English
মঙ্গলবার ২৪ জানুয়ারী ২০১৭
বিশেষ নিউজ

অস্ত্র কেনার জন্য বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব মোদির


নিউজওয়ার্ল্ডবিডি.কম - ০৬.০১.২০১৭

modi41প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর উপলক্ষ্যে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি; যার পুরোটা দিয়ে ভারত থেকেই ‘সমরাস্ত্র’ কিনতে হবে, অন্য কাজে এই টাকা ব্যয় করা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর পিছিয়ে যাওয়ার পর নয়াদিল্লির সাউথ ব্লক থেকে গেল সপ্তাহে এই প্রস্তাব ঢাকায় বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়।

সরকারের সূত্রের খবর, তারা মোদি সরকারের এই প্রস্তাব ‘খতিয়ে’ দেখছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরেই চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আগামী ফেব্রুয়ারিতেই শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত নয়াদিল্লি সফর হতে পারে বলে জানায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

সূত্র আরও জানায়, শেখ হাসিনার এবারের ভারত সফরকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক ৩০টি চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই স্মারকের অধীনে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে প্রশিক্ষণ, সফর বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া, সমুদ্রসম্পদ সুরক্ষায় সহযোগিতা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের সফরকালেও তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সই হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তবে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পে ভারতের সহযোগিতা নিয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ভারতের পক্ষ থেকে একটি কারিগরি দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করে গঙ্গা ব্যারাজের ব্যাপারে তাদের পর্যবেক্ষণ জানাবে। এছাড়া বাণিজ্য, অর্থনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, কানেকটিভিটিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি সই করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৮ ডিসেম্বর ভারত সফরে যাবেন বলে প্রাথমিকভাবে তারিখ নির্ধারণ হয়েছিল। কিন্তু মোদির সূচির সঙ্গে শেখ হাসিনার সফরসূচি না মেলায় কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সফরটি স্থগিত করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে ভারতের পার্লামেন্টে বাজেট অধিবেশন চলবে। ফলে এই সময়ে মোদির ব্যস্ততা থাকতে পারে বলে ঢাকার কিছুটা সংশয় ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে দিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতেই ভারত শেখ হাসিনার সফর আয়োজন করতে চায়। সেই মোতাবেক মোদি সময় দিতে পারবেন বলে জানানো হয়। ফলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সফরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে যেসব চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে আছে ‘ট্রেডিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ’ (টিসিবি) এবং ভারতের ‘স্টেট ট্রেডিং কর্পোরেশন’র (এসটিসি)র মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি, আরও নতুন স্থানে সীমান্ত হাট চালু নিয়ে চুক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, ভারত থেকে বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ৫০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি, দুই দেশের কোস্টগার্ডের মধ্যে সহযোগিতার স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), উপকূলীয় ও নৌ প্রটোকল রুটে যাত্রী ও ক্রুস জাহাজ চলাচল চুক্তি, দুই দেশের আইন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি, বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্ট ও ভারতের জুডিশিয়াল ট্রেনিং একাডেমির মধ্যে চুক্তি প্রভৃতি।

চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ভারত ব্যবহার করতে পারবে মর্মে চুক্তি আগেই হয়েছে। এখন এই দুটি সমুদ্রবন্দর কীভাবে ব্যবহার করা যায় তার বিষয়ে বিস্তারিক কর্মপরিধি (এসওপি) সই করার প্রস্তাব ভারত করেছে। তবে বাংলাদেশ মনে করে, চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হওয়া প্রয়োজন। এসব নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। আলোচনায় উভয়পক্ষ একমত হলে হাসিনার সফরে এই বিষয়েও চুক্তি সই হতে পারে। এছাড়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ভারতের ঋণের ব্যাপারে বেশ কিছু চুক্তি সই করার কাজ করছে। ভারত দুই দফায় বাংলাদেশকে দু’শ কোটি ডলারের ঋণ দেয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছে। এখন এসব ঋণের প্রকল্প কোনোটা বাস্তবায়ন হয়ে গেছে। কোনো কোনো প্রকল্প চলছে। আবার কোনো কোনো প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের যে ১৭০০ সেনা আত্মাহুতি দিয়েছেন, তাদের মরণোত্তর সম্মাননা জানানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ভারত সফরকালে তেমন ৬-৭টি নিহত সৈন্যের পরিবারকে আনুষ্ঠানিক সম্মাননা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর থেকে সেই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময়ে সব পরিবারকেই সম্মাননা জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের জানুয়ারিতে নয়াদিল্লি সফর করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক দূর করে সুসম্পর্কের সূচনা করেন। ওই সময়ে ৫০ দফার যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। তারপর ২০১১ সালে ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফর করে আরও চুক্তি সই করেন। ওই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি চূড়ান্ত হয়েও তা সই হয়নি। মমতা ব্যানার্জি এখন তিস্তার ব্যাপারে তার আপত্তি দিয়ে রেখেছেন। ২০১৫ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করলে দুই দেশের মধ্যে ২২টি চুক্তি সই হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের পর আর দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাননি। তবে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিও স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জির মৃত্যুর পর শ্রদ্ধা জানাতে দিল্লি গিয়েছিলেন। এছাড়া ব্রিকস-বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে গোয়ায় সফর করেছিলেন।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...







Editor: AHM Anwarul Karim

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
43/B/1, East Hazipara, Rampura
Dhaka-1219, Bangladesh.