বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরে হিন্দু-হরিজন বসতিতে অগ্নিসংযোগ: আটক ১

dinajpur-hindu-fire-wbব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দু মন্দির ও বসতিতে গণঅগ্নিসংযোগের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে এবার দিনাজপুরে হিন্দুদের বসতিতে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটাল দুর্বৃত্তরা।

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার হরিজন পরিবারের ৭টি বাড়ি ও হিন্দু পরিবারে ৩টি বাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে দৃষ্কৃতীরা।

শুক্রবার রাত ৩টার দিকে সেতাবগঞ্জ পৌরসভা এলাকার মুর্শিদহাট রেল কলোনি হরিজনপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।

এই সময় জুয়েল নামে এক দৃষ্কৃতিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ক্ষতিগ্রস্তরা। আটক জুয়েল (২৩) সেতাবগঞ্জ স্টেশনপাড়া মহল্লার আইয়ুব আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার রাতে রেল কলোনি হরিজন পাড়ায় সকলেই ঘুমিয়ে ছিল। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দৃষ্কৃতিকারীরা হরিজনপাড়ার এক এক করে ৭টি বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আগুনের লেলিহান শিখা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩টি বাড়িতেও আগুন দেয় তারা। পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়ে বলে স্থানীয়রা বলেন। আগুন থেকে বাঁচতে ১০টি পরিবারের ৪৮ নারী-পুরুষ ও শিশু জীবন নিয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে আসে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তার আগেই ১০টি বাড়ির কাপড়-চোপড়, আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

সেতাবগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সামসুল আলম জানান, আগুনে ১০টি বাড়ি পুড়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে জনবসতিপূর্ণ আশপাশের বাড়িগুলো রক্ষা পেয়েছে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, রাতে ঘুমের সময় হঠাৎ আগুন দেখে স্ত্রী আর সন্তানদের দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। শরীরের কাপড় ছাড়া কিছুই রক্ষা করতে পারেননি। একই কথা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জুয়েল বাসফোর, রয়েল বাসফোর, জীবন লাশ বাসফোর, রিয়া বাসফোর, মেয়ালাল, লাকী রানীসহ অন্য হরিজন সম্প্রদায়ের লোকেরা। হরিজন সম্প্রদায়ের লোকেরা জানান, ইতিপূর্বেও জুয়েল নামে এ যুবক তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। বাড়িতে আগুন দেওয়ায় সর্বস্ব হারানোর পর এখন তারা নিরাপত্তহীনতায় ভুগছে।

পাশ্ববর্তী হিন্দু সম্প্রদায়ের বিমল চন্দ্র সূত্রধর জানান, আগুনে তার সর্বস্ব পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে বিমল চন্দ্র সূত্রধর, সন্ধ্যা রানী সূত্রধর  ও রেনুশীলের ৩টি বাড়ি।

স্থানীয় পুরসভার কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, গত দুর্গাপূজায় স্থানীয় জুয়েল নামে এক যুবকের সঙ্গে হরিজন সম্প্রদায়ের বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই জুয়েল হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজনকে হুমকি দিয়ে আসছিল। ক্ষতিগ্রস্তদের বর্ণনা মতে জুয়েলই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান তিনি।

শনিবার সকালে সেতাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুস সবুর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শীলাব্রত কর্মকার, পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি চাল ও ২ বান টিন এবং পরিবারের প্রত্যেককে ১টি করে কম্বল সরকারি সাহায্যে প্রদান করেন। এ ছাড়াও সেতাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুস সবুর ক্ষতিগ্রস্তদের বসতবাড়ি নির্মাণে আনুসঙ্গিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। অপরদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আফসার আলী প্রত্যেক পরিবারের মাঝে ২৫ কেজি করে চাল ও থালা-বাসন সরবরাহ করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আসলাম প্রত্যেক পরিবারের মাঝে নগদ ১ হাজার করে ১০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন।

হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টায় হামলা:
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ব্রাহ্মণরাকদিয়া গ্রামে জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একটি হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল প্রকাশ্য দিবালোকে শনিবার সকাল ১০ টার দিকে এ হামলা করেছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ব্রাহ্মণরাকদিয়া গ্রামের সুভাষ চন্দ্র দে নামের এক ব্যাক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী তপতী দে অন্যত্র চলে যান। যাওয়ার আগে তিনি তার স্বামী মৃতঃ সুভাষ চন্দ্র দে’র ভাগনী পারুল হালদারকে উক্ত বাড়ী দেখাশুনা করার জন্য রেখে যান। এরপর পারুল হালদার তার স্বামী ও সন্তান নিয়ে ওই বাড়ীতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। এঅবস্থায় পাশ্ববর্তী একটি প্রভাবশালী মহল উক্ত বাড়িটি ক্রয় করেছে দাবি করে হামলা চালায়।

আরও পড়ুন