নাম ঘোষণা করবেনl যারা নির্বাচিত বেক্তিদের মানবে না কিংবা সম্মেলন কক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তাদের দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা যেতে পারেl কারণ তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষেl তারা দলের আদর্শের বিরুদ্ধেl তারা একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন ফলাফলের বিপক্ষেl সুতরাং তারা কখনো দলের শুভাকাঙ্খী হতে পারে নাl

প্রশ্ন হলো ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশীরা এই গণতান্ত্রিক নিয়মের বাহিরে যাবেনই বা কেন? একটি গণতান্ত্রিক দেশে বসবাস করে গণতন্ত্রের বাহিরে তারা কাজ  করবেনই বা কেন? ইউরোপের মূল ধারার রাজনীতি দেখা সত্বেও যদি কেউ এখানে বাংলাদেশী স্টাইলে রাজনীতি করতে চায় তাহলে এর চেয়ে বড় অন্যায় আর কি হতে পারেl ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপ ছাড়া বিভিন্ন দেশে সদস্যের সরাসরি ভোটে আওয়ামী লীগের শাখাগুলো গঠন করা হলে বিভক্ততার প্রশ্ন আর আসবে নাl নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে সদস্যদের ভোটে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ নেতাদের উপর নির্ভরশীল হয়ে নয়l এখানে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপের প্রশ্ন আসবেই বা কেন? তবে নির্বাচন অগণতান্ত্রিক অগঠনতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত হলে ইউরোপিয়ান কমিটির নেতাদের অবশ্যই হস্তক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজন মনে করলে তারা কমিটিকে তৎক্ষণাৎ অবৈধ ঘোষণা করার ক্ষমতাও রাখেনl

পর্যবেক্ষক মহলের মতে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের দন্ধের প্রভাব পড়েছে ইউরোপের অন্যান্য দেশেl এজন্য অনেকেই এখন ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগে একটা পরিবর্তন নিয়ে আসা প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেনl ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের গঠন কাঠামোতে গণতন্ত্রের কোনো ছাপ নেইl কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কিংবা বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে তারা সম্ভবত নিযুক্ততাপেয়েছেনl  সুতরাং ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ কমিটি গঠন করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারেl  ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের কমিটি নির্বাচিত করবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরাl কেন্দ্রীয় কমিটি এখানে হস্তক্ষেপ করবে কেন? ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সময় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পাদক এখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেনl  সম্মেলন গণতান্ত্রিক নিয়মে হয়েছে কি না তা তদারকি করার জন্য প্রয়োজনে একের অধিক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারেনl কিন্তু কমিটি নির্বাচিত হবে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের ভোটে অন্য কারো হস্তক্ষেপে নয়l এভাবে গণতান্ত্রিক নিয়মের আওতায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আওয়ামী লীগ সংগঠনগুলোকে নিয়ে আসতে  পারলে  তখন আর কোনো দেশে দলের বিভক্ততা থাকার সুযোগ থাকবে নাl

প্রথমত বিদেশে দলের শাখা রাখা আর না রাখার বেপারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবেl তারা যদি মনে করেন বিদেশে আওয়ামী লীগের শাখা রাখার প্রয়োজন রয়েছে তাহলে এই দায়িত্ব দলের আন্তর্জাতিক সম্পাদকের উপর দেওয়া উচিতl আন্তর্জাতিক সম্পাদক দলের গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্বাচনের মাধ্যমে ইউরোপ আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করবেনl পরবর্তীতে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের নেতারা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দেশে উপস্থিত হয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি নির্বাচিত করবেনl যতটুকু জানা যায় সেনাবাহিনী সমর্থিত ডক্টর ফখরুদ্দিন আহমেদের সরকারের সময় বিদেশে বাংলাদেশী রাজনৈতিক দলের শাখা প্রশাখা খোলার বিষয়ে একটা বিধিনিষেদ আরোপ করা হয়েছিলl বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে এই বিধিনিষেদ এখনো বজায় রয়েছে কি না আমার জানা নেইl শুনেছি আওয়ামী লীগের সম্প্রতি হয়ে যাওয়া সম্মেলনে গঠনতন্ত্রে কিছু কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছেl বিদেশে দলের শাখা খোলার বেপারে গঠনতন্ত্রে নিশ্চই কিছু না কিছু উল্লেখ রয়েছেl সেই মোতাবেক বিদেশে দলের শাখাগুলো গঠন করলে বিভক্ততার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারেl

সুইডেন ডেনমার্ক সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে আওয়ামী লীগের একের অধিক শাখা রয়েছেl দলে গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরিয়ে আনতে হলে এসকল বিভক্ততা থেকে নিজেদের সরে আসতে হবেl আওয়ামী লীগের নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ইতিমধ্যে দেশের ভেতরে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছেনl সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতার এদিক থেকে রয়েছে এক বিরাট অভিজ্ঞতাl কিন্তু তিনি দেশ থেকে বিদেশে দলের শাখাগুলোকে গণতান্ত্রিক নিয়মের আওতায় আনতে কতটুকু সফল হতে পারবেন বলা কঠিনl তবে তিনি চাইলে অবশ্যই পারবেনl এবেপারে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওয়াবায়দুল কাদের সফল না বের্থ তা সময়ই বলে দেবেl দেখা যাক আওয়ামী লীগের নুতন সাধারণ সম্পাদক এখন কি করেনl ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আওয়ামী লীগের সংগঠনগুলোকে তিনি সামলাবেন না বাংলাদেশের জেলায় জেলায় দলকে বিভক্ততা মুক্ত করবেন? কোন পথে হাঁটবেন তিনি?  সবদিকেই রয়েছে সমস্যাl

লেখক: সুইডেনে মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয়

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...







Editor: AHM Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
43/B/1, East Hazipara, Rampura
Dhaka-1219, Bangladesh.