English
মঙ্গলবার ২৫ এপ্রিল ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » top1 » পর্নোগ্রাফিও বিনোদনের একটা মাধ্যম, তবে এখনও পুরুষতান্ত্রিক
বিশেষ নিউজ

পর্নোগ্রাফিও বিনোদনের একটা মাধ্যম, তবে এখনও পুরুষতান্ত্রিক


নিউজওয়ার্ল্ডবিডি.কম - ১৪.১২.২০১৬

পর্নোগ্রাফিও বিনোদনের একটা মাধ্যম, তবে এখনও প্রচণ্ড পুরুষতান্ত্রিকশামীমা মিতু

ঘুমাতে যাবার আগে ঠোঁটে লাল লিপস্টিক লাগাতে বলতো মেয়েটির স্বামী। অস্বস্তি লাগলেও স্বামী আদর সোহাগে ভরিয়ে রাখতো বলে মেয়েটিও খুব যত্ন করে লিপস্টিক পরতো।

প্রেম-ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও এমন অনেক বিষয় তাদের একান্ত ব্যক্তিগত জীবনে এসেছিল যা কীনা একপর্যায়ে সম্পর্কের ইতি টানতে বাধ্য করে মেয়েটিকে। সবকিছু খুলে বলতে না পারার কারণে মেয়েটিকে সবাই দায়ী করেছিল সুন্দর একটা সম্পর্ক ভাঙ্গার কারণে। কাছের কয়েকজন বন্ধুকে মেয়েটি শুধু জানিয়েছিল, প্রচণ্ড সুখের সেক্স শেষে স্বামীটি বীর্য ঢালতে চাইতো মেয়েটির মুখে!

একটা পক্ষ পর্নোগ্রাফি দেখাকে হারাম, নাপাক বলে মনে করে, আরেকটা পক্ষ এটা দেখা এবং তা গর্ব করে প্রকাশ করাকে প্রগতিশীলতা বলে মনে করে। আমি দুই পক্ষেরই বিরোধিতা করি। যৌন শিক্ষা কিংবা যৌন নৈতিকতা কোনোটারই ভিত্তি হতে পারে না পর্নোগ্রাফি। আর সকল বিনোদনের মতো এটাও একটা মাধ্যম। তবে এই বিনোদন মাধ্যমের কিছু ভয়াবহ দিক আছে।

প্রথমে উল্লেখিত স্বামীটির সেক্স সম্পর্কে ধারণা, শিক্ষা সবকিছুর ভিত্তিই পর্নোগ্রাফি ছিল। তাই বাস্তব জীবনে কেউ লিপস্টিক পরে ঘুমানো পছন্দ না করলেও, স্বামীটি স্ত্রীর লাল লিপস্টিকে উত্তেজনাবোধ করতো। লিপস্টিক হয়তো সাধারণ ঘটনা, কিন্তু কোনো ছেলে যখন মানস পটে সাজিয়ে নেয় কাপড় খুললে সব মেয়ের শরীরই পর্নোগ্রাফির মেয়েদের মতো সুন্দর, ক্লিন, পরিপাটি, তার পক্ষে বাস্তব জীবনের কম সুন্দর শরীরের সাথে মানিয়ে নেয়া অস্বস্তিকর।

আসলে পর্নোগ্রাফির মেয়েরা শরীরের প্রতিটা অংশে মেকাপ নিয়ে ক্যামেরার সামনে আসে, যা স্ত্রী বা প্রেমিকারা করে না।

বাস্তব জীবনে কোনো মেয়ে পর্নোগ্রাফির মেয়েদের মতো সেক্সে পারদর্শী নাও হতে পারে। বাস্তব জীবনে এমন অনেক মেয়ে আছে, যারা প্রতিবার সেক্সের পর প্রচণ্ড ব্যাথায় কাতরায়। যৌনাংগ মুখে প্রবেশ করাতে অস্বস্তিবোধ করে। অনেক মেয়েও পর্নোগ্রাফি দেখতে দেখতে শেখে আমাকেও এভাবে পারফর্ম করতে হবে। আসলে সেক্স কোনো পারফরমেন্স নয়, এটা স্বাভাবিক ও সুন্দর একটা ক্রিয়া।

মনোবিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, পর্নোগ্রাফি আসক্তি কিংবা নিয়মিত দেখার প্রভাব মারাত্মক। তারা বলেন, এতে মানুষের প্রতি, বিশেষ করে মেয়েদের প্রতি শ্রদ্ধা লোপ পায়। পর্ন ইন্ডাস্ট্রির টার্গেট কনজিউমার এখনো পুরুষ।

একটা মেয়ে দুই-তিনটা ছেলের সাথে একসাথেই সেক্স করতে পারে, এটা দেখতে অভ্যস্তরাই গণ ধর্ষনে আগ্রহী হয়। পুরুষের যৌনাংগের আকার যত বড়ই হোক তা সব মেয়ের জন্যই সুখকর, পর্নোগ্রাফিতে এমনটা দেখতে অভ্যস্ত ছেলেরা ভুলে যায়, অনেক মেয়ের দুর্বিষহ সেক্সের অভিজ্ঞতাও হয়, সেক্সের প্রতি ভীতি জন্মায় শুধুমাত্র এই আকারের কারণেই।

বিবাহিত পুরুষেরাও স্ত্রীকে সাথে নিয়ে অনেক সময় পর্নোগ্রাফি দেখেন, কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি অন্যের শরীর আর যৌনক্রিয়া দেখে উত্তেজিত হওয়াটা কতোটা অরুচিকর!

অনেক মেয়েও পর্নোগ্রাফি দেখে, কিন্তু কতজনের ভালো লাগে জানি না, কারণ পর্নোগ্রাফিটা এখনো প্রচণ্ড পুরুষতান্ত্রিক। সেটা প্রাচ্য হোক কিংবা পাশ্চাত্যের। এখনো পর্নোগ্রাফি নারীর চরিত্র নির্মাণ করে বেশ্যা রূপে কিংবা দাসী রূপে।
শামীমা মিতু: সাংবাদিক ও ব্লগার

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...







Editor: AHM Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
43/B/1, East Hazipara, Rampura
Dhaka-1219, Bangladesh.