শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭
বিশেষ নিউজ

নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বাধা


NEWSWORLDBD.COM - January 6, 2017

৫ই জানুয়ারি দশম জাতীয় নির্বাচনের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সারা দেশে পুলিশি  বাধার মুখেও কালো পতাকা মিছিল করেছে বিএনপি। বরিশালে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলায় আহত হয়েছেন বিএনপির অন্তত ১৫ নেতাকর্মী। নওগাঁয় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে ১০জন আহত হয়। এ সময় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক ও যুবদল সভাপতি বায়েজিদ হাসানসহ ১২জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল আহ্বায়ক ও নাসিক কমিশনার মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের নেতৃত্বে মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং খোরশেদসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়াও  সরকার দলীয় লোকজনের হামলা ও পুলিশি বাধার কারণে সিলেট, মানিকগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, বরগুনা, ঘাটাইলসহ অনেক জায়গায় পণ্ড হয়েছে এ কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি। রাজধানীতে কালোপতাকা মিছিল কর্মসূচি না থাকলেও নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত দলটির কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় প্রজন্ম লীগ। এ ছাড়াও ৫ই জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বুধবার রাত থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি ও অঙ্গদলের বহু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা উপলক্ষে বকশীবাজারে সমবেত ছাত্রদল কর্মীরা ফেরার সময়  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

ছবি: বরিশালে হামলায় আহত বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম রোজি

কালো পতাকা মিছিল ও নয়া পল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকার বিএনপিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, আগ থেকেই আওয়ামী লীগ হুমকি দিয়েছিল বিএনপিকে মাঠে নামতে দেয়া হবে না। গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বের হওয়া বিএনপির কালো পতাকা মিছিল বানচাল করা হয়েছে। একদিকে পুলিশ, অন্যদিকে সরকারদলীয় বাহিনী দিয়ে কর্মসূচিতে বাধা দেয়ায় প্রমাণিত হয় অনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশকে অনিশ্চিত, অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এসব আওয়ামী লীগের উসকানি। তারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির মাধ্যমে বিএনপিকে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ফেলতে চায়।

ওদিকে একতরফা দশম নির্বাচনের তৃতীয় বার্ষিকীর দিনে বৃহস্পতিবার জিয়া চ্যারিটেবল ও অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেখান থেকেই এক টুইট বার্তায় তিনি দেশবাসীকে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার শপথ নেয়ার আহ্বান জানান। টুইটে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার হরণের দিন ৫ই জানুয়ারিতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার শপথ নিন।’ এদিকে আগামীকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি উপলক্ষে আজ যৌথসভা ডেকেছে ঢাকা মহানগর বিএনপি। বিকালে নয়া পল্টন মহানগর কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে যৌথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য ও সকল থানার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবরা অংশ নেবেন।

বরিশালে আওয়ামী লীগের হামলায় বিএনপির ১৫ নেতাকর্মী আহত
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, বরিশালে বিএনপির ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েক দফা হামলায় সংবাদকর্মীসহ অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। সমাবেশের প্রস্তুতিকালে ও দলীয় কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর হামলার ঘটনা ঘটে। তবে বিএনপির মহানগরের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিবদারের দাবি, এ হামলার তাদের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছে। হামলার ভিডিওচিত্র ধারণের সময় চ্যানেল আইয়ের ক্যামেরাপার্সন আরিফকে বেধড়ক পিটুনি দেয় পুলিশ। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে একটি বোতল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দিকে ছুড়ে মারা হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের উত্তেজিত নেতাকর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে গেলে দুইপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহিন জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের প্রস্তুতিকালে ছাত্র ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় তাদের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি তার। মহানগর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন জানান, সদর রোড অশ্বিনী কুমার হলের পাশে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সামনে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়। পূর্ব থেকে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেয়া পুলিশ তাদের ঘিরে রাখে। একই সময়ে সদর রোডে অবস্থান নেয়া শ্রমিক লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যুব ও ছাত্রলীগ যোগ দেয়। তারা একত্রিত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে।

পরে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেয়া বিএনপির দক্ষিণ জেলা সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়া সিকদারসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা মহানগরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে বের হন। তারা নগরীর সদর রোডের অনামী লেনের কাছে পৌঁছলে লাঠিসোটা নিয়ে পিছন থেকে হামলা করা হয়। পুলিশ দলীয় নেতাকর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে লাঠিপেটা করেছে। ছাত্র ও যুবলীগ ক্যাডারদের হামলা ও পুলিশি লাঠিপেটায় বিএনপির দক্ষিণ জেলা সভাপতি এবায়দুল হক চান, আবুল কালাম শাহীন, কামরুন্নাহার রোজী, সংরক্ষিত কাউন্সিলর তসলিমা কালাম পলি, মামুন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি নেত্রী সেলিনা রহমান, আজাদ সিকদার, আসাদুজ্জামান মারুফ, জয়নব বেগম, বাবুসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়। এদিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিএনপি নেত্রী কামরুন্নাহার রোজীর ওপর হামলা চালানোর ভিডিওচিত্র ধারণের সময় চ্যানেল আই’র ক্যামেরাপার্সন আরিফকে পুলিশ লাঠিপেটা করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় পত্রিকার সংবাদকর্মী নাদিম মাহমুদ, সুমনকে মারধর করা হয়। আহতদের বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিলেটে পুলিশের বাধায় বিএনপির মিছিল পণ্ড
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে জানান, সিলেটে পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে বিএনপির কালো পতাকা মিছিল। তবে- বাধার কারণে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন সিলেট নগরীর কয়েকটি স্থানে ঝটিকা মিছিল করেছে। পুলিশ আসার আগেই এসব কর্মসূচি পালন করে তারা চলে যায়। ৫ই জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি এ কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচির আয়োজন করেছিল। তবে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা। এ সময় মিছিল করতে না পেরে আম্বরখানার দিকে চলে যান নেতাকর্মীরা। সেখানে গিয়ে পুনরায় মিছিলের চেষ্টা করলেও আবারো পুলিশের বাধায় পড়েন। ফলে মিছিল না করেই ছত্রভঙ্গ হয়ে ফিরে যান তারা। সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহমদ জানিয়েছেন, প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় তাদের কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হয়নি। এদিকে, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গতকাল সকাল থেকে নগরীর আম্বরখানা-চৌহাট্টা-জিন্দাবাজারসহ নগরীর মোড়গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

নারায়ণগঞ্জে যুবদলের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ১০, আটক ৪
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, ৫ই জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের বের হওয়া মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। মিছিল থেকে আটক করা হয়েছে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রানা মুজিব, যুবদল নেতা আলামিন খান ও বাদশা মিয়া। এদিকে সকাল থেকে পুলিশ শহরের ডিআইটিতে অবস্থিত বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল সোয়া ৩টায় শহরের মণ্ডলপাড়া পুল এলাকা থেকে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও নাসিক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকাতে  জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে আসার পথে গুলশান হলের সামনে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে যুবদল নেতা জুলহাস, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুর রহমান রশুসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। একই সময়ে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের নিচে নেতাকর্মীরা জড়ো হলে সেখানে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মুছা। আটককৃতদের মধ্যে যুবদল নেতা খোরশেদ নাসিকের ১৩ নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর কাছে শপথ নিয়েছেন।

নওগাঁয় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, ১০ জন আহত, উপজেলা চেয়ারম্যান আটক
নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁয় গণতন্ত্র হত্যা দিবস স্লোগান নিয়ে বের করা বিএনপির র‌্যালিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এতে পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ এ সময় নওগাঁ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক, যুবদল সভাপতি বায়োজিত হাসান পলাশসহ ১২ জন নেতাকর্মীকে আটক করে। দুপুর পৌনে ১টার দিকে শহরের মুক্তির মোড়ে এ ঘটনা ঘটে ।
নওগাঁ পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বিপিএম পিপিএম জানান, গণতন্ত্র রক্ষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের বের করা মিছিলে মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করলে শহরের মুক্তির মোড়ে বিএনপির মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় মিছিল পুলিশের বাধা উপেক্ষা করার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ৪ পুলিশসহ কয়েকজন আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক নান্নুসহ ১২ জনকে আটক করে। পরে উপজেলা চেয়ারম্যানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক জানান, জেলা কেডির মোড় থেকে র‌্যালি বের করে শহর যাওয়ার পথে মুক্তির মোড়ে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলশ। এতে তিনিসহ বিএনপির ১০ জন আহত হন।

ঘাটাইলে বিএনপির মিছিলে পুলিশের বাধা
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পুলিশের বাধায় কালো পতাকা মিছিল করতে পারেনি বিএনপি। ৫ই জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঘাটাইল উপজেলা বিএনপি এ কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচির আয়োজন করেছিল। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় তারা মিছিল করতে না পেরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ.খ.ম. রেজাউল করিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল হক, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক হেলালুর রহমান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শামিম খান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম সরকার, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ সিদ্দিকীসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলে নেতৃবৃন্দ।

বরগুনায় অবরুদ্ধ বিএনপি
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, ৫ই জানুয়ারি বরগুনায় বিএনপির গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনের কর্মসূচি থাকলেও পুলিশের বাধার কারণে নেতাকর্মীরা দলীয় কর্যালয় থেকে বের হতে পারেনি। সকাল থেকেই বিপুল সংখক পুলিশ বিএনপি অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে দিবসটি পালন করে থাকে দলটি।

মানিকগঞ্জে বিএনপির কর্মসূচি পণ্ড
স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ থেকে জানান, পুলিশি বাধায় মানিকগঞ্জে বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করতে পারেনি। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ই জানুয়ারিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস আখ্যা দিয়ে গতকাল দুপুরে জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ আইনজীবী চত্বর থেকে মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেয়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিছিলে বাধা দেয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়ন সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মোখসেদুর রহমান, সহ-সভাপতি আবদুল বাতেন, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান ভুঁইয়া ফরিদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আরিফ হোসেন লিটনসহ বিএনপি ও  অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুল বাতেন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগ শহরে মিছিল করলো এবং কোর্ট চত্বরে সমাবেশও করলো। আমাদের এই কর্মসূচিতে পুলিশের বাধাই বলে দেয় দেশে গণতন্ত্র নেই।

জয়পুরহাটে বিএনপির বিক্ষোভ, মিছিলে পুলিশের বাধা, ফাঁকা গুলি
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, ৫ই জানুয়ারি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জয়পুরহাটে পুলিশি বাধার মুখে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ই জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন উপলক্ষে শহরে জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে রেলগেট পার হয়ে ছানাঘরের কাছে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় বাধা উপেক্ষা করে মিছিল করতে চাইলে পুলিশ ১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায় এবং মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিক্ষোভ মিছিল ঘুরে এসে জেলা অফিসে অবস্থান নেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। সেখানে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি মোজাহার আলী প্রধান, সিনিয়র সহসভাপতি সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বগুড়ায় বাধা
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, ৫ই জানুয়ারি বগুড়ায় ‘দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষা দিবসে’ আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রা হলেও বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসে’ পুলিশি বাধায় আটকে ছিল জেলা কার্যালয়ে। ৫ই জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়া বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে নবাববাড়ী রোডে দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা। পুলিশ আগে থেকেই কার্যালয়ের দুই পাশের রাস্তায় কাঁটাতারের বেড়িকেডে আটকে দেয়। নেতাকর্মীরা ওই বেড়িকেড পার হয়ে কার্যালয়ের সামনে আসতে পারলেও শেষ পর্যন্ত মিছিল বের করতে পারেননি। পরে কার্যালয়ের সামনেই বসে পড়েন নেতাকর্মীরা। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয় সেখানেই। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শোক রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস, শ্রমিকদল নেতা আব্দুল ওয়াদুদ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাহ মেহেদী হাসান প্রমুখ।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Chief Editor & Publisher: A. K. RAJU

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: 9635272, 01787506342

©Titir Media Ltd.
39, Mymensingh Lane (2nd Floor), Banglamotor
Dhaka, Bangladesh.