গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের জমি থেকে সাঁওতালদেরকে উচ্ছেদের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও উপজেলার চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ হাত আছে বলে অভিযোগ করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। তারা জানায়, সাঁওতালদের উচ্ছেদ করা হলেও চিনিকলের ওই এলাকায় জায়গায় সংসদ সদস্যের ১৫টি পুকুর রয়েছে।
দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করে নির্মূল কমিটি।
গত ৬ নভেম্বর ওই জমি থেকে সাঁওতালদের শতাধিক বাড়িঘর উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় তাদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। অভিযানে মৃত্যুও হয় তিন জনের।
এই ঘটনার তদন্তে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শামসুল হুদার নের্তৃত্বে একটি দল পাঠায় নির্মূল কমিটি। কমিটির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে গণশুনানিও করে তারা। এই অভিজ্ঞতাই সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।
বিচারপতি শামসুল হুদা বলেন, ‘গোবিন্দগঞ্জের হামলায় এমপি ও চেয়ারম্যানের জড়িত থাকার বিষয়টি মদদ ছিল স্পষ্ট।’ তিনি বলেন, ‘চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে আখ চাষ না হলে সে জমির মালিকদের ফেরত দিতে হবে। কিন্তু দেওয়া হচ্ছে না।’
বিরোধপূর্ণ জমিতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সমালোচনা করে শামসুল হুদা বলেন, ‘এটা কি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়ার বর্ডার যে তারকাটা দিয়ে বেড়া দিতে হবে। এটা মানবাধিকারের চরম লংঘন।’
চিনিকলের জায়গায় সাঁওতালদের উচ্ছেদের পর স্থানীয় সংসদ সদস্যের ১৫টি পুকুর থাকার ঘটনাটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শামসুল হুদা। বলেন, প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবিরও। তিনি বলেন, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিচার হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জামায়াত মনোভাবে কর্মকর্তাদের কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপদেষ্টা বিচারপতি সৈয়দ আমীর উল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য আরমা দত্ত, কলামিস্ট মাহবুবুর রশিদ, লেখক আলী আকবর।


